আমিই জর্জ ফ্লয়েড…….

98

আবু জাফর মাহমুদ: আমিই জর্জ ফ্লয়েড। তোমরা আমাকেই করেছো খুন। কৃষ্ণাংগ কি সাদা, গোলাপী কি তামাটে ওদিকে আমার নজর নয় আজ। আমি মানুষ। স্রষ্টার সযত্নে অতূলনীয় ভালবাসার প্রমাণ এই মানুষ আমি। একজন মানুষ হত্যা করে মানব জাতিকে করেছো হত্যা। আমেরিকা নাকি ইওরোপ, জার্মান নাকি ভারত, শ্রীলংকা নাকি বাংলাদেশ আমার কাছে কোন ভেদাভেদ অনুভবে দেখিনি। বুঝেছি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সাজাবার প্রয়োজনে অপমান করা চলছে মানবতার। যে প্রাণ তোমরা সৃষ্টি করতে পারোনা, তা তোমরা মেরে ফেলছো রাজনীতি খেলার দরকারে।

যে প্রাণের যত্ন নেবার দায়িত্ব তোমাদের। সে দায়িত্ব পালন অস্বীকার করছো। দানবের হয়ে মানবিক সকল শিক্ষা ও জ্ঞান দলনের পৈশাচিক পথকে নিজের পথ করেছো। বর্ণ-বিদ্বেষ ও ধর্ম-বিদ্বেষ ছড়িয়ে রক্তাক্ত করে চলেছো আমেরিকা থেকে ভারত পর্যন্ত, চীন থেকে প্যালেষ্টাইন পর্যন্ত। মিশর ইরাক আফগানিস্তান–যেখানেই তোমার দখল দরকার সম্পদ কেড়ে নিতে।

পরিস্থিতি গড়েছো বর্বরতার। ভাইরাস অস্ত্র বাতাসে ছেড়ে দিয়ে মারছো মানুষ অকাতরে, বেহিসেবে। এটি কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়?ভারতে মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুকে নামিয়েছো।এখন আমেরিকায় কালো সহ অপরাপরদের বিরুদ্ধে সাদাদের বিদ্বেষ এভাবে সেভাবে করেছো ঘনীভূত। সাদা পুলিশ দিয়ে কালো নিরস্ত্র মানুষকে খুন করিয়ে উৎসব করছো উম্মাতাল নেশায়। পৃথিবী জানে এটি অসভ্য যুগীয় রাজনীতি। এক রাষ্ট্রনেতা দেশকে ভালোবাসার অজুহাত দেখিয়ে আবর্জনার মত করে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষরা ইহুদী হবার অপরাধে। চরম ঘৃণ্য কাজ।

এখন ইহুদীদের কেউ হিটলারের পদাংক অনুসরণ করছো? তা কেউ করোনা। এ পাপ বাপরেও ছাড়েনি। লোভ করো তাতে সীমাও রেখো নিজের প্রয়োজনে। এতো অন্ধ হয়েছো আপসোস করতে হচ্ছে তোমাদের পরিণতির জন্যে। তোমাদের মঙ্গল চাই। সব সময় চাই তোমাদের যোগ্যতাগুলো অসাধারণ বলে। অন্ধ এক রোখার প্রতিপক্ষ দরকার হয়না তার ক্ষতির জন্যে। কেননা সেতো নিজেই নিজের নির্মূলের জন্যে যথেষ্ট।

আমেরিকা সব আমেরিকান নাগরিকের। একে রক্ষার শপথ আমাদের সকলের। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার প্রতিশোধের ভাব দেখিয়ে দুনিয়ার চিহ্নিত বিশ্বাসঘাতকরা আমেরিকার ক্ষতি করতেইতো পারে। তাই সংকল্প থাকুক, আমেরিকাকে টিকিয়ে রাখার। যা সব নাগরিকের শপথ হয় নাগরিকত্ব নেয়ার দিনে। শপথ রক্ষা অনেকে করেন। কেউ কেউ করেনা।

তবে আমেরিকা রক্ষার শপথের একতার ঢেউ আসছে রাস্তায় বিক্ষোভে। এই একতা গণতন্ত্রের। এই একতা জনতার শক্তির। সকল বর্নের জাতের মানুষের দৃঢ় ঐক্যের জোয়াড়ের। শান্তির লক্ষ্যে একতার এই উত্তাপ বর্ণগত দাঙ্গার ঝোঁক রুখে দেবে।আমেরিকায় গণতন্ত্র ও মানবতা রক্ষা করবে। এই লক্ষ্যে শর্ত আছে, জনতার সাথে চাই কর্পোরেটদের হ্যান্ডশেক।

এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশী শহরে বিক্ষোভ হয়েছে ন্যায় বিচারের দাবিতে। কারফিউ, ১৪৪ধারা মানছেনা মানুষ। সবাই ভাবছে আমিই জর্জ ফ্লয়েড। সবচেয়ে ধনীরা ভয় ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস বাতাসে ছিটিয়ে। অদৃশ্য এ শত্রুর হাতে সাধারণ মানুষদেরকে মৃত্যুর নৃসংসতায় তুলে দেয়া দেখে বোবা হয়ে গেছে বিশ্ব।

ট্রাম্প বলেছেন, মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হওয়ায় আমেরিকার সম্মান নাকি বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন,এক কোটি মানুষ মরলে, তাতে বুঝা যাবে তিনি কিছু কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে এক কোটি ছাড়িয়ে নভেম্বর পর্যন্ত হয়তো হবে দেড় কোটি। ট্রাম্প তখন হয়তো বলবেন, “আমিই চ্যাম্পিয়ান”। আমেরিকার সম্মান সর্বোচ্চে হয়েছে স্থায়ী। মানুষ মরেছে আমাদের সম্মান বেড়েছে। তাই পদ ছাড়বোনা, আমি আবার প্রেসিডেণ্ট।

দুনিয়ার সর্বোচ্চ ধনীদের ডিপপুলেশন প্রোগ্রাম বা জনসংখ্যা কমানোর অভিযানে ভীত হয়েছে মানুষ। এই ভয় কার্যকর করা চলছে দেশে দেশে সারা বিশ্বে। ট্রাম্প বলেই চলেছেন তিনি আমেরিকাকে আবার গ্রেট করবেন। হে প্রেসিডেন্ট, আমেরিকাকে সবাই স্বীকার করছেন গ্রেটেষ্ট বলে। সবচেয়ে ধনশালী ও ক্ষমতাধর পরাক্রমশালী তো আমেরিকা আছেই, প্রেসিডেন্ট।

পুলিশ এভাবে কারো সঙ্গে নির্মম আচরণ করতে পারে না। সেই সঙ্গে আমেরিকায় বসবাসরত সকল কৃষ্ণাঙ্গের ওপর এ ধরনের নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে আমেরিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংসতা আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে পুলিশের গুলিতে ২০১৯ সালে মারা গেছে এক হাজারের বেশি মানুষ।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে,পুলিশের গুলিতে নিহতদের মধ্যে তুলনা মূলকভাবে বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স নামে একটি বেসরকারি সংস্থার চালানো জরিপে দাবি করা হয়েছে যে, আমেরিকায় পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি মারা যায় কৃষ্ণাঙ্গরা।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা আমেরিকার নির্বাচন এবং করোনা ভাইরাসে মানুষ মেরে জনসংখ্যা হ্রাস করার পক্ষদের মরণ কামড় দেয়ার একধরণের যুদ্ধে ঢুকেছে আমেরিকা। তারই প্রতিক্রিয়া আসছে এসব সাম্প্রতিক ঘটনায়। তাই বিশ্বের তাবত পরিস্থিতি দেখে নিজেকে ভাবছি একজন জর্জ ফ্লয়েড, আর ফ্লয়েডের মতই অনুভব করছি, আমি শ্বাস নিতে পারছি না।

Facebook Comments

Hits: 43

SHARE