ভারতঃ ভেতরে চীনা ভাইরাস, বাইরে চীনা সৈন্য দিয়ে ঘেরাও

174

আবু জাফর মাহমুদঃ ভারত ভেতর ও বাহির থেকে আক্রান্ত। একদিকে করোনায় লাখ লাখ অসুস্থ, মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি অপ্রতিরোধ্য গতিতে। ওদিকে চীনা সৈন্যেরা ড্রাগনের আদলে আবির্ভূত ভারতীয় সীমান্ত ঘিরে। চীনের লাদাখ থেকে অরূণাচল পর্যন্ত প্রায় ২২০০ মাইল জুড়ে ১কোটি সৈন্য দাঁড় করিয়েছে। বার্মিজ সৈন্যেরা নাগাল্যান্ডে ঢুকে তচনছ করে গেল, নেপালি পুলিশ এখন ভারতীয়দের গুলি করে মারছে।যেরকম ভারতীয় বিএস এফ এতোদিন বাংলাদেশ সীমান্তে করে আসছে।

চীনা ভয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা কাঁপছে এখন বেহুঁশের মতো। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষার অনুরোধ অনুনয়ে মেনে নিচ্ছে চীনাদের দৃঢ়তা। নো চয়েস! বিজেপি সরকার রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে ভয়ে আগ্রাসনে রেখেছে নিজ দেশের নাগরিকদেরকে। চীনা সৈন্যেরা শুধু শুরু করেছে সীমান্তে অবস্থান নেয়া। কতো ভাইরাস যে চীনারা তৈরী করে আক্রমণের জন্যে রেডি রেখেছে বলা খুবই মুস্কিল। চীনারা হুমকি দেয়নি। কেবল নিচ্ছে অবস্থান।

এদিকে ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ছুঁইছুঁই অবস্থা; যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ হিসেব হচ্ছে ১৩৮ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৫৬ লাখ লোকের টেস্টের হিসেবে; পুরো জাতির হিসেব এলে তা হবে কত কোটি তা ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানে না।

ভারতে টেস্ট এর হিসেবে ১ জুন থেকে ১৩ জুন অর্থাৎ মাত্র ১৩ দিনেই ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৩ হাজার ৬৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।মোট মৃত্যুর ৪১.১৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে এই ১৩ দিনেই। বিশ্বনেতাদের কাতারে উঠে এসেছে করোনায় আক্রান্ত ভারত। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো ভয়াবহতার আলামত স্পষ্ট।দেশটির মহারাষ্ট্র রাজ্যেই ১ লাখ ১ হাজার ১৪১ হন আক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৭১৭ জন মারা গেছে। রূপ রঙ ও যৌনতার বন্দর মুম্বাই পুরোটাই ভাইরাসের চুম্বনে হয়েছে ক্ষত বিক্ষত।রাজ্যটিতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩ হাজার ৪৯৩ জন আক্রান্ত এবং ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।আ ক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য এগিয়ে রয়েছে।

এমতাবস্থায় ভারত ও চীন নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করতে পারবে বলে করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে।দু’দেশের সীমান্তে আপাততঃ শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। অথচ সীমান্তের তিন দিক পাকিস্তান, বার্মা ও নেপাল সীমান্তে দিনরাত উভয় পক্ষের গুলি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। লাদাখ সীমান্ত থেকে অরূনাচল পর্যন্ত প্রায় ২২০০ মাইল ১ মিলিয়ন চীনা সেনা ভারত ঘিরে ফেলেছে। সীমান্তের পাশেই সম্পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে প্রচুর যুদ্ধবিমান জরুরী ওঠানামার ব্যবস্থা নিশ্চিত চলছে। অক্ষম দুর্বলের কাছে শান্তির সংজ্ঞাও যোদ্ধার বিবেচনার তুলনায় আলাদা, নিঃসন্দেহে।

ভারসাম্যহীন অবস্থায় যুদ্ধে না থাকাটাও ভালো কৌশল হতে পারে ভারতীয় সেনাদের।যাহোক, তারাই বোঝেন প্রকৃত অবস্থা। সাম্প্রতিক লেঃ জেনারেল পর্যায়ে বৈঠকে ভারতের অনুনয় অনুরোধের পর চীনারা দুর্বল প্রতিপক্ষের প্রতি দয়া দেখিয়েছে এবং নিজেদের প্রস্তুতির জন্যে সময় আয় করেছে। পেছনে যাবার কথা দিয়ে কথা রেখেছে। দখলকরা ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৫কিলোমিটার পেছনে গিয়েছে। ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১৩টির বেশী পাহাড় নতুন করে দখলে নিয়ে রেখে দিয়েছে চীন। ওরা এসব পাহাড়ে সামরিক কৌশলগত সুরঙ্গসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গড়ছে।

ভারতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কাশ্মীরকে ভারতের অংশ করে নেয়াসহ নানা ইস্যুতে উত্তক্ত করার পর মে মাসের শুরু থেকে প্রতিক্রিয়া চালু হয়। পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকায় ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখী উত্তেজনা প্রকাশ পেতে থাকে। চীন প্রভাবিত বার্মা সেনারা ভারতে ভারতীয় সীমান্তের প্রায় ২০ মাইল ভেতরে এসে তাদের আগ্রাসী তৎপরতা দেখিয়ে গেছে। নেপালের গুর্খারা আঙ্গুল সোজা করেছে ভারতীয় বাহিনীর দিকে। নেপাল পার্লামেণ্ট ভারতীয় সরকারকে নেপালের প্রদেশ ছেড়ে দিতে ছাপ কথা জানিয়ে দিয়েছে। কাস্মীরকে ভারতের অংশ করায় পাকিস্তানও চীনের সাথে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে যুক্ত হয়ে আছে। ভারতের পক্ষ থেকে চীনের দুনিয়া কাঁপানো প্রস্তুতি সম্পর্কে কোন কিছু না জেনেই এই বিশ্ব ড্রাগনের কানে চিমটি কাটতে গেছে।

চীন আক্রমণ না করে এখনো প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তাদের লক্ষ্য সম্ভবতঃ চূড়ান্ত লড়াই এবং সম্পূর্ণ ভারত দখল অথবা ধবংস। তাই বিচক্ষণতা অথবা বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অথবা ভাগ্য গণনা করার যে কোনটাই করতে পারেন ভারতের নীতি নির্ধারকরা।

যে চীন সাগর মহাসাগরের তলদেশের পাথর ও মাটির নীচে ১৬০টির বেশী গোপন সামরিক বেইজ গড়ে চুপ করে আছে। এরা সারা দুনিয়ার আক্রমন থেকে আত্নরক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নিয়ে চলেছে। লম্ফ ঝম্ফ না করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান প্রকাশ্যে চীনা বাহিনীর দখলদারিত্বের প্রসঙ্গে না গিয়ে কেনো সব ঠিক আছে, কোন উত্তেজনা নেই বলে সংবাদ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কেন ঝিমুচ্ছেন? কেনো রাহুল গান্ধী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বোবা থাকার ভান করেন; তার বাস্তবতাতো অবশ্যই আছে। বিজেপি আর.এস.এস এতোদিন ধরে সরকার চালাচ্ছে মুসলমান বিদ্বেষ, দরিদ্রদের প্রতি জাত-বিদ্বেষ টার্গেট করে।

ভারতের নিরাপত্তা্র জন্যে যে স্থিতিশীল আভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নিরাপদ প্রতিবেশী-সম্পর্ক থাকা দরকার,তা র সবটুকু তারা হারিয়েছেন সম্প্রসারণ আকাংখার চাপে। ভারতের বিজেপির দুর্দশা এতো ভয়াল যে, আসন্ন বিপদে তারা কোন মিত্র নাও পেতে পারে।

বহু জাতি ও ১৫টি দেশের একত্রিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন অস্তিত্ব হারিয়েছে সমাজতান্ত্রিক নেতাদের নিজস্ব অযোগ্যতা ও অক্ষমতা সম্পর্কে উদাসীন থাকায় ও নিজেকে দুনিয়ার শাসক ও সম্রাট ভাবতে গিয়ে। ভারতীয় পুঁজিপতিরা তাদের প্রশংসনীয় সক্ষমতায় দারুন অগ্রসর নিঃসন্দেহে। তবে গবেষকদের অভিমত ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভয়ানক উদাসীন তাদের নিজ যোগ্যতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে। ভারতীয় রাজনীতি চরম অক্ষম ভারতীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং সম্পূর্ণ ব্যর্থ নাগরিক নিরাপত্তা দিতে। ভারতীয় সমাজকে তারা বিভক্ত করেছে পারস্পরিক বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, হত্যা ও জুলুমের রাজনীতি দিয়ে।

তাই ভারতীয় আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধ পক্ষ ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছে,”সীমান্তে চীন ও তার মিত্র বাহিনী এবং অভ্যন্তরে চীনা করোনা”- কিছু না বললেও এই মহাশক্তির ভয়ে বস্তুত ধরকম্পমান ভারতীয় নেতৃত্ব এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা।

Facebook Comments

Hits: 86

SHARE