চলে গলেনে আমরি খসরু, শোকস্তব্ধ সাংবাদকিতা অঙ্গ
শেখনিউজ ডেস্ক: দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গন হারাল এক পরিচিত মুখ। সিনিয়র সাংবাদিক, কলাম লেখক এবং ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি আমির খসরু আর নেই। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
কয়েক দিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন আমির খসরু। লিভার সিরোসিসসহ একাধিক জটিলতা নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ৩ অক্টোবর তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আমির খসরু সংবাদপত্র, আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম এবং কলাম লেখার জগতে সক্রিয় ছিলেন। সাপ্তাহিক বুধবার-এ নির্বাহী সম্পাদক, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাদেশ সংবাদদাতা এবং দৈনিক ইত্তেফাক-এর কূটনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, গণতন্ত্র এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিকে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমির খসরুর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় আমির খসরুর দীর্ঘদিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে তিনি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাঁর লেখনী গণতন্ত্র, সত্য ও যুক্তির পক্ষে ছিল।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও আমির খসরুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, আমির খসরু সবসময় গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গণমাধ্যম অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আমির খসরুর মৃত্যুতে মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীও শোক জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুকালে আমির খসরু স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। রোববার বাদ জোহর রাজধানীর লালমাটিয়া জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আমির খসরুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এক সাংবাদিক কণ্ঠের অবসান। তাঁর সহকর্মী ও পাঠকদের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর পেশাগত উপস্থিতি, বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের কাজের জন্য।