করোনা ভাইরাস রহস্য- ৪: বিল গেটস লিঙ্ক

128

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ 5G মোবাইল টাওয়ার থেকে প্রবাহিত রেডিয়েশনের কারনে করোনা ছড়াচ্ছে, মানুষের মধ্যে এমন জোর গুজব থাকলেও বিশ্বব্যাপী চীনের পরেই ভাইরাস সংশ্লিষ্ট দোষারোপ দেয়া হচ্ছে বিল গেটসকে। এই দোষারোপ তখনি জোর পেয়েছে যখন বিল গেটস সরাসরি চীনের পক্ষালম্বন করলেন।

রয়টারসহ অন্যান্য মিডিয়ায় বিল গেটস এর সাথে ভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই এমনটা সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মুল অভিযোগ ভিন্ন বিষয়ে। করোনাকে পূঁজি করে বিল গেটস এবং তার সাথীরা বিশ্বব্যাপী মানুষদের টেকনোলোজি দিয়ে নিয়ন্ত্রনের এক প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এই অভিযোগ। অর্থাৎ মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিসমুহ, তাদের তাবেদার সরকার এবং আগামীতে এদের প্রস্তাবিত কারেন্সি বাস্তবায়নের স্বার্থে বিশ্বের তাবৎ মানুষের শরীরে তারা মাইক্রোচিপ ঢুকানোর এ প্রকল্প চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

ID2020 নামের একটি প্রকল্প রয়েছে যারা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়নের শুধু ক্যাম্পেইন করছেন ধারনা করা হলেও তাদের কর্মপরিধি আরও ব্যাপক নিঃসন্দেহে। ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি এই সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, The ID2020 Alliance এর নতুন পার্টনার হিসেবে World Economic Forum, Microsoft, Mercy Corps, Hyperledger এবং the UN International Computing Center যোগ দিয়েছেন। খটকাটা এখানেই।

১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্যের রিডিং ইউনিভার্সিটির সাইবারনেটিক ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর কেভিন ওয়ারউইক প্রথম মানুব যে তার তার হাতে একটি চিপ ঢুকান এবং মানবদেহে এটি ধারন করা সম্ভব বলে ঘোষণা দেন; আগামীতে মানুষের মূল্যায়ন হবে মানবদেহে ফিউজিং টেকনোলজির ব্যবহারের উপর বলে ট্রান্সহিউমেন আইডিয়া প্রদান করেন। সেই থেকে শুরু এরপর জার্মান হয়ে এখন সুইডেনে হাজার হাজার মানুষের দেহে এই মাইক্রোচিপ ঢুকানো হয়েছে।

মাইক্রোচিপ নিয়ে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা একটি রিপোর্ট করে গত বাছর। রিপোর্টটির শিরোনাম ছিল The rise of microchipping: are we ready for technology to get under the skin? এই রিপোর্ট এ মাইক্রোচিপ নিয়ে জড়িতদের বিশাল বর্ণনা থাকলেও এর স্বার্থরক্ষাকারীদের বিষয়টি রাজনৈতিক কারনেই চেপে যায় গার্ডিয়ান।

এর বাইরে ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনবিসি, ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ অনেক পত্রিকাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশিত হয় এই মাইক্রোচিপ নিয়ে। মুলত মাইক্রোচিপ টেকনোলোজি হচ্ছে মানুষকে নিয়ন্ত্রিত রাখার স্বার্থে। এখানে যদিও প্রচারনা দেয়া হয় মানুষের ক্যাশলেস, পাসওয়ার্ডলেস ইত্যাদি দুনিয়ার কিন্তু নিয়ন্ত্রন অবশ্যই অন্যের হাতে থাকে।

বিল গেটস এবং অন্যরা যারা টেকনোলজির দ্বারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীতে রূপান্তরিত রয়েছেন এবং যারা বনেদী ও আদি ধনকুবের যেমন যুক্তরাষ্ট্রের Federal Reserve এর মালিকরা Rothchild, Rockfeller family ও মিডিয়া মোঘলেরা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনে রাখতেই একের পর এক ঘতনা সাজাচ্ছেন। আধুনিক ধনকুবের রাষ্ট্র চীনের সাথে যে এদের গোপন সম্পৃক্ততা রয়েছে বিল গেটস এর চীনের পক্ষে ওকালতি তার প্রমান। যদিও বিশ্বের দৃষ্টি চীনের দিকেই নিবন্ধিত যে চীনই তার ল্যাবরেটরিতে করোনা ভাইরাসের জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ইত্যাদি রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে একে অপরের শত্রুতায় ভরপুর প্রোপ্যাগান্ডায় লিপ্ত থাকে কিন্তু বিগত ২ টি বিশ্ব যুদ্ধ বা এরপরের কোন বড় বড় যুদ্ধে কেউকি সরাসরি কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে? না করেনি। কারন কায়েমি স্বার্থে এরা সবাই এক।

এবারের পৃথিবীতে সেই দেশের সাথে দেশের কায়েমি স্বার্থের বাইরে নয়া শক্তির মেরুকরণ হতে চলেছে; সেটি হচ্ছে টেকনোলজির মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক, সামরিক, আধ্যাত্মিক এবং অর্থনৈতিকসহ মানব নিয়ন্ত্রন। অনেক বিজ্ঞজনের ধারনা করোনা হচ্ছে তেমন একটি শুরুর মধ্যধাপ। (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট

Facebook Comments

Hits: 85

SHARE