কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কি আটক এমপি পাপলুর সহযোগী?

205

শেখনিউজ রিপোর্টঃ কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দক্ষিন চট্টগ্রামের লোকাল আওয়ামী নেতা এম এম আবুল কালামের আজগুবি ভিডিও বার্তা এবং বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের হুমকি দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তার নিয়োগ এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে। এই রাষ্ট্রদূত কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী যিনি টাকার বিনিময়ে দেশে স্ত্রীসহ এমপি হয়েছিলেন সেই পাপলুর সহযোগী বলে কুয়েত প্রবাসীদের অভিমত।

এমনকি পাপলুর মাধ্যমে নিজের এলাকার কিছু লোকজনকে ৫-৭ লাখ টাকার বিনিময়ে কুয়েতে এনে বিপুল টাকা কামাই করেছেন। যে কারনে তিনিও চাপের মধ্যে রয়েছেন। জানা গেছে কূটনৈতিক ইমিউনিটি না থাকলে কুয়েত সরকার তাকেও গ্রেপ্তার করতো বলে প্রবাসীদের অভিমত। কুয়েত প্রবাসীদের অভিযোগ বিনা ভোটে টাকার বিনিময়ে স্ত্রীসহ এমপি হওয়া কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলর গোপন ব্যবসায়িক অংশীদার এই রাজনৈতিক রাষ্ট্রদূত।

এস এম আবুল কালাম কোন ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট নন। লোকাল কোন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কোন বিখ্যাত কেউ ছিলেন না তিনি। তিনি ছিলেন সাবেক এক আয়ুর্বেদ ডিপ্লমাধারি আওয়ামী লিগার; তিনি ইউনানি ও আয়ুর্বেদ বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। ছিলেন দক্ষিন জেলা চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি। এমন একজন মানুষকে কেন কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল সেটি তদন্তের দাবি উঠেছে।

আবুল কালাম ২০১৬ সালে কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হন এবং ঐ বছর ২০১৬ সালে কুয়েত থেকে লক্ষ্মীপুরে আবির্ভূত হন কাজী পাপুল। উল্লেখ্য এই রাষ্ট্রদূত আর পাপলু উভয়ের বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। তবে রাষ্ট্রদূতের কন্যা পাপলুর কোম্পানিতে ৬০০ দিনারের বেতনে চাকুরী করতেন বলে কুয়েত প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

কথিত সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল এখন কুয়েত সিআইডির পুনঃ রিমান্ডে রয়েছেন। ক্ষুব্ধ বাংলাদেশীরা পাপলু ও রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পাপলু তার কর্মীদের ৭০ দিনারের পরিবর্তে ৩০ দিনার বেতন দিতেন। ৬-৭ লাখ টাকা নিতেন বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে আদম নিতে। নবায়ন করতেও নিতেন ৩০০ দিনার। কুয়েত সরকার এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত; তবে তিনি কার পক্ষে দালালি করে এই বার্তা ছেড়েছেন তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারো। তার এই ভিডিও বার্তাকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন বলে অভিমত দিয়েছেন প্রবাসী জনগোষ্ঠী।

কুয়েতে বাংলাদেশী প্রবাসীরা দেশের সুনাম রক্ষার্থে অবিলম্বে রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামকে প্রত্যাহার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। এদিকে গ্রেপ্তার ও তদন্তের মুখে থাকা বাংলাদেশী এমপি শহীদুল ইসলাম পাপুল, কুয়েতের সিআইডির কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন! সুবিধা আাদায়ের লক্ষ্যে, কুয়েতে ৩ জন উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিকে ১ মিলিয়ন দিনার দিয়েছিল। ৩ জনের নাম ও বলেছেন। কুয়েতের আদালতে পাপুলের আইনজীবী, যেকোনো গ্যারান্টি দিয়ে পাপুলের জামিন নিতে আদালতের কাছে আর্জি জানান, কিন্তু আদালত তা নাকচ করে!

এদিকে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে কুয়েতের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে সামরিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক; সেই সম্পর্কের মধ্যে এমন একজন বেপারী মনোবৃত্তির রাষ্ট্রদূত কতটুকু সাফল্য এনেছে তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কুয়েতে সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কাউকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়া বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক বলে তারা মনে করেন।

Facebook Comments

Hits: 120

SHARE