এসএসএফ’র সাবেক মেজরকে গুলি করে হত্যাঃ পুলিশের কোন্ খেলা এটি?

308

শেখনিউজ রিপোর্টঃ সশস্ত্র সেনা মেজরের নিশানার চেয়েও দ্রুত ও নিখুঁত এখন পুলিশের অস্ত্রের গুলি; পুলিশ এখন গুলি করে হত্যা করতেও সক্ষম হয় সশস্ত্র (পুলিশের ভাষায়) মেজরকে। অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু তরুন এসএসএফ-এর এই মেজর (৩৬) ইতিমধ্যেই তার ট্রেনিং ভুলে গেছেন এটি ভাবতেও জনতা নারাজ। আর টেকনাফ থেকে ফেরা ঐ মেজরকে হত্যার পরে পুলিশ উদ্ধার দেখিয়েছে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা; যেখানে টেকনাফ ফেরত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া যায় হাজার হাজার ইয়াবা।

পুলিশের গল্পটায় যে ফাঁক ফোঁকর তা সেনাবাহিনীর একটি টিমকে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জনতা। সেনাবাহিনীর স্থানীয় এরিয়া গোয়েন্দা টিমের তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে ইতিমধ্যেই সেনাসদরের এজি শাখা থেকে একটি জরুরী বার্তা সেনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠানো হয়েছে। এমনকি নিহত মেজর ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা ২ টি মামলা পুলিশের সাজানো বলে সেনা গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সেনাসদরের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের সরাসরি গুলিতে নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান (৩৬)। ৫১ লং কোর্সের এই সেনা অফিসার ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে সেচ্ছা অবসরগ্রহন করেন। তার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন মিডিয়ার সুত্রমতে মেজর সিনহা ও সিফাত পাহাড় থেকে নেমে এসে মেরিন ড্রাইভ রোডে প্রাইভেট কারে উঠে নীলিমা রিসোর্ট এর উদ্দেশ্যে গমন করার সময় বিজিবির চেকপোষ্টে মেজর সিনহা পরিচয় দিয়ে চলে আসে।

পরবর্তীতে লামাবাজার পুলিশ চেকপোস্টে এলে পুলিশ তাকে ডাকাত ভেবে চেক করতে গেলে পুলিশের সাথে তর্কাতর্কি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে ব্যাপারটি জানায় অন্যরা। ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা মেজর সিনহা গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে হাত-পা বেঁধে রোডের উপরে শুয়ে রাখে।

এই অবস্থায় ইন্সপেক্টর লিয়াকত এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তাদের সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। তর্ক বিতর্ক হওয়ার কারণে মেজর সিনহাকে বুকে এবং গলার নিচে তিন রাউন্ড গুলি করে লিয়াকত। সিফাতকে হাত-পা বেঁধে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিভিল মিনি ট্রাকে করে কক্সবাজার সদর হসপিটালে নিয়ে যায়।

তবে অন্য একটি স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে, মেজর সিনহা দুইহাত তুলে দাড়িয়ে থেকেই পুলিশকে তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেন। কিন্তু লিয়াকত তাকে গালি দিয়েই বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।

জানা গেছে ডিজিএফআই এর স্থানীয় কমান্ডার, RAB এর মেজর মেহেদী, মিলিটারি পুলিশের এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন আহোনাত, পুলিশের এডিশনাল এসপি মোহাম্মদ ইকবাল, শ্যামলাপুর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মুনতাসির আরেফিনসহ অন্যরা বাহারছড়া পুলিশের তদন্ত কেন্দ্রে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হত্যাকারী পুলিশদের গ্রেপ্তার বা শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। অথচ মৃত মেজর ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে দুটো মামলা হয়েছে যা সেনাসদরের ভাষ্যমতে পুলিশের সাজানো। সেনা গোয়েন্দারা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের রোষানলে পরেছেন বলেও সেনাসদরের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

অনেকেই এ বিষয়টিকে অতি স্পর্শকাতর মনে করছেন। সাম্প্রতিককালে এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক লে জেনারেল চৌধুরী সারয়ারদির অনলাইনে ভারত ও সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্যের পরে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া এবং এসএসএফের এই সাবেক মেজরের প্রকাশ্যে পুলিশ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের পরে জনমনে নানান সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

ইতিমধ্যেই দেশ রাজনীতি শুন্য হয়ে পড়েছে; পুলিশে প্রায় ৭০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী চাকুরী পেয়েছে, অভিযোগ সাথে চাকুরী পেয়েছে ভারতীয় নাগরিকেরাও। এমতাবস্থায় ২টি দল এখন সক্রিয় দেশে; একটি রাজনৈতিক কর্মী ও ভারতীয় নাগরিক সম্বলিত পুলিশ ও আরেকটি দেশপ্রেমিক নাগরিক সমৃদ্ধ সেনাবাহিনী।

তাই সামনে ভারতীয় ছকে আরও কিছু ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা লাভ ঘটবে জাতির।

Facebook Comments

Hits: 172

SHARE