বাংলাদেশে সরকার এবং জেনারেলদের দ্বন্দ্বঃ হঠাৎ ভারতীয় খেলার রহস্য-(৩)

552

শেখনিউজ রিপোর্টঃ শেখনিউজ ডট কমে ২ কিস্তি রিপোর্ট প্রকাশের মধ্যেই পর্দার আড়ালে চলছে ভয়াবহ খেলা। ইতিমধ্যেই জেনারেল আজিজ আহমেদকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরানোর একটি চেষ্টা ভারতের কড়া অবস্থানের কারনে ব্যর্থ হয়ে যায়। ও দিকে একই সাথে ৫ জন লেফটেনেন্ট জেনারেলের পদ শুন্য করার একটি পরিকল্পনাও একই সাথে ভেস্তে যায় আপাতত।

দেশী বিদেশি প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ভারতীয় পক্ষ শেখ হাসিনার উপর এখন আর নির্ভর করতে চাচ্ছে না এমনকি তারা তাদের মিডিয়ার লোকজন দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে নানা রিপোর্ট ও লেখা প্রকাশ করছে ভারত ও ভারতের বাইরের মিডিয়া গুলোতে। এর একটাই কারন, তা হচ্ছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে ভারতীয় বলয়ের বাইরের সহায়তায় শক্তিশালী বানানো।

শেখ হাসিনা ও তার সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভারতীয় তাবেদারে পরিণত হলেও ব্রাহ্মন সংস্কৃতিকে তিনি বুঝতে পেরেই নিজের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী বানাতে চেষ্টা করেছেন; এখন এই সশস্ত্র বাহিনী যদি শেখ হাসিনাকে সহায়তা করে তবে ভারতের পক্ষে কোনভাবেই সরকার বা বাংলাদেশের কোন ক্ষতি করা সম্ভব নয়। এমনকি যে কোন কনভেনশনাল যুদ্ধে বাংলাদেশকে হারানোও ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে এখন আর সম্ভব নয়।

কিন্তু শেখ হাসিনাও একান্তই নিজের পরিবার ও আত্মীয়দের বাইরে কাউকে বিশ্বাস করতে ইতস্তত করেন বিধায় সশস্ত্র বাহিনীগুলোই শুধু নয় সকল রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই নিজের এলাকার বা কাছাকাছি এলাকার বা আত্মীয়দের অধীনে নেয়ার জন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা চালিয়েছেন এবং ক্ষেত্র বিশেষে সফলও হয়েছেন।

শেখ হাসিনা এবং তার একান্ত পরিষদের এবারের টার্গেট মেজর জেনারেল ওয়াকারকে দ্রুত সেনা প্রধান বানানো। এজন্য একটি সিক্রেট প্ল্যান শুরু হয়েছে। তবে মে জেনারেল ওয়াকারকে সেনাপ্রধান বানাতে হলে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অন্য কাউকে সেনাপ্রধান বানাতে হবে। সেক্ষেত্রটি ইতিমধ্যেই বানিয়ে রেখেছে সরকার।

অনেক সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে জেনারেল আজিজকে সেনাপ্রধান বানানোতে অনেক লে জেনারেল চলে যাওয়ায় মেজর জেনারেলদের মধ্যে দ্রুত ওয়াকারদের স্থান সামনে চলে আসে। কিন্তু এরপরেও ৫ জন লে জেনারেল সামনে থেকে যায়। এই ৫ জন লে জেনারেলদের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ হচ্ছেন লে জেনারেল শফিকুর রহমান, অথচ তাকেই সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কম্যান্ড সিজিএস এর পদের দায়িত্ব দেয়া হয়। লে জেনারেল শফিকুর হচ্ছেন ১১ তম লং কোর্সের। অন্য ৪ জন যথাক্রমে লে জেনারেল মাহফুজ ৫ম লং কোর্সের, লে জেনারেল শেখ মামুন খালেদ ৫ম লং কোর্সের, লে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ৯ম লং কোর্সের এবং লে জেনারেল শামসুর রহমান ১০ লং কোর্সের।

এখন ১১ তম লং কোর্সের লে জেনারেল শফিকুর রহমানকে সেনাপ্রধান বানানো হলে ইজ্জতের খাতিরেই সিনিয়র লে জেনারেলগণ অবসরে চলে যাবেন বলেই সরকারের ধারনা। সেক্ষেত্রে ৫ টি লে জেনারেলের পদই শুন্য হবে এবং মেজর জেনারেল ওয়াকার নির্বিঘ্নে লে জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পাবেন এবং সিজিএস এর পদটি লাভ করবেন এবং এই পদে যিনিই থাকবেন সেনাবাহিনী মুভমেন্টের মুল ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে।

অন্যদিকে সরকার লে জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে সেনাপ্রধান বানালে ওয়াকার সহসাই সেনাপ্রধানের দৌড়ে সামনে আসতে পারবেন না। উল্লেখ্য মেজর জেনারেল ওয়াকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো বোনের স্বামী অর্থাৎ ভগ্নিপতি। এই ভগ্নপতিকেই সেনাপতি বানানোর জন্য সকল আয়োজন। লে জেনারেল শফিক সেনাপ্রধান হলে ১২ তম, ১৩ তম এবং ১৪ তম লং কোর্স থেকেই নতুন লে জেনারেল করা হবে বলে জানা গেছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ১১ তম লং কোর্সের কেউ কেউ কিছুদিনের জন্য লে জেনারেল হতে পারেন যাদের পোস্টিং হবে সেনা কম্যান্ডের বাইরে।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর মধ্যে চীনের প্রভাব আরও বাড়ায় শংকিত হয়ে পড়েছে ভারত। বাংলাদেশে তাদের হাজার হাজার স্লিপার সেল এবং গোয়েন্দা অপারেটিভ সেনানিবাসগুলোতে কিলবিল করছে। এমনও শোনা যায় তারা সেনানিবাসগুলোর আশেপাশে তাদের ফায়ার পাওয়ার তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে তারা পুলিশে নিয়োজিত ভারতীয় এজেন্ট ও ভারতীয় নাগরিক যাদের বাংলাদেশ পুলিশে ঢুকানো হয়েছে তাদের সরাসরি সহায়তা পাবে বলে নিশ্চিত।

এদিকে নেপাল সীমান্তে নেপাল সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছে এবং সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চীন নেপাল সংযোগ সড়কের দ্রুত কাজ সমাপ্ত করছে। ভুটানের বাহিনীর সাথেই চীনের দহরম মহরম ভারতকে ভাবাচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা সবসময়েই বিরাজ করছে। শ্রীলংকা ও মায়ানমার অনেক আগে থেকেই সামরিকভাবে চীনের অধিনস্ত হয়ে গেছে। একমাত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই ভারত তাদের সমর্থনপুষ্ট কম্যান্ড বহাল রাখতে পারছে এখনও। তবে সহসাই তার তিরোধান হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভারত নিজেও জানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারগন সবাই একাধিক প্রশিক্ষন গ্রহন করেন পশ্চিমা দেশগুলোতে, চীনে এবং মুসলিম প্রধান দেশে। যে কারনে ৯৫% অফিসার মানসিক ও পেশাগত কারনেই ভারতীয় বাহিনীগুলোকে প্রতিপক্ষ ভাবতেই অভ্যস্থ। এরসাথে ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং পারিবারিক সংস্কৃতিও সম্পৃক্ত।

সুত্র জানিয়েছে, ভারত হুমকি দিয়েছে যদি জেনারেল আজিজকে সরানো হয় তবে তারা প্রয়োজনে সরকারকেই সরিয়ে দেবে। বিষয়টি সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে শেখ হাসিনা এ ক্ষেত্রে যে কোন অতি সাহসী পদক্ষেপ নিতেও পারেন বলে সুত্র জানিয়েছে।

Facebook Comments

Hits: 332

SHARE