অথঃ মেঘনা ও মোস্তফা নামা। রাষ্ট্র ও আইন কবে সক্রিয় হবে? পার্ট- ১

৮০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক–সিআইডির অনুসন্ধানের ফল কোথায়?

শেখনিউজ রিপোর্টঃ  প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক দল গঠন করেছে। বিমার লেনদেন, আমদানি মূল্য কম দেখানো এবং রাজস্বসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদক–সিআইডির অনুসন্ধানের সংবাদও রয়েছে। কিন্তু এসব অনুসন্ধান কোথায় পৌঁছেছে, কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পৃথক মামলা হয়েছে কি না—পর্যালোচিত প্রকাশ্য সূত্রে তার স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

মেঘনা গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে ঘিরে এত বড় অঙ্কের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাজের হিসাব প্রয়োজন। অনুসন্ধান চলছে—এই বক্তব্যের সঙ্গে কী কাজ হয়েছে, কী বাকি এবং সিদ্ধান্ত নিতে কোথায় সময় লাগছে, সেটিও জানাতে হবে।

দল গঠনের পর প্রায় দেড় বছর

৮ এপ্রিল ২০২৫ দুদক তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করে। উপপরিচালক আহসানুল কবির পলাশকে দলনেতা করা হয়। সদস্য হন আব্দুল মালেক ও নিজাম উদ্দিন। নির্দেশনায় অভিযোগ অনুসন্ধান করে রেকর্ডপত্রসহ সুনির্দিষ্ট মতামত ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছিল।

সেই নির্দেশনার পর প্রায় দেড় বছর পেরিয়েছে। পর্যালোচিত প্রকাশ্য সূত্রে এই অভিযোগের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন, পৃথক মামলা বা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

দলটি প্রতিবেদন দিয়েছে কি? দিলে কমিশনের সিদ্ধান্ত কোথায়? না দিলে দেরির কারণ কী? আমদানির নথি, এলসি, শুল্কায়নের হিসাব ও ব্যাংক লেনদেন পরীক্ষা কতদূর হয়েছে? মামলা করার সিদ্ধান্ত বাকি থাকলে কোন কাজটি অসম্পূর্ণ?

বিমা ও রাজস্বের অভিযোগে ব্যবস্থা কী?

৯ অক্টোবর ২০২৪ প্রকাশিত প্রতিবেদনে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে ২০০০–২০২০ সময়ে প্রায় ৭৯,৭৬২ কোটি টাকার আন্ডার ইনভয়েসিং, বিমা ব্যবস্থায় প্রায় ১,৫১৯ কোটি টাকার অনিয়ম এবং ভ্যাট, স্ট্যাম্প শুল্ক ও ব্যাংক কমিশনে এক হাজার কোটি টাকার বেশি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একই প্রতিবেদনে দুদক ও সিআইডির অনুসন্ধানের কথা বলা হয়। এগুলো অভিযোগে উল্লিখিত অঙ্ক।

মেঘনা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিমা দাবি, প্রিমিয়াম, ফেরত বা বাতিল করা পলিসি এবং ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের সুপারিশও ছিল বলে সংবাদটি জানায়।

যাচাইয়ের ক্ষেত্র চিহ্নিত থাকার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত কোথায়? এনবিআর কত টাকা রাজস্ব দাবি করেছে? বিমার লেনদেন পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে? সিআইডি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে? সংস্থাগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও তথ্য আদানপ্রদান কীভাবে হয়েছে?

গুঁড়োদুধের অনুসন্ধানের পরিণতি কী?

২০১৪ সালের অক্টোবরে গুঁড়োদুধ আমদানিতে মূল্য কম দেখিয়ে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তানভীর ফুডসসহ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ওই অনুসন্ধানের আওতায় ছিল।

২০১৯ সালের সংবাদেও ওই অনুসন্ধান এবং অতিরিক্ত নথি চাওয়ার কথা আসে। কিন্তু পর্যালোচিত সূত্রে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় ১২ বছর আগের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থান কী? সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। সিদ্ধান্ত না হলে এত সময় লাগার ব্যাখ্যা দেওয়া হোক। কোন শাখার কাছে নথি রয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দায়িত্ব কার—তাও জানানো প্রয়োজন।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার পর কী পাওয়া গেছে?

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল ২০২৫ বিএফআইইউ মোস্তফা কামাল, তাঁর স্ত্রী বিউটি আক্তার ও সন্তানদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের লেনদেন প্রথমে ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে লেনদেনের বিবরণ, হিসাব খোলার নথি ও কেওয়াইসি চাওয়া হয়।

হিসাব বিশ্লেষণের ফল কী? স্থগিতাদেশ পরে বাড়ানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল কি? সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসন্ধানকারী সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে কি? পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিবরণ কোথায়?

অভিযোগের অঙ্ক বারবার সংবাদে আসছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের হিসাবও সামনে আসতে হবে। দুদক, সিআইডি, এনবিআর ও বিএফআইইউ সেই হিসাব কবে দেবে?  (চলবে)

 

আরো পড়ুনঃ