শেখনিউজ ডটকম

অথঃ মেঘনা ও মোস্তফা নামা। রাষ্ট্র ও আইন কবে সক্রিয় হবে? পার্ট-৩

সূচনা ফাউন্ডেশন, ধান মজুত ও চিনির মামলা: পরবর্তী পদক্ষেপের খবর নাই

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সরকারের দোসর মেঘনা গ্রূপ ও মোস্তফা কামালকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ শুধু মামলা দায়ের আর অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধ। সূচনা ফাউন্ডেশনের ঘটনায় দুদকের মামলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ধান মজুতের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। নিম্নমানের চিনির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সংবাদ রয়েছে। কিন্তু মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও চলমান কার্যক্রম দেখার সৌভাগ্য জাতির হয় নাই।

মামলা দায়ের বা পরোয়ানার সংবাদ প্রকাশের পর তার পরিণতিও জনগণকে জানানোর দায়িত্ব থাকলেও সেই দায়িত্ব পালনে সবাই কেন যেন নারাজ। তদন্ত কোথায় পৌঁছেছে, অভিযোগপত্র হয়েছে কি না এবং আদালতে পরবর্তী আদেশ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ারও কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না।

সূচনা ফাউন্ডেশনের মামলা

২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা–১-এ সূচনা ফাউন্ডেশনের অর্থসংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়। আসামিদের তালিকায় মোস্তফা কামাল রয়েছেন। অভিযোগে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে অনুদানের নামে অর্থ দেওয়া ও নেওয়া এবং সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা রয়েছে।

একই ঘটনায় প্রায় ৯৯ লাখ টাকা কর জমা না দেওয়া এবং ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। লেনদেনের এই অঙ্ককে আত্মসাতের অঙ্কের সঙ্গে যোগ করে মোট ক্ষতির পরিমান আরো বেশি।

মামলার পর এক বছরের বেশি পেরিয়েছে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী? অভিযোগপত্র হয়েছে কি? অর্থের উৎস ও গন্তব্য চিহ্নিত হয়েছে কি? সম্পদ শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? কেউ জানে না, জাতিকে জানানোর সময়ও কারোর নেই।

এর আগে ২৭ মে ২০২৫ আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। সেই আদেশের বর্তমান অবস্থাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কিন্তু কোন অবস্থায় এখন সেটা বলার কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ধান মজুতের মামলা: নিলামের পর কী হয়েছে?

২৪ ডিসেম্বর ২০২২ বগুড়া সদর থানায় লাইসেন্স ছাড়া ধান মজুতের অভিযোগে মোস্তফা কামাল ও তানভীর ফুডসের সিনিয়র ডিজিএম প্রকৌশলী কেতাউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগে প্রায় ২,৫৬৮ টন ধান মজুতের কথা ছিল। খাদ্যশস্য বা মিল লাইসেন্স ছাড়াই মজুত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

পরে ১১ জানুয়ারি ২০২৩ আদালত জব্দ ধান নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেন।

নিলামের পর তদন্ত ও বিচারের কী হয়েছে? অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কি? মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে কি? সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও কর্তৃপক্ষকে বর্তমান অবস্থার হিসাব দিতে হবে, কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায় না।

চিনির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিম্নমানের চিনি প্রস্তুত ও বাজারজাতের মামলায় ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মামলার বাদী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান।

মেঘনা সুগার রিফাইনারির চিনির নমুনায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম সুক্রোজ এবং সালফার ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতির অভিযোগ আনা হয়।

পরোয়ানার পর কী ব্যবস্থা হয়েছে? তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন কি? পরবর্তী আদেশ কী? খাদ্যের মান নিয়ে মামলার বর্তমান অবস্থা জানার অধিকার ভোক্তাদেরও রয়েছে।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব কোথায়?

মেঘনা গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবসাইটে মোস্তফা কামালকে একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালিকের বিরুদ্ধে মামলা ও অনুসন্ধানের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কতটুকু তুলে ধরছে? রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছে জবাব চাইছে কি? মালিকানার সম্পর্ক পাঠকের সামনে জানানো হচ্ছে কি? সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরীক্ষা নিজের মালিকের জবাবদিহির ক্ষেত্রেও হয়।

সরকারের কাছে পূর্ণ হিসাব চাইবে কে?

জমি ও নদী দখলের অভিযোগ, অর্থসংক্রান্ত অনুসন্ধান এবং তিনটি পৃথক মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রকে আলাদা হিসাব দিতে হবে। কোনটি অনুসন্ধানে, কোনটির বিচার চলছে, কোন আদেশ কার্যকর হয়েছে এবং কোন সিদ্ধান্ত এখনও বাকি—তার তারিখসহ বিবরণ প্রকাশ করা প্রয়োজন।

জনগণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, জনমত ও আইনগত উদ্যোগে জবাব চাইলে সরকারকে উত্তর দিতে হবে। অভিযোগকারীদের প্রতিকার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাজের ফল জানার দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

অভিযোগের পর অভিযোগ, অনুসন্ধানের পর অনুসন্ধান—কিন্তু ফল জানার অপেক্ষা কতদিন? মেঘনা গ্রুপ ও মোস্তফা কামালকে ঘিরে রাষ্ট্র ও আইনের পদক্ষেপের পূর্ণ হিসাব জনগণ কবে পাবে?

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাথে কবরে পর্যন্ত যেতে চাওয়া মোস্তফা কামালদের লাভার কাছে জাতিকে বলি দেয়ার জন্য যে সকল রাষ্ট্রীয় পদধারীরা উন্মুখ হয়ে থাকে দু’পয়সা ঘুষের মতো উচ্ছিস্ট খাওয়ার লোভে তাদের বিচার করবে কে? (চলবে)

Exit mobile version