মেজর সিনহার হত্যাকারীদের রিমান্ডে পেলো র‍্যাবঃ সেনাপ্রধান কি অপসারিত হচ্ছেন?

237

শেখনিউজ রিপোর্টঃ অবশেষে ধীরে ধীরে আশার আলো জাগতে শুরু করেছে মেজর সিনহার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে। হত্যা মামলা দায়ের না করেই সরকারী তদন্ত কমিটি গঠন করায় যারা উৎফুল্ল ছিলেন; হত্যাকারীদের সেই সকল মদতদাতাদের কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। খুনি চক্রের সদস্য ১৬১ জন নিরস্ত্র নাগরিক হত্যার কারনে রাষ্ট্রের পদক পাওয়া হত্যার আদেশদাতা ওসি প্রদীপ কুমার, খুনি ইন্সপেক্টর লিয়াকত এবং দারোগা নন্দলাল রক্ষিতসহ ৭ জনকেই র‍্যাবের হাতে ৭ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, র‍্যাবের সকল সেক্টরের কমান্ডারসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য সেনাবাহিনী থেকে ডেপুটেশনে নিয়োগপ্রাপ্ত। সেক্ষেত্রে জাতি আশাকরে খুনিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সঠিক পথেই এগুবে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নির্দেশদাতা ও প্রশ্রয়দাতা সকলের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

রিমান্ডে দেয়ার জন্য র‍্যাবকে ভিন্ন একটি আদালতে আবেদন করতে হয়। উল্লেখ্য খুনি পুলিশদের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি সোচ্চার হলেও তাদের সাসপেন্ড বা গ্রেপ্তারে পুলিশ বা সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি চট্টগ্রামে কুখ্যাত ওসি প্রদীপ কুমারকে পুলিশ হেফাজতে নিলেও চট্টগ্রামের মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, প্রদীপকে বিশেষ নিরাপত্তায় কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে তিনি আত্নসমর্পণ করবেন। তাকে আটক বা গ্রেপ্তার বলা যাবে না।

পুলিশের তরফ থেকে সকল চেষ্টা করা হয় খুনিদের গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য। যেনতেন ভাবে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশের নিয়ন্ত্রকরা। ইতিমধ্যে দারোগা টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে তারই সতীর্থরা। কারন রিমান্ডে নিলে এদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারনে সন্দেহ করা হচ্ছে মেজর সিনহা হত্যার নেপথ্যের নায়কেরা এই পলাতক দুইজনকে যে কোন ভাবে হত্যা বা গুম করে ফেলতে পারে।

এদিকে সেনাবাহিনীর মধ্যে এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের মধ্যে সেনাপ্রধানের ভুমিকায় ক্ষুব্ধতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ মনে করছেন বর্তমান সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর মান মর্যাদাকে তলানিতে নিয়ে গিয়েছেন। যা জাতির জন্যও মঙ্গলজনক নয়। তাদের মতে সরকারের উচিত অবিলম্বে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব থেকে জেনারেল আজিজকে অব্যাহতি দেয়া।

ডিজিএফআই মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ড নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয়ার পরেও এমনকি সেনাসদর থেকেই ডিজিএফআই-র রিপোর্টের একদিন আগেই জরুরী নোট প্রকাশ করা হলেও অজ্ঞাত কারনে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ এই হত্যার বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলায় পুরো জাতি এবং সেনাবাহিনী হতবাক হয়ে যায়। সেই সাথে মেজর সিনহার হত্যার বিচারের দাবী এবং খুনিদের গ্রেপ্তাদের দাবীকে পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা বলায় সশস্ত্র বাহিনীসহ পুরো জাতি ক্ষুব্ধ।

মেজর সিনহার হত্যাকে এখনও ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনার নামে সেনাপ্রধান আইএসপিআর-কে ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডকে বিতর্কিত করার আরও একধাপ চেষ্টা করেছেন। সেনাপ্রধান এবং পুলিশ প্রধান এই হত্যাকাণ্ডকে মৃত্যু আখ্যা দিয়ে তা মর্মাহত বলেছেন; কিন্তু একবারের জন্যও হত্যাকাণ্ড বলেন নাই বা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাও বলেন নাই; বলেছেন যদি কেউ দায়ী হয় তবে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। উল্লেখ্য প্রায়শ্চিত্ত আর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পুরোটাই ভিন্ন।

সরকার প্রধান এ বিষয়ে জ্ঞাত হতে চাইলে ডিজিএফআই ও এনএসআই এর রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন। এবং তাদের রিপোর্ট মোতাবেক সেনাপ্রধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পুরো জাতি সমর্থন জানাবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যে কোন সময় ক্ষেপণ বা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হলে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ ভেবে নেবে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরকারের সম্পৃকততা রয়েছে।

এদিকে র‍্যাবের তদন্ত শুরু হওয়ায় মামলা না করেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বানানো তদন্ত কমিটি ঠূঠূ জগন্নাথে পরিণত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাদের মতে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই অমন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

Facebook Comments

Hits: 130

SHARE