বাংলাদেশে সরকার এবং জেনারেলদের দ্বন্দ্বঃ হঠাৎ ভারতীয় খেলার রহস্য- উপসংহার

430

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ভারত শেখ হাসিনা সরকারের উপর তথা বাংলাদেশের উপর বেজায় চটেছে। এমনকি চীনের দেয়া সাহায্যকে খয়রাতি হিসেবে উল্লেখ করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে ভারত এবং ভারতের মিডিয়া। আদিকাল থেকেই পূর্ব বাংলা তথা এই বাংলাদেশ অঞ্চলের মানুষদের ব্রাহ্মণ সমাজ কোন চোখে দেখতো তারই কিছুটা বহিঃপ্রকাশ দেখেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতীয়রা জড়িত এটা ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও বাইরের যে কয়টি গ্রুপ ১৫ আগস্টের পরিবর্তনের সাথে জড়িত তাদের মধ্যে কিলিং মিশনের গ্রুপটি ছিল ভারত এবং RAW সমর্থিত। এই গ্রুপে কারা কারা জড়িত ছিল নিরাপত্তাগত কারনে তাদের নাম প্রকাশ করা হল না। সরকারের প্রয়োজন হলে তদন্ত করতে পারে। তবে ভারত তার স্বার্থে যে আবারো সেই পথেই হাঁটছে, শেখ হাসিনা সেটা বুঝতে পেরেই আগে থেকেই নিজের সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী বানিয়ে রেখেছেন।

শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য বেশ কিছু আগে থেকেই ভারতীয় মিশন শুরু হয়; সেটি বুঝতে পেরে চীনকে বাংলাদেশ আরও বেশী ঘনিষ্ঠ করে নিতে থাকে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীকে সুসজ্জিত করতে চীনকেই সরকার বেশী প্রাধান্য দেয়। ব্যবসায়িক সুযোগও দেয় চীনকে যা ভারতের স্বার্থের পুরোটাই বিপরীত।

চীনের সাথে ভারতের বা অন্যদেশের আসন্ন যে কোন সামরিক সংঘাতে বাংলাদেশই লাভবান হবে। কোন কারনে ভারত চীনের আক্রমনে খণ্ড খণ্ড হলে এশিয়ায় বাংলাদেশ অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে শুধু সামরিক শক্তিতেই নয় অর্থনৈতিকভাবেও।

বর্তমানের এই খেলায় শেখ হাসিনা ভারতের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেও বাংলাদেশের লাভ; আবার ভারত শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেও বাংলাদেশের লাভ। এটি একটি জটিল সমীকরণ। অর্থাৎ শেখ হাসিনা টিকে গেলে ভারত খণ্ড খণ্ড হবে। চীন যুদ্ধ করবেই; ৪০ কোটি লোক যে দেশে একবেলা খায় আর যাদের পয়ঃনিষ্কাশন নেই; তেমন ভারত নামের দেশের পক্ষে চীনের মতো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের কোন সম্ভাবনা নেই। চীনের সাথে যুদ্ধ শুরু হলে যে কয়টি ফ্রন্টে ভারতকে যুদ্ধ করতে হবে তা করার সামরিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যও ভারতের নেই।

আর ভারত তাদের রাগের ফলে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলে সামরিক বাহিনীতে তাদের লোকজনকে ব্যবহার করবে; আর এতে ভারত বিরোধী সামরিক বাহিনীর শক্তির সাথে ভারতীয় পক্ষের যে দ্বন্দ্ব হবে তাতে ভারতীয় পক্ষ এক সময় বিলীন হয়ে যাবে। মারা পড়বে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের সকল স্লিপার সেল ও ভারতীয় এজেন্ট। সেই অলিখিত যুদ্ধও চিন-পাকিস্তান-নেপালের সাথে যুদ্ধের প্যারালাল হবে। ফলাফল একই। বাংলাদেশের লাভ।

বিজেপি সরকার ও নরেন্দ্র মোদী যেমন ভুল করে চীনের সাথে সাম্প্রতিক বিনা অস্ত্রের যুদ্ধকে নানান ভাবে বর্ণনা করে নিজেরাই নিজের দেশের নাগরিকদের কাছে খেলো হয়ে গেছে; বাংলাদেশও তেমনি তাদের গলার কাঁটা হবে। এই কাঁটার বিষ যে কতখানি; তা সে অচিরেই টের পাবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বর্তমানের মিডিয়া প্রচারনা দিয়ে সেই ভুলের শুরু ইতিমিধ্যেই ভারত করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে গোনা কিছু অফিসার পদোন্নতির জন্য ভারতের তাবেদারি করতে পারে; কিন্তু আখেরে তারা নিজের মাকে বা মেয়েকে যেমন কেউ অন্যের কাছে ধর্ষিতা হতে তুলে দিতে চায় না; বাংলাদেশের কোন জেনারেলও তেমনি ততখানি নিজেকে দালাল বানাবে না। অন্তত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তেমন মায়ের সন্তান কেউ নেই। এরা শপথ করে তাদের ধর্মীয় আবেগ ও ঈমান নিয়ে। এদের প্রশিক্ষনের প্রতিপক্ষ এখনও বিদ্যমান।

এই সুদুর প্রসারী ভাবনা থেকেই প্রায় ৮০ হাজার নিজেদের লোক পুলিশে ঢুকিয়েছে ভারতীয় পক্ষ। এদেরকে সম্ভাব্য কোন সমস্যায় যাতে সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি করতে পারা যায় সেই চিন্তা থেকেই এই ব্যবস্থা। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে তাদের সফলতা এই কাজটিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এবং সফলতার সাথেই সশস্ত্র পুলিশে ভারতীয় পক্ষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

তবে ভারত তার অস্তিত্বের এই খেলায় কোন চালটি দেবে তার অপেক্ষা করা ছাড়া বাংলাদেশের দেশপ্রেমিকদের আপাতত করনীয় কিছু নেই। এখন বাংলাদেশ এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। ভারত তার অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিবেশীদের সাথে বিবাদে না জড়ানো যেমন তার অস্তিত্বের জন্য সঠিক; তেমনি ১৩৮ কোটি মানুষের ভারতে করোনার যে ছোবল শুরু হয়েছে; কোন যুদ্ধ ছাড়া জাতীয় এই সংকট থেকে বের হওয়ারও তার জন্য অন্য কোন উপায় নেই।

বাংলাদেশকে ভারতের মর্জির উপরে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে; অন্তত ভারতের পক্ষ থেকে ছোবল দেয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত। তখন দেশপ্রেমিক জেনারেল আর দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের চরিত্র পুরোটাই উন্মোচিত হবে জাতির সামনে।

ছোট্ট একটা উপসংহার, বাংলাদেশের ফায়ার পাওয়ার প্রায় ৫ লাখের মতো। এখানে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যটাও ভারতীয় কম্যান্ডোর চেয়ে বেশী সাহসী অন্তত ভারতের বিরুদ্ধে। ভারত কোনভাবেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২ লাখের বেশী সৈন্য ব্যবহার করতে সুযোগ পাবে না। আর ভারতের এই ২ লাখ বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরাই ঠেকিয়ে দিতে যথেষ্ট। পারমাণবিক অস্ত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কোন স্কোপ নেই। বরং বাংলাদেশের বাহিনী ইচ্ছে করলে ভারতের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম কনভেনশনাল যুদ্ধে।

এই বিশ্লেষণ ভারতের আছে বলেই চাণক্যের রাজনীতির চাল চালে সে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আগায় না। লাঠি দিয়ে লাঠি ভাংতে চায় ভারত। কিন্তু আর কতদিন? বাংলার মায়েদের সন্তানেরা আর কতদিন কাঙ্গালের সন্তানের মতো আচরন করবে? এদের শরীরে বীরের রক্ত কি পরিবর্তন হয়ে গেছে? এ প্রশ্ন দেশের নতুন প্রজন্মের সন্তানদের।

Facebook Comments

Hits: 229

SHARE