জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবিতে অব্যাহত উত্তাল দিল্লি: দ্বিতীয় দিনেও আটক বিক্ষোভকারীরা

শেখনিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত তাদের আটক করে। জंतर মন্তর, কনট প্লেস ও রাজীব চক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী ও সংখ্যালঘু ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবারের অভিযানে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

রোববারও দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। আর কে আশ্রম মার্গ এলাকায় ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি শুরুর চেষ্টা হলে বিপুল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে তা কার্যত থামিয়ে দেওয়া হয়। কনট প্লেস ও রাজীব চক থেকে জंतर মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে।

গত কয়েকদিনে এই ইস্যুতে ভারতের বিরোধী রাজনীতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বিরোধী জোটের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এর আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তার দায় নিতে হবে।

দিল্লি পুলিশ অবশ্য বলছে, অনুমতি ছাড়া মিছিল ও সমাবেশ ঠেকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর রয়েছে।

অন্যদিকে সিজেপি বলছে, আটক বা পুলিশি বাধা দিয়ে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে বলেছে, মৃত, স্থানান্তরিত, অযোগ্য বা শনাক্ত করা যায়নি এমন নাম বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। বিরোধীরা অবশ্য বলছে, বিষয়টি এখন কেবল ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশ্ন নয়; বরং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

চাইলে এটিকে আমি শেখনিউজের জন্য আরও ধারালো রাজনৈতিক শিরোনাম ও শক্তিশালী লিডসহ সম্পাদনা করতে পারি, যেমন: “জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লি অচল, আটকেও থামছে না বিক্ষোভ”।

আরো পড়ুনঃ