রপ্তানির লাইসেন্সই নাই; চীনা টিকা ঠেকাতে বাংলাদেশে ভুয়া চুক্তি করে ভারত

118

শেখনিউজ রিপোর্টঃ লাইসেন্স না থাকা সত্বেও ভারতের সাথে টিকা আমদানির ভুয়া চুক্তি। সরকার সেই চুক্তি মোতাবেক ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও সেই টিকা আদৌ বাংলাদেশে আসবে কিনা তার কোন গ্যারান্টি নেই। অথচ চীনা টিকা বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতেই ভারত ও এদেশের দালালেরা এমন একটি ভুয়া চুক্তি করে। বাংলাদেশই বা অক্সফোর্ড – অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে চুক্তি না করে তৃতীয় পক্ষের সাথে চুক্তি করলো কার স্বার্থে তা বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

বাংলাদেশের নাগরিকরা যে কতো বড় মাফিয়াদের ফাঁদে পড়েছে তা আবারো প্রমান হলো। এমন ধান্দাবাজ মাফিয়াদের হাতে দেশ যে যাচ্ছে তা অনেক আগেই বোঝা গেছে যখন রাজনীতি ধান্দাবাজ ব্যবসায়ীদের দ্বারা দখল হয়ে যায় সেই থেকেই। পুরো জাতীয় রাজনীতি এখন হয় ব্যবসায়ীদের দ্বারা, না হয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবসায়ী হওয়া সাবেক বা বর্তমান আমলা বা রাজনীতিবিদদের দ্বারা দখলীকৃত। আর এই দখলীকৃত মাফিয়াদের স্তুতিতে মাতোয়ারা হয়ে প্রকারান্তরে জাতির সর্বনাশ করে চলেছে সরকার। কিন্তু সংশোধনের কোন চেষ্টাই নেই।

বাংলাদেশে টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে যে গোষ্ঠীটি নিজেদের রক্ষা করতে চেয়েছিল তাদের সে চেষ্টা পাল্টে দিয়ে ব্যবসায়িক মাফিয়া গোষ্ঠী ভিন্ন খবর প্রকাশ করলেও আসল তথ্য হচ্ছে আগামি অনেক কয়েক মাসেও ভারতের কাছ থেকে কোন টিকা আসবে না।

বিবিসির কাছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার ভারতীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, তাদের টিকা রপ্তানির ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে অন্য কোন দেশে ঐ টিকা রপ্তানির কোন লাইসেন্সও নাই তাদের। সেরাম ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তারা দিল্লিতে বিবিসিরকে জানিয়েছেন, কোম্পানিটি এখন অন্য দেশে টিকা রপ্তানির অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, যা পেতে কয়েকমাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই মুহূর্তে তারা রপ্তানি করতে পারবে না, যেহেতু তাদের রপ্তানির অনুমতিই নেই।

ইজ্জত রক্ষা করতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব আবদুল মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টিকার ব্যাপারে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যেহেতু জিটুজি (সরকারের সাথে সরকারের) চুক্তি হয়েছে সেহেতু বাংলাদেশের যথাসময়ে টিকা পেতে কোন সমস্যা হবে না।

কিন্তু বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন এমপি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনাভাইরাসের টিকা আনতে যে চুক্তি হয়েছে, সেটি একটি ‘ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তি’, সরকারের সঙ্গে সরকারের ‘চুক্তি নয়’

অথচ ভারতীয় হাই কমিশনও সরকারকে জানিয়েছে, যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কথা ভারত সরকার বলেছে শুধুমাত্র কর্মাশিয়াল অ্যাকটিভিটিজের ওপর, জি টু জি সরকারের সাথে সরকারের বানিজ্যের ওপর না। কিন্তু বেক্সিমকো এমডি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন,

“এখানে জিটুজির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমার জানা নাই। এইটা আপনারা যে জিটুজির কথা বলছেন স্বাস্থ্যসচিব যেটা বলেছেন… উনি কোন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন আমি জানি না। এটা হতে পারে অন্য ভ্যাকসিন, সরকার অন্য কোম্পানির সঙ্গে থাকতেই পারে… আমার জানা নাই। এখানে বেক্সিমকো ফার্মাও গভার্নমেন্ট না, সেরাম ইনস্টিটিউটও গভার্নমেন্ট না। একদম ক্লিয়ার, কাজেই এখানে গভার্নমেন্ট টু গভার্নমেন্ট কীভাবে হতে পারে? এটা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি।”

এদিকে কবে নাগাদ টিকা আসতে পারে- এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন, আমরাও তা-ই বলছি, এটি চলতি মাসের শেষে আসবে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ই নভেম্বর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বেক্সিমকো ফার্মা। বেসরকারি পর্যায়ে চুক্তিটি হলেও এতে উভয় সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে বাংলাদেশে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর কথা সিরাম ইনস্টিটিউটের।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে টিকা যদি বেক্সিমকো আমদানি করে তবে সরকার নাগরিকদের জন্য কি করলো? আর বেক্সিমকোর আমদানিতে সরকার টাকা জমা দিলো কেন ভারতের কাছে? এখানে আসল ধাপ্পাবাজি জাতির সাথে করলো কারা? সরকার নাকি বেক্সিমকো? আর ১৮ কোটি মানুষের জন্য প্রতিমাসে ৫০ লাখ টিকা দিয়ে কি হবে? মাত্র ২৫ লাখ লোককে টিকা দেয়া যাবে। এতে কি ভয়ংকর হয়ে ওঠা করোনা ঠেকানো যাবে?

এমনিতেই এমনতর বিশ্ব মহামারি নিয়ে যে পরিমান চুরি ছ্যাঁচড়ামি সরকারী দলের লোকজন করেছে তাতে জাতি এদের ঘৃণা করছে অভিশাপ দিচ্ছে; এর উপর জাতিকে টিকা দেয়া নিয়ে এই যে নতুন নোংরামি করা হচ্ছে, এর শেষ কোথায়? জাতি কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে মাফিয়াদের হাতে? কারো কি কোন দায়িত্ব ও ঈমান নেই? জাতির নিজের কি কিছু করার নেই?

Facebook Comments

Hits: 74

SHARE