শেখনিউজ ডটকম

বিএনপির রাজুর লোভ অন্য নেতার সম্পদে! অবৈধ দখল ও লুটপাট, সংঘর্ষে উত্তাল হাওরের জনপদ

শেখনিউজ রিপোর্টঃ মৌলভীবাজার জেলার স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি জিএম মুক্তাদির রাজুর বিরুদ্ধে আরেক বিএনপি নেতার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশনায় ও ইন্ধনে ধলী বিল (হুরু হাওর) এলাকায় অবৈধভাবে পাম্প মেশিন দ্বারা সেচ দিয়ে মাছ নিধন ও লুটপাট চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় ছাত্র জনতা ও এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেকোনো সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

বিতর্কিত জমি ও আদালতের আদেশ

এই হাওর এলাকার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। বিএনপির প্রয়াত নেতা মোঃ ফজলুর রহমান গনি, যিনি একসময় কনকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন, দীর্ঘদিন এই জমিতে মাছ চাষ ও ভোগদখল করতেন।

বর্তমানে তার উত্তরাধিকারীরা প্রবাসে অবস্থান করায় স্থানীয় তত্ত্বাবধায়করা জমি দেখভাল করছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা জিএম মুক্তাদির রাজুর অনুসারীরা জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংঘর্ষ ও আইনি জটিলতা

১০ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে স্থানীয় ছাত্র জনতা অবৈধভাবে সেচ ও মৎস্য নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত হাওর সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা বর্তমানে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

স্বতঃ মামলা নং: ১০৬/২০০৩ (সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, মৌলভীবাজার)

সিভিল রিভিশন মামলা নং: ৪৬১০/২০১০ ও ৩৫৪/২০২০ (মহামান্য উচ্চ আদালত)

প্রশাসনের নীরব ভূমিকা, জনমনে উদ্বেগ

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও বিএনপি নেতা মুক্তাদির রাজুর প্রভাবের কারণে দুষ্কৃতিকারীরা হাওর দখলের সাহস পাচ্ছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবৈধ মৎস্য নিধন ও লুটপাট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে বিএনপির হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকার ভোটারগণ।

(সংবাদটি প্রস্তুতকালে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।)

Exit mobile version