জাল দলিল, জমি ও নদী দখলের অভিযোগ: প্রশাসনের পদক্ষেপের হিসাব কোথায়?
শেখনিউজ রিপোর্টঃ জমি দখল, জাল দলিল, জমি বিক্রির চাপ, প্রতিবাদকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানি এবং নদী ভরাট—মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ পুলিশকে জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার কথা বলেছেন। নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও দখলের সংবাদ এসেছে। কিন্তু কোন ঘটনায় কত জমি উদ্ধার হয়েছে, কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোন অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়—তার পূর্ণ হিসাব কোথায়? (dhikdarshon.net, dailysangram.com, bdpratidin.com)
২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত ‘জমি পেলেই গ্রাস করে মেঘনা গ্রুপ’ প্রতিবেদনে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত মালিককে আড়ালে রেখে ভুয়া ও জাল দলিল তৈরি, জবরদস্তি দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। জীবননাশের হুমকির অভিযোগও সেখানে রয়েছে।
অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অভিযোগ করেছে। দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত সংবাদে জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করে প্রায় ৩৩ বিঘা জমি দখল, জমি বিক্রির চাপ ও হুমকির অভিযোগ করেন। পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েও ফল পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের বক্তব্য।
এসব অভিযোগে দলিল, দাগ, খতিয়ান, নামজারি ও দখলের ইতিহাস পরীক্ষা কতদূর হয়েছে? জাল দলিলের অভিযোগ পাওয়ার পর সাবরেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিস কী ব্যবস্থা নিয়েছে? থানায় দেওয়া অভিযোগের তদন্তে কী পাওয়া গেছে?
জমির মালিককে প্রতিকারের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পরীক্ষা করতে হবে। কোন অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কোনটিতে মামলা হয়েছে এবং কোনটি নিষ্পত্তি হয়েছে—তার তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রশ্ন
সোনারগাঁয়ের আব্দুল আজিজের ২৭০ শতাংশ জমি নিয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনিডেবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ বিরোধের সংবাদ রয়েছে। সোনারগাঁও দর্পণের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে আদালতের দখলি পরোয়ানা ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের নির্দেশের বিবরণ প্রকাশিত হয়। জমির মালিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ও হুমকির অভিযোগও সেখানে উঠে আসে।
এই ঘটনার পরবর্তী বাস্তবায়নের পূর্ণ বিবরণ পর্যালোচিত সূত্রে পাওয়া যায়নি। জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কি? উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে কি? না হলে বাধাটি কোথায়? আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
নদী দখলের পুরোনো প্রতিবেদন, নতুন অভিযোগ
২০২১ সালে বাংলাদেশ প্রতিদিন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানের নদী দখলের সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে নদীর অংশ ভরাট, সীমানা প্রাচীর ও স্থাপনা নির্মাণের বিবরণ ছিল।
২৬ এপ্রিল ২০২৬ খবরের কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও নদী, শাখা খাল এবং স্থানীয় মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং প্রতিবাদকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বছরের পর বছর একই এলাকার অভিযোগ ফিরে আসছে কেন? নদীর সীমানা নির্ধারণ হয়েছে কতটুকু? কত জমি উদ্ধার হয়েছে? কোন স্থাপনা সরানো হয়েছে? জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তারিখ এবং পরিমাণসহ হিসাব দিতে হবে।
পুলিশকে জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কে অভিযোগ গ্রহণ করেছিলেন, কে তদন্ত করেছিলেন এবং কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল—এই তথ্য প্রকাশ করা হোক। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা প্রভাব বিস্তারের ঘটনা থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা হোক।
জমির মালিকের অভিযোগ, নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন এবং আদালতের নির্দেশের পর রাষ্ট্র কী করেছে? মেঘনা গ্রুপকে ঘিরে প্রশাসনের পদক্ষেপের পূর্ণ হিসাব জনগণ কবে পাবে? (চলবে)
