মেজর সিনহা হত্যার তদন্তঃ র‍্যাব বা ডিজিএফআই বা এনএসআই নেই কেন?

268

শেখনিউজ রিপোর্টঃ পুলিশের সরাসরি গুলিতে নিহত এসএসএফ-র সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ (৩৬) হত্যার তদন্তে ইতিমধ্যেই কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়েছে এবং হত্যার কয়েকদিন পরে সেই কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে মঙ্গলবার। প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোপন সংবাদ সংগ্রহ ও কাজে যদি ডিজিএফআই এবং এনএসআই বা র‍্যাব সম্পন্ন করতে পারে, তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাদের বাদ দিয়ে এই তদন্ত কেন? বা তাদের প্রতিনিধি নেই কেন?

এটা কি খুনি ইন্সপেক্টর লিয়াকত বা তার নির্দেশদাতা ওসি প্রদীপ দাস বা খুনিদের পক্ষ নেয়া পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে বাঁচানোর জন্য কোন পায়তারা? এ প্রশ্ন এখন জনমনে। কারন ইতিমিধ্যেই লিয়াকতের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং ওসি প্রদীপের দ্বারা শতাধিক নিরস্ত্র সিভিলিয়ান ক্রসফায়ারের নামে হত্যার বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে।

অজ্ঞাত কারনে এবং উদ্দেশ্যমুলক ভাবেই দেশের সকল মিডিয়া এদের পরিচয় প্রকাশে বিরত রয়েছে। এমনকি কেন সেনাসদর ও ডিজিএফআই-র রিপোর্ট পাওয়ার পরেও হত্যাকারী ইন্সপেক্টর লিয়াকত এবং ওসি প্রদীপকে গ্রেপ্তার করা বা সাসপেন্ড করা হয়নি বা এখনও হচ্ছে না। মিডিয়াগুলো ইচ্ছেকৃতভাবেই এ বিষয়গুলো চেপে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে খুনি লিয়াকতের বাড়ি গোপালগঞ্জে এবং তার পিতা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর ওসি প্রদীপ নিজেই তার নামে প্রকাশ পায় সে কোন শক্ত লবি ধারন করে; এমতাবস্থায় খুনিদের রক্ষার প্রজেক্ট গ্রহন করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সেই সাথে ভিন্ন কোন বড় ঘটনা ঘটিয়ে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৭ দিনের তদন্তও বর্ধিত করার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গেছে। যদিও এতে সামরিক প্রতিনিধিরা সম্মত না হলেও কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিভিলিয়ান আওয়ামী অনুগত সদস্যরা তা এড়িয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মরহুম মেজর সিনহার দাফন পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি পুলিশ বাহিনী ও সরকারের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলে ধারনা করা হচ্ছে। আগামীতে যে কোন বিরুপ পরিস্থিতিতে এ সকল খুনিরা যে রেহাই পাবে না এটি তার সতর্ক বার্তা বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে; যেমনটি ধারনা করা হয় পিলখানায় সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে।

Facebook Comments

Hits: 109

SHARE