সম্পাদকীয়ঃ করোনা নিয়ে রাজনৈতিক ফাঁদ ও ফায়দা

102

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ বিশ্বব্যাপী যেখানে করোনা ভাইরাসে নিজ নিজ দেশের সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে, সেখানে বাংলাদেশ নামের দেশটির আজব সরকার জনগণকে ফুর্তি করতে সাধারন ছুটি ঘোষণা করেছে। আর ছুটির আমেজেই জনতা করোনা নামের ভাইরাসটি বরণ করে নিচ্ছে একের পর এক। এখানে পুরো জাতির বিরুদ্ধে এটি একটি সরকারী রাজনৈতিক সহিংসতা বলেই অনেকের ধারণা।

একদিকে ছুটি নামের ঘোষণা অন্যদিকে পুলিশ মিলিটারি দিয়ে লোকজনকে ঘরের বাইরে বের না হবার জন্য লাঠিপেটা এটিও রাজনৈতিক ফাঁদ বলেই অনেকের কাছে অনুমিত। শুধু তাই নয় গরীব মানুষকে একপ্রকার গণহত্যার দিকে ঠেলে দিতে একের পর এক শ্রমিকদের ঢাকা নিয়ে আসা আবার ফেরত পাঠানোর মতো বিকৃত তামাশাও দেখছে জাতি। পুরনো সভ্যতায় গ্ল্যাডিয়েটরদের যে যুদ্ধ মানুষ দেখে আপ্লূত হতো, সেই বিকৃত মানসিকতার মতো রাজনৈতিক ও ধনিক শ্রেনি আজ শ্রমিকদের নিয়ে খেলা দেখছে।

একদিকে সরকারের প্রণোদনা নামের ত্রাণও ধনিক শিল্পপতিরা নেবে আবার কলকারখানা খোলা রাখার নামে শ্রমিক হত্যায় নামবে, এটাই চরিত্র। শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে না পারলে রাষ্ট্র তার বিকল্প নেবে। জনগন ট্যাক্স প্রদান করে কি শুধুই সরকারে থেকে জনগনের প্রতি ষ্টীম রোলার চালাতে যাতে সুবিধা হয় সে জন্য?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জনগন এ পর্যন্ত ট্যাক্স দিয়েছে কিন্তু কয়েকমাস মাত্র কিছু জনগণকে খাওয়ানোর মতো সক্ষমতা যদি সেই রাষ্ট্রের না থাকে তবে সে সরকার নিজেকে অযোগ্য ঘোষণা দেয় না কেন? এই সক্ষমতাহীন সরকার ও রাষ্ট্র নিজেইতো দেউলিয়া! আর দেউলিয়াদের এতো দাপট কেন? এতো নির্লজ্জ কেন এরা?

৭০০ কোটি মানুষের কথা বাদই দিলাম, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এমন রাজনীতি গড়ে উঠেছে যে, এই মহা দুর্যোগে রাজনৈতিক নেতারা ত্রানের চাল চুরি করে, তেল চুরি করে, এদেরকে জনতার হাতে ছেড়ে দেয়া হয়না কেন? এইযে যারা ত্রাণ চুরি করছে এরা কি রাজাকার আলবদরের চেয়ে এক তিল পরিমাণও ভালো? অবশ্যই নয়। এদের বিচার জনগনের হাতে তুলে দিলে জনগন তাঁদের আদালতে বিচার করে শাস্তি তারাই দিলে আর দ্বিতীয় কোন ত্রাণচোর রাজনীতিতে পয়দা হতো না। এই সময়ে যেই দুর্নীতি করবে তাকেও জনতার হাতে তুলে না দিলে এদেশ কখনই আর সঠিক পথে চলার সম্ভাবনা নেই।

বলবেন জনতা আইন হাতে তুলে নেবে কেন? ক্রসফায়ার আর গুম যদি চলতে পারে তবে দেশের মালিক জনগনের হাতে কেউ শাস্তি পেলে তা অবৈধ হবে কেন? রাজনৈতিক নেতা আর রাষ্ট্রের কামলারা কোন ক্ষেতের মূলী যে তাদের জনগনের চেয়েও জনগনের স্বার্থের চেয়েও বেশী মূল্যায়ন করতে হবে?

প্রশ্ন হল জাতি যখন তাদের এই দুর্যোগে ছেঁচড়া রাজনীতির লোকজন আর ঘুষখোরদের বিপরিতে দেশব্যাপি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তার প্রত্যাশা করছিল তখন এই সকল দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিকদের এতো দুঃসাহস হয় কিভাবে জনগনের ইচ্ছেকে পদদলিত করতে? যদিও দ্রুত টেস্ট করার কিট আবিস্কার করলেও সেটি পরীক্ষায় না দিয়ে ফাঁদ বানিয়ে অন্যদেশের পচা মাল এনে বেচার ফায়দা নেয়া যাদের স্বভাব তারা এইসকল ইচ্ছা আর সেনাবাহিনীকে পকেটে রাখতেও পটু।

এই রাজনৈতিক ধূর্তরা সবসময়ই গণইচ্ছাকে পদদলিত করতেই অভ্যস্থ আর দুর্ভাগা জনতা পদদলিত হতেই অভ্যস্থ এদের রক্ষা করতে গিয়ে কেউ এগিয়ে এলেও জনতা তাদের কোনভাবেই সাধুবাদ দেবে না। আবার জনতা দুর্নীতিবাজদেরই সাদরে অভ্যর্থনা দিয়ে সেবকের পরিবর্তে মালিক বানিয়ে দেবে। সেই দেশে করোনার মতো ভাইরাস সব সময়েই রাজনৈতিক ফাঁদ হয়ে থাকবে। আর এই ফাঁদে রাজনৈতিক ফায়দাও থাকবে। তা এই রাষ্ট্র যত বড় দেউলিয়া হোক, যত বড় দেউলিয়া হোক এর বিরোধী রাজনীতির প্রতিষ্ঠানগুলো।

জনগনের করোনা টেস্ট যেন সরকার ইচ্ছে করেই কম করছে। কিন্তু একবারও তারা ভাবছে না, করোনার ভয়াবহতা জনগনের সামনে এলে এমনিতেই তারা সচেতন হয়ে যাবে। এ পর্যন্ত প্রায় ১১% মানুষ বাংলাদেশে সংক্রমিত। সে হিসেবে প্রায় ২ কোটি নাগরিকের করোনা হয়েছে। চিকিৎসকদের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু চিকিৎসক আবার সরকারের সাথে মিলে রাজনৈতিক ফায়দা নিচ্ছেন। যেমন চিনের রদ্দি মান এনে স্বাস্থ্য খাতকে ধংস করে নিজেরা ফায়দা লুটছে সরকারী রাজনৈতিক লোক, প্রশাসনিক লোকজন এবং আর অন্যরা। দেখার কেউ নেই।

মিডিয়ার কথা বলে আর নিজেরাই লজ্জিত হতে চাই না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারী প্রশ্রয়ে ধনিক বনে যাওয়া গোষ্ঠীর হাতে মালিকানা থাকায় সাংবাদিকেরা এখন শুধুই চাকুরী করে; তাই সরকারী ফাঁদে বসেই ফায়দা নেয়া ছাড়া সংবাদ কর্মীদেরও কিছু করার নেই। তবে যারা আত্মবিক্রীত হতে পারেন নাই; তাদের অবস্থা এই করোনাকালে সাধারন ত্রাণ নেয়া মানুষের চেয়েও অনেক কষ্টের। যা দেখার মত কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই নেই।

শেষবারে বলা যায় আর কত নিন্দাচর্চা করতে হবে তা বলার অবকাশ নেই। তবে কেবলমাত্র ভবিষ্যতই নির্ধারণ করবে এ জাতির ভাগ্য! আর কর্মফলই ঘুরে ফিরে ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রন করে।

Facebook Comments

Hits: 57

SHARE