নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই: তারেক রহমান
শেখনিউজ রিপোর্টঃ নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টিতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হবে এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি। বিএনপি জন্মলগ্ন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। নতুন রাজনৈতিক দল হওয়ার বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্বচ্ছ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই বিপ্লবে নিহত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের সময়কালে যারা গুম, খুন হয়েছেন ও জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না, তবে সতর্ক থাকুন। নিজেরা এমন কোনো কাজে লিপ্ত হবেন না যাতে কেউ অপপ্রচার করার সুযোগ পায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে সংস্কার নাকি নির্বাচন এমন বক্তব্য মানুষ পছন্দ করে না। বরং বিএনপি মনে করে রাষ্ট্র রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য সংস্কার ও নির্বাচন উভয় প্রয়োজন। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ঠিক করতে সংস্কার একটি অনিবার্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপি মনে করে রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্র মানবাধিকার বা পুঁথিগত কোনো সংস্কার টেকসই হয় না।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক মুক্তিকামী জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা ধৈর্য হারাবেন না। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবে এমন বিশ্বাস রাখুন।
তিনি বলেন, জনগণ কোন রাজনৈতিক দল সমর্থন করবে নাকি বর্জন করবে সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে রায় দেবে জনগণ। জনগণের আদালতের রায় নিয়ে যারা ভয় পায় বা যাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে তারা নির্বাচনের কথা শুনলে নানা রকম বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত ২০০৯ সাল থেকে ভোটার তালিকায় সাড়ে তিন কোটি ভোটার যুক্ত হয়েছে। তারা ভোটার হলেও কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তারা পছন্দমত তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি, এখন তরুণরা ভোট দিতে চায়।
বক্তব্যের শেষে তারেক রহমান নতুন বছরের শুরুতে ছাত্র-জনতাকে শুভেচ্ছা জানান ও ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীকে ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর জুলাই বিপ্লবের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে সমস্যা সমাধানে সংস্কার করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। দেশে এখন যে সংকট শুরু হয়েছে তার সমাধানের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।
ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, দলটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীরা।
এর আগে সকালে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।