সাঈদ তারেকঃ না, কাজটা ঠিক হয় নাই। আওয়ামী লীগ এই এাডভাঞ্চিরজমটা না করলেই ভাল করতো। যদি শেখ হাসিনা নিজে এই হেনস্থার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হয় নাই। প্রফেসর ইউনুস শুধু নোবেল লরিয়েটই নন বিশ্বে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে তার ভুল ত্রুটি আছে, অনেক অন্যায় অপরাধের সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত একটি শহরের এয়ারপোর্টে তাকে যেভাবে লাঞ্ছিত অপমান অপদস্থ করা হয়েছে তা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এতে শুধু তিনি অপমানিত হন নাই, বাংলাদেশকে ছোট করা হয়েছে। জাতিকে হেয় করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মহড়া দেশের মাটিতে চলতে পারে কিন্তু বিদেশে তার প্রকাশ কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট দলেরও ভাবমূর্তি বাড়ায় না। এতে আওয়ামী লীগের কোন লাভ হয় নাই, বরঞ্চ ভাবমূর্তি আরও গেছে। মানুষ এই দলটাকে একটা সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে, কাল জেএফকের ঘটনা এই ধারনাকে পোক্তই করলো। সাথে এটাও প্রমান হলো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও তাদের চরিত্র এতটুকু বদলায় নাই।
প্রফেসর ইউনুস আওয়ামী সরকারকে হঠান নাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে নিজেদের কর্মদোষে।
বরঞ্চ তিনি ওই ক্রান্তিকালে এসে দেশটার হাল ধরেছেন। জাতিকে একটা সমূহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ব্যর্থ হলেও নানামুখি সংষ্কার উদ্যোগ নিয়ে দেশটাকে সঠিক ট্র্যাকে তুলে দিতে চেষ্টা করেছেন এবং ফাইনালি নির্বাচন করিয়ে দেশে একটা নির্বাচিত সরকার বসিয়েছেন। এই ক্রেডিট তো তিনি পাবেনই। পাশাপাশি তার দূর্বলতা বা ব্যর্থতাও আছে। তিনি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন, মবসন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন বা নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংশ পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়া মাজার ভাঙ্গা পীরের লাশ উঠিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার জামাতি অপকর্মে নীরবতা পালন করেছেন। সর্বোপরি তার সরকারের ভুল নীতির কারনে ’২৪এর অগাস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনমানসে সৃস্ট আশা হতাশায় পরিনত হয়েছে। এসবের সমালোচনা আমরা করবো। কিন্তু তা যদি পতিত স্বৈরাচারের বয়ানের সাথে মিলে যায় তার অর্থ ভিন্ন হয়ে যায়।
প্র: ইউনুসের ওপর আওয়ামী লীগের রাগ গোস্বার কারনগুলো বুঝি। তার কারনে ৫ আগস্ট পরবর্তীকালে ভিনদেশী অভিযান চালিয়ে হারানো স্বর্গরাজ্য ফিরে পাওয়া যায় নাই, তার প্রভাবে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্ব দৃড় অবস্থান নেয়- যে কারনে আর্মিতে ক্যু করানো সম্ভব হয় নাই। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে তাদেরকে নির্বাচন করতে না দেওয়া, সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার মামলা এবং হয়রানির মধ্যে রাখা এবং ফাইনালি ৩২ নস্বর ভাঙ্গা বঙ্গবন্ধুর মুর্তি ভাঙ্গা থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার ও বংশধরদের নামে যেসব স্থাপনার নামকরন করা হয়েছিল গয়রহ সব বাতিল করে দেওয়া- এসব তো আছেই।
কাল নিউ ইয়র্কের এক টিভি টক শো’তে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতিকে বলতে শুনলাম বিভিন্ন ক্ষোভ থেকে নাকি তারা এ কান্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবাদ বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, তবে তা কোথায় কতটুকু প্রকাশ করা যাবে এই পরিমিতিবোধ যদি না থাকে তাহলে বুঝতে হবে সুস্থ রাজনীতি চর্চা এই দলের কাছ থেকে এখনও দুরাশাই মাত্র।
দুই বছর পুলিশের দৌড়ানি জেল মামলা ইত্যাদী কারনে এই দলটার প্রতি সাধারন মানুষের এক ধরনের সহানুভুতি জাগছিল। রিকন্সিলিয়েশনের কথাও উঠেছিল। আমিও লিখেছি নীরিহ বা নিরপরাধ নেতাকর্মীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়। সরকারি নেতাদের মুখেও নরম সুর শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু কাল প্র: ইউনুসের সাথে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তাতে মানুষ শুধু হতভম্ব না আতংকিত হয়েছে। বলছে, এতো কিছুর পরও দলটা তাদের সন্ত্রাসী চরিত্র বদলাতে পারলো না। এ অবস্থায় রাজনীতি করার সুযোগ থাকলে তো সেই আগের মত জ্বালাও পোড়াও সন্ত্রাস সহিংসতাই চালাবে। দেশের বারোটা বাজিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে কাল বললেন তারা আর রিকন্সিলিয়েশনের কথা ভাবছেন না। বরঞ্চ শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে তাকে আইনী প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করবেন।
ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা কেউ দেশে থাকে না। কিন্তু দেশে তাদের আত্মীয় পরিজন বাস করে। প্রফেসর ইউনুসের সমর্থকরা এখনও নাই হয়ে যায় নাই। এরা যদি প্রতিশোধ নিতে শুরু করে কেউ তাকে মব সন্ত্রাস না বললে অবাক হবার কিছু থাকবে না।
বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে এবং আইনী সুরক্ষায় বাস করে দেশে অবস্থানকারি নেতাকর্মীদেরকে বিপদের মধ্যে ফেলা কোন সুস্থ বা দায়িত্বশীল রাজনীতি চর্চা হতে পারে না। কেউ বলবেন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তা কেউ আশাও করে না। তবে নেতৃত্ব যদি জেনে বুঝে চান দেশে অবস্থানকরা নেতা-কর্মীরা আরও বেশী করে অত্যাচারিত হোক আরও বেশী মামলা মোকদ্দমা খাক আরও বেশী করে জেলে যাক- যাতে বলা যায় সরকার দলনপীড়ন চালাচ্ছে, তাহলে ভিন্ন কথা।
