সম্পাদকীয়ঃ শেখনিউজ’র দৃষ্টিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

330

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ পানি অনেক ঘোলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ভারতীয় বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িক সরকারের বাংলাদেশী ও ভারতীয় দালালেরা কৌশলে একটি নয়া গেম মাঠে এনেছে। নানান কৌশলে এরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে লেখার নামে মুলতঃ তাদের প্রধান টার্গেট ঠিকই বজায় রেখেছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে। প্রশ্ন কেন এই অপশক্তির এই প্রচেষ্টা?

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে নতুন করে প্যাঁচালের কিছু নেই। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্বের এই সময়কালে বিতর্কিত হলেও শেখ হাসিনার এই সরকারের সামরিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্বয়ং তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক ভারতীয় সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়ায়, তারা যে কোন ভাবেই তাদের গন্তব্য ঠিক করে ফেলেছে। এই বিষয়টি বলার জন্য কোন পিএইচডি করার প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে যৌক্তিক তথ্য রয়েছে যে ৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঘটনায় একাধিক সামরিক ব্যক্তি ভারতীয় এজেন্সির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আজো সেই অবস্থা বিরাজমান।

সেই তথ্যের সূত্র ধরেই এই মুহূর্তে বলা চলে, অনেক নিয়ে কিছুই না দেয়া ভারতীয় সরকারের কাছে শেখ হাসিনা একজন সন্দেহপূর্ণ সরকার প্রধান এখন। দেবী বিসর্জনে পারঙ্গম জাতির কাছে শেখ হাসিনাও তাই। কারন এতদিনে ভারত ধরেই নিয়েছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীগুলো হবে আঞ্চলিক বা বিশ্বযুদ্ধে ভারতের অক্সিলিয়ারি বাহিনী; সেইভাবে তারা সবকিছু সাজানোর চেষ্টা করেছে, সেইভাবে কিছু কিছু অফিসারকে তারা পক্ষে নিয়েছে বলেই দৃশ্যমান। কিন্তু বিষয়টি যে ঠিক তার উল্টো এটা জাস্ট সম্প্রতি বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পেয়ে ভারত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। কারন বাংলাদেশের সমতলভূমি হচ্ছে ভারতের অখণ্ডতার লাইফ লাইন। যে লাইফ লাইন ঠিক করতে বহু কষ্টে বহু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে; সামরিক অফিসারদের নির্মমভাবে খুন করিয়েছে।

কিন্তু মানুষ করে এক আর বিধাতা করেন আরেক; ভারতের মদদপুস্ট শেখ হাসিনাই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে চীনকে প্রাধান্য দিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালান্স করে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ফায়ার পাওয়ার বৃদ্ধি করেছেন। সামরিক অফিসারদের ভারতে সস্ত্রীক প্রমোদ ভ্রমনে পাঠালেও প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছেন সঠিক স্থানেই। অস্ত্র ক্রয় করেছেন এমনভাবে যা ভারতের মাথা ব্যাথার কারন। এই মুহূর্তে চীনের সাথে ভারতের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে ভারত কোন ভাবেই সরাসরি নিজের করে পাবে না বুঝেই সুবীর ভৌমিকসহ কিছু সাংবাদিকদের দিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে এক গেম শুরু করে।

শেখনিউজ ডট কম সেই ষড়যন্ত্র রুখতেই সঠিক তথ্য প্রকাশ করে দেয়। এতেই মাথা ব্যাথা শুরু হয় ভারতীয় পেইড এজেন্টদের। তারা ভারতীয় ষড়যন্ত্র আর শেখনিউজ ডট কমের লেখাকে মিলিয়ে এমন প্রেস্ক্রাইব নিউজ বানিয়ে প্রকাশ করে যেন মনে হয় শেখনিউজ ডট কম এবং আমি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। বিভিন্ন এজেন্সি থেকে আমাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট ফাইল আকারে বানিয়ে এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়; যদিও এই সকল সিদ্ধান্তের থোড়াই কেয়ার করি আমি বা শেখনিউজ ডট কম। এমনিতেই I am a dead man waking.

রাষ্ট্রের সবার উদ্দেশ্যে এবং ভারতীয় বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক সরকার ও তার বাংলাদেশী এজেন্টদের জন্য পরিস্কার একটি তথ্য শেখনিউজ ডট কমের পক্ষ থেকে জানিয়ে দিতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগন এবং শেখনিউজ ডট কম এখনও মনে করে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে একমাত্র ইন্সটিটিউশন যে ইচ্ছে করলেই জাতিকে সত্যিকারের আইন, বিচার ও মানবাধিকার সমুন্নত এবং সংবিধান সম্মত, দুর্নীতিমুক্ত একটি সার্বজনীন রাষ্ট্র উপহার দিতে সক্ষম।

আমি এবং শেখনিউজ ডট কম মনে করি, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগন এমন শক্তিশালী ও সাহসী যে ইচ্ছে করলেই ভারত বাংলাদেশ দখল করতে সক্ষম তো নয়ই, বরং যে কোন সামরিক সংঘাতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের কয়েকটি রাজ্য দখল করে নিতেও সক্ষম। এই বিষয়ে আমাদের স্ট্রাটেজিক বিশ্লেষণ রয়েছে। শুধু দরকার দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।

পরিস্কার ভাবে আরও একটি বিষয় জাতির জন্য জানাতে চাই, উৎখাতের বিষয়ে আমরা সিদ্ধহস্ত নই, নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যার বড় কারিগর হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দর্শনে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম যারা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জড়িয়ে আছে। সেই সাথে রয়েছে অগনিত ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশে বৈধ অবৈধভাবে বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে ও বাইরে অবস্থা করছে প্রয়োজনে আমাদের জাতির রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার লক্ষ্যে।

আমি বা শেখনিউজ বিএনপির রাজনীতি ধারন করি না; আমরা দেশপ্রেমিক শক্তির ক্ষমতায়নে কাজ করছি; লক্ষ্য জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা জাতীয় সৎ নেতৃত্ব প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠা করা। আর সৎ নেতৃত্ব সামরিক অসামরিক যে কোন ভাবেই হোক, জাতীয় স্বার্থে হলেই জাতির মঙ্গল বলে আমাদের বিশ্বাস; কারন আমরা শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেই। কোন গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থ গৌণ। আছে এবং থাকবে।

Facebook Comments

Hits: 164

SHARE