করোনা ভাইরাস রহস্য- ৫: এলিয়েন লিঙ্ক

143

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে আজকের লেখার শিরোনাম দেখে। ফালতু মনে হবে। কিন্তু কোন কিছুই এককথায় ঠেলে দেয়ার মানুষ আমি নই। রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) কে যখন সিনা পরিস্কার করা হয়েছিল দুই দুই বার সেটা ভেবে কি কারো চোখ কপালে উঠেছিল? হেরা গুহায় তাঁকে এমন একজন এসে জ্ঞান ট্রান্সফার করেছিলেন অন্তত আর যাই হোক তিনি মানুষ ছিলেন না।

আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে সাধারন মানুষরা এই কাজগুলোকে ফেরেশতাদের কাজ হিসেবে বর্ণনা করি; যে ফেরেশতাদের দেখা যায় না; কিন্তু তারা আমাদের দেখেন। কিভাবে দেখেন? কারন তারা মাল্টি ডাইমেনশনাল আর মানুষ হচ্ছে থ্রি ডাইমেনশনাল। আর সব মানুষের জ্ঞান এক রকম না বিধায় আমরা সবাই সবকিছু চাইলেই একভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হব না। কোরআনেও বিভিন্ন বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা আলাদা করে জ্ঞানীদের বর্ণনা দিয়েছেন যারা ঐ বিশেষ বিষয়টি বুঝতে পারবে।

ঠিক তেমন একটি বিষয় হচ্ছে এলিয়েন বা ভিন গ্রহের প্রাণী। বিশ্বব্যাপী এদের নিয়ে শত শত জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী এদের নিয়ে গবেষণা করছেন। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তারা পৃথিবীতে আদিকাল থেকেই এলিয়েনের অবস্থানকে প্রমান করতে চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টগণ তাদের বক্তৃতায় এলিয়েন প্রসংগ আনলেও পেন্টাগন বা নাসা সব সময় বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। কিন্তু এইবার করোনাকালে হঠাৎ করে ইউএফও-র ৩টি ভিডিও পেন্টাগন ডিক্ল্যাসিফাইড করার পরেই এলিয়েনের বিষয়টি নতুন করে এসেছে।

তাছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির অনেক কিছুরই কোন আবিস্কারকের সঠিক হদিস পৃথিবীর সামনে নেই; যেমন মাইক্রোচিপ, আধুনিক ওয়াইফাই, সফটওয়্যার, ইত্যাদির ইতিহাস ঘাঁটলে কোন একক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় না। অনেকেই মনে করেন এগুলো মুলত এলিয়েন টেকনোলোজি। প্রশ্ন হচ্ছে এলিয়েন নিয়ে উচ্চমাত্রার কথা কেন? এটি কোন কঠিন বিষয় নয়। স্বাভাবিক একটি বুঝের বিষয়।

বর্তমান বিশ্বের মানুষের সভ্যতা ও আইন যা কিছুই এসেছে তা ধর্মকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে। এমনকি মানুষের যে এথিকস না নৈতিকতা এর মূল স্তম্ভ হচ্ছে ধর্ম। কারন ধর্মীয় আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কারনেই মানুষ ত্যাগ করে, অন্যায় থেকে বিরত থাকে, অন্যের উপকার করে, ন্যায় বিচার করে। এর বাইরে রাষ্ট্রীয় আইন দিয়ে যা কিছুই করানো হয় তাতে থাকে ভয়ের বাধ্যবাদকতা, যা ফাঁকি দিতে সক্ষম হলে কোন আর সমস্যা থাকে না। একমাত্র ধর্মের কারনেই মানুষ তার নৈতিকতার স্খলন ঘটায় কম। এখানে অদৃশ্য এক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে অনেক অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে।

ধর্মকে নিয়ে আসার কারন হচ্ছে বিষয়টিকে সহজতর বোঝার জন্য। কেন পেন্টাগন এই সময়ে এলিয়েন বিষয়টি সামনে নিয়ে এলো। কাকতালীয় হলেও সত্যি করোনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনাকালে আমি কয়েক বন্ধুকে এলিয়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এমনকি করোনার বিষয় তথ্যানুসন্ধানের বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসেও এই এলিয়েনের বিষয়টি রেখেছিলাম।

তাহলে অনেকেই বলতে চাচ্ছেন এলিয়েন কি করোনা ছড়িয়েছে? হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কে জানে আপনি নিজেই বা আমি নিজেই কি এলিয়েন কিনা? একদিকের হিসেবে সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন পৃথিবী নামক প্ল্যানেটের বাইরে, সেখান থেকে তিনি প্রেরন করেছেন মানব জোড়াকে পৃথিবীতে। কিভাবে প্রেরন করেছেন? কোন টেকনোলোজিতে? কাদের সাথে দিয়েছিলেন?

এই চিন্তার সাথে যদি যোগ করি হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর সময়কাল ও তার কাজ, ঊর্ধ্বে গমন, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কাছে যারা এসে তাঁকে সন্তান জন্মদানের সুসংবাদ দিলেন, কারা এসে ব্যাবিলনে জাদু বিদ্যা দিলেন হযরত নুহ (আঃ) এর সময় কিসের জন্য মহাপ্লাবন দিলেন এবং তিনি কেন জোড়ায় জোড়ায় সব প্রাণী নৌকাতে নিলেন? হযরত খিজির (আঃ) কে তিনি কি এখনও জীবিত?

দাজ্জালের বর্ণনা কি কোন মানুষের গুনাগুনের সাথে মিলে নাকি সেও একজন এলিয়েন? ইয়াজুজ মাজুজের বর্ণনা কি মানুষের মতো? নাকি তারা টাইম লেয়ার বা স্তর ভেদ করার চেষ্টা করছে, যেদিন সক্ষম হবে সেদিন পৃথিবীতে এসে মানুষকে খেয়ে ফেলবে? এরা কি ভিনগ্রহের এলিয়েন? এছাড়া রয়েছে ইবলিস নামের খারাপ জ্বিন ও ভালো জ্বিন। এই বর্ণনায় সবাই কি একই প্রজাতির মনে হচ্ছে?

আসলে এ বিষয়গুলোই পৃথিবীর টার্নিং পয়েন্ট। মানুষ যদি থ্রি ডাইমেনশনাল হয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ বা মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রাণী যে সৃষ্টিকর্তা বানান নাই এটা তো বলা যাবে না। তাই আজকে ধীরে ধীরে এই প্ল্যানেটে মানুষের যে সভ্যতা সেটি গড়ে ওঠায় কি এলিয়েনদের কোন অবদান আছে? নাকি আছে কোন স্বার্থ? এরসাথে আজকের করোনার কি কোন সংযোগ থাকতে পারে? কি ভাবে? (চলবে)

(আমার এ মতামতের সাথে আপনার একমত হতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই)

লেখকঃ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট

Facebook Comments

Hits: 94

SHARE