করোনায় কাত মোদী সরকার ইচ্ছে করেই চীনের হাতে নির্মম মার খেয়েছে!

361

শেখনিউজ রিপোর্টঃ প্রশ্ন জেগেছে হঠাৎ করেই চার দশকের নিরাপদ সীমান্তকে উত্তপ্ত করে নিজেদের আত্মহত্যার দিকে নিয়ে গেলো কেন ভারতীয় সেনাবাহিনী? কেনইবা একের পর এক ভুল তথ্য দিয়ে পুরো ভারতকে বিভ্রান্ত করলো বিজেপি সরকার? কেন ১৮৩ জন হতাহতের ঘটনাকে ৩ জন দিয়ে সংবাদ শুরু করেছিল ভারত?

কেঁচো খুঁড়তেই সাপ পাওয়ার মতো ঘটনা। চীনের সাথে সিমান্ত সংঘাত এবং নিজেদের অফিসারসহ সৈন্যদের জীবন হারানোর মতো ঘটনা ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদী তার সরকারকে জাতীয় বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।

যেহেতু চীন বন্ধু রাষ্ট্র নয়, তাই পুরো ঘটনা সাজাতে নিজেদের এই প্রাণহানি ঘটাতে হয়েছে। আর চীন যাতে ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমন না করে সেইজন্য চীনের কোন ক্ষয়ক্ষতি করা হয়নি।

প্রথমদিকে চীন যখন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কয়েক কিলোমিটার দখল করে নেয় তখনও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বা সরকার বা সেনাবাহিনী সেটি স্বীকার করে নাই। এমনকি প্রথমে একবার ধাক্কাধাক্কির ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ হওয়ার পরেও ভারতীয় পক্ষ ইচ্ছেকৃতভাবে যেন ঘটনার পরিনতির দিকেই আগাতে থাকে।

মঙ্গলবার যখন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, তখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তিনজন সৈন্য নিহত হবার কথা বলেছিল। ভারতের সময় রাত সাড়ে ন’টার পর জানা গেল ভারতীয় সেনা বাহিনী বলছে তাদের ২০জন সৈন্য মারা গেছে। কিন্তু ভারতীয় সেনা বাহিনীর তরফ থেকে কখনোই কোন চীনা সৈন্য নিহত বা আহত হবার দাবি করা হয়নি। এমনকি ভারতীয় সেনা বাহিনী কোন মিডিয়া ব্রিফিংও করেনি। কুড়ি জন সৈন্য নিহত হবার খবর তারা দিল্লিতে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতাদের ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছে।

এমনকি তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কেউ নিখোঁজ হওয়ার কথাও দৃঢ়তার সাথে অস্বিকার করে; কিন্তু শুক্রবারেই দেখা যায় চীন ৪ জন ভারতীয় অফিসারসহ ১০ জনকে ফেরত দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই খবর করে যে চীনা সেনা বাহিনীর রেডিও মেসেজগুলো শুনে ধারণা করা হচ্ছে যে চীনের ৪৩জন সৈন্য হতাহত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এএনআই কোন সরকারি বা বেসরকারি সূত্রের উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়।

শেখনিউজ ডট কম তার গোয়েন্দা সুত্রে জানতে পেরেছে হতাহতের ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে এখনও ভারতীয় পক্ষ লুকোচুরি খেলছে। কারন তারা ভেবেছিল মাত্র কয়েকজনের বিনিময়ে একটা জাতীয় ঐক্য হলেই করোনা নিয়ে সরকারের বদনামকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া যাবে।

ভারতীয় পক্ষে মোট নিহত হয়েছে ৩৯ জন, গুরুতর আহত হয়েছে ১১০ জন এবং নিখোঁজ হয়েছে ৩৪ জন। এবং ভারতের এতোবড় একটি সামরিক বিপর্যয় হয়েছে শুধুমাত্র বিনা অস্ত্রের লড়াইয়ে। যে হাতাহাতি লড়াইয়ে ভারতীয়দের ধরে নিয়ে যেতে পারে চীনা সৈন্যরা, সেখানে চীনের বিরুদ্ধে হতাহতের গল্পটা বলিউডের সিনেমার মতো।

উল্লেখ্য, ভারত যখন বাংলাদেশে বুড়িমারী সীমান্তে বিডিআরকে আক্রমন করেছিল, সেদিন ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ২১৩ জন নিহত হয়েছিল; কিন্তু সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল মাত্র ১৩ জনের। সেবার সশস্ত্র যুদ্ধে মারা গেলেও লাদাখে চীনের হাতে মারা পড়লো বিনা অস্ত্রে।

এদিকে করোনার বিপর্যয় এবং আসন্ন অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে চীনের সাথে সংঘাতকে পুঁজি করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে সকল দলের সাথে কনফারেন্স করেছে বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকার। ২০টি দলকে নিয়ে এ দিন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। শুরুতেই লাদাখের পরিস্থিতি তথা গলওয়ানের ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি একগুচ্ছ প্রশ্ন দাঁড় করান।

সোনিয়া জানতে চান, ‘‘কবে চিনা বাহিনী লাদাখে আমাদের এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছিল, ৫ মে, নাকি তার আগে? সরকার কি সীমান্ত এলাকার উপগ্রহ চিত্রের উপর নিয়মিত নজর রাখেনি? এলএসি বরাবর কোনও অস্বাভাবিক কার্যকলাপের খবর কি আমাদের গোয়েন্দারা দেননি? ভারতীয় এলাকায় হোক বা চীনের দিকে, এলএসিতে বড় সৈন্য সমাবেশ যে চীন করেছে, তা কি আমাদের সামরিক গোয়েন্দারা সতর্ক করেননি? সরকার কী মনে করছে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল?’’— শুক্রবারের বৈঠকে মূলত এই প্রশ্নগুলোই তোলেন সোনিয়া গান্ধী। উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্য ‘মাউন্টেন স্ট্রাইক কোর’ নামে যে বাহিনী গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল, সেই বাহিনী এখন কী অবস্থায়? তা-ও কংগ্রেস সভানেত্রী জানতে চান। 

তবে বিজেপির চাওয়াই পূর্ণ হয়েছে, নিজেদের সেনাদের রক্তের উপর সরকার করোনার বেইজ্জতি কাটিয়ে যুদ্ধের নামে জাতীয় ঐক্যের সমর্থন আদায় করে নিয়েছে।

Facebook Comments

Hits: 111

SHARE