ট্রাম্পের মতিগতিতে পেণ্টাগনের উদ্বেগ!

122

আবু জাফর মাহমুদ: বিক্ষোভ দমনে প্রেসিডেণ্টের চূড়ান্ত বলপ্রয়োগের মন্তব্যে পেন্টাগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের পাশবিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমেরিকাব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ বলপূর্বক দমনের নির্দেশ দেয়ার পর এবার বিক্ষোভকারী দের ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে লড়াই করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন এমনকি সেনা মোতায়েনের ও হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষ করে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের বিষয়ে পেন্টাগন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্প গত সোমবার বলেছেন, নগর কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রাদেশিক কর্মকর্তারা যদি জনগণের জান মাল রক্ষায় পদক্ষেপ না নেয় তাহলে তিনি ১৮০৭ সালে গৃহীত আইন অনুযায়ী বিক্ষোভ দমনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। এর মানে হলো তিনি বিক্ষোভ দমনে আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে সেনা মোতায়েন করবেন। গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে আমেরিকার জন্য এটা হবে নজিরবিহীন একটি ঘটনা।

২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। প্রকাশ্যে শহরের রাস্তায় ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে ফ্লয়েডকে হত্যা করে ৪৪ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার দেরেক। দেরেককে গ্রেপ্তার করা হলেও মাত্র ৫০০ ডলারের জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে আমেরিকা জুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে ২০ হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতা মোকাবেলায় কমপক্ষে ২৮টি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ওয়াশিংটনে সেখানকার জাতীয় গার্ড বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে আমেরিকায় ৯ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।এদের মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই হাজার ৭০০ এবং নিউইয়র্কে দেড় হাজার বিক্ষোভকারী রয়েছেন।

বিক্ষোভ থামাতে অধিকাংশ শহরে কারফিউ দিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। কারফিউ ভেঙে চলছে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ। এরইমধ্যে দেশটিতে পুলিশের গুলিতে অন্তত দুই বিক্ষোভকারী নিহত এবং চার পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে।

বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক কেটিএলএ টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রুশ বার্তাসংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর যারা বিক্ষোভে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে শিকাগো, ডেট্রয়েট, ওমাহা, ডেভেনপোর্ট, ওকল্যান্ড, ল্যুইভিলের বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই আফ্রিকান-আমেরিকান।

কেটিএলএ টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ওকল্যান্ডে ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস অফিসার ৫৩ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ ডেভ প্যাট্রিক আন্ডারউড গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এসময় আরেকজন অফিসার গুরুতর আহত হন। ওমাহায় ২২ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জেমস স্কারলক নিহত হয়েছেন।

তিনি ও তার দল একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে মারধর করছিলেন। এসময় ওই ব্যক্তি স্কারলককে লক্ষ্য করে গুলি করলে তার মৃত্যু হয়।এছাড়া,বিক্ষোভে সহিংসতায় কয়েকশ’ মানুষ আহত হলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীরা যখন “OUR LIVES MATTER”শ্লোগান সম্বলিত প্লেগার্ড হাতে নিজেদেরকে রক্ষার অধিকারের কথা মনে করে দিচ্ছেন প্রশাসনকে। রাজ্যে রাজ্যে রাস্তায় নেমে অন্ধ প্রশাসনগুলোকে কান খুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন।গুপ্তচর নামিয়ে ভাড়াকরা গুন্ডাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পরিস্থিতি তুলছে বেসামাল করে।বিক্ষোভকারীরা এরকম অনেক বদমায়েশদের পুলিশের হাতে তুলেও দিচ্ছেন।

কারফিউ চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে হাজার দোকানপাট লুটতরাজ করার ঘটনাঘটেছে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে। এভাবে হয়েছে অনেক যায়গায়। অস্ত্রের দোকানে ক্রেতার লাইন পড়ছে গ্রোসারী দোকানের চেয়ে দীর্ঘ। সুতরাং হোয়াইট হাউসে বসানো অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী রাজা যেদিকে আমেরিকাকে ঠেলে দিতে চলেছেন সেদিকে আমেরিকা যেতে পারে কি?

নিজে ক্ষমতায় না থাকতে পারলে আমেরিকাকেও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গাচুরার পরিণতি সহজ নয়। প্রেসিডেণ্ট আসবে যা্বে,আমেরিকা মাথা উঁচু করেই থাকবে এটাই নাগরিকদের বিশ্বাস। তারা মনে করেন একজন ব্যক্তির গোপন ইচ্ছার কাছে পেন্টাগন এবং সারা আমেরিকা অবশ্যই অবনত হবেনা। চিন্তা চেতনার এই সংঘাতের মধ্যে সমস্বরে ধ্বনিত হবে আমরা আমেরিকাকে ভালবাসি- We Love America!

Facebook Comments

Hits: 57

SHARE