বাংলাদেশে সরকার এবং জেনারেলদের দ্বন্দ্বঃ হঠাৎ ভারতীয় খেলার রহস্য-(২)

339

শেখনিউজ রিপোর্টঃ জেনারেল আজিজ আহমেদ সর্বোত্তম আনুগত্য দেখিয়ে সেনাপ্রধানের পদটি অনেক সিনিয়রকে ডিঙ্গিয়ে লাভ করলেও, ইদানিং তাকে সরকার প্রধান বিশ্বস্ত ভাবতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এদিকে ভারত তাকে সেনাপ্রধান হিসেবে রাখতে চাইছে, যে কারনে শেখ হাসিনাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে যেহেতু মে জেনারেল (অব) তারিক সিদ্দিকি জেনারেল আজিজের বিপক্ষে তাই সেনাপ্রধানের চাকরিটি কূটনৈতিক চাকুরীতে পরিবর্তিত হতে পারে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার- পিএসও লে জেনারেল মাহফুজুর রহমান ৩ কোর্স সিনিয়র হওয়া সত্বেও তাকে ডিঙ্গিয়ে জেনারেল আজিজকে সেনাপ্রধান করা হলেও অন্য লে জেনারেলরা অবসর নিয়ে চলে গেলেও তিনি থেকে যান। এমনকি লে জেনারেল মামুন খালেদও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এর কম্যান্ডেন্ট হিসেবে আছেন; তিনিও জেনারেল আজিজের চেয়ে সিনিয়র। জেনারেল মাহফুজ এবং মামুন খালেদ দুজনেই ৫ম লং কোর্সের কমিশন্ড।

এমতাবস্থায় সেনাবাহিনীতে ২য় পদ হিসেবে বিবেচিত চিফ অব জেনারেল স্টাফ- সিজিএস হিসেবে আছেন এক সময়ের এসএসএফ প্রধান লে জেনারেল শফিকুর রহমান যিনি ১১ তম লং কোর্সের কমিশন্ড। যিনি সেনাপ্রধান হওয়ার দৌড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

তবে অন্য দুইজনের মধ্যে লে জেনারেল শামসুল হক ১০ তম লং কোর্সের এবং লে জেনারেল সাফিউদ্দিন আহমেদ ৯ম লং কোর্সের কমিশন্ড। সে ক্ষেত্রে সরকার যদি লে জেনারেল শফিকুর রহমানকে সেনাপ্রধান করে তবে সেনাবাহিনীতে আবারো চেইন অব কম্যান্ড লঙ্ঘন করে অলিখিত উস্কানি দেয়া হবে, যেটি ভারত চাইছে।

তবে কেউ কেউ ঘরের ছেলে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মুস্তাফিজের জামাতা মেজর জেনারেল ওয়াকারকে লম্বা প্রমোশন দিয়ে সবাইকে ডিঙ্গিয়ে সেনাপ্রধান করার কথাও চিন্তা করছেন। মে জেনারেল ওয়াকার ১৩ তম লং কোর্সের এবং তিনি সেনা সদরে মিলিটারি সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত আছেন। যদিও এ প্রচারনার সপক্ষে কোন শক্ত তথ্য নেই।

প্রধানমন্ত্রী এখন জেনারেল আজিজ এর প্রতি রুষ্ট বলে সুত্র জানিয়েছে; যদিও ভারত জেনারেল আজিজকেই চায়। তবে কেউ কেউ এটাও বলেন বাঘে ধরলে ছারলেও, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। জেনারেল আজিজ করোনায় ইমারজেন্সি দিয়ে কারফিউ জারির প্রস্তাব করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায় এবং এতে মে জেনারেল তারিক সিদ্দিকি সন্দেহের বীজ বপন করলে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জেনারেলদের পক্ষ থেকে তা অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এই এড়িয়ে যাওয়া এইবার প্রথম নয়। মরহুম জেনারেল এরশাদকে সামরিক মর্যাদায় দাফন না করার সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাকে সামরিক মর্যাদায় দাফনে সরকার প্রধান এমনিতেই জেনারেল আজিজের উপর ক্ষিপ্ত রয়েছেন আর সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছেন মে জেনারেল (অব) তারিক সিদ্দিকি। আর RAW এর বিক্ষিপ্ত প্রচারনা যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চেইন অব কম্যান্ডকে বিপন্ন করার জন্য চলছে; তাতো রয়েছেই।

তবে পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতু সেনাবাহিনী হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী; যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আনসার ব্যাটালিয়ন এর সদস্যরাও যুদ্ধ করতে ভয় পায় না, সেই ভারতের জন্য হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সমর্থন যা তাদের সাপ্লাই লাইনকে নিরাপত্তা দেবে, না হয় ভারতের অক্সিলিয়ারি বাহিনী হিসেবে কাজ করবে; এই প্রত্যাশায় RAW তাদের প্ল্যান নিয়ে আগাচ্ছে।

Facebook Comments

Hits: 272

SHARE