আক্রান্ত কম দেখানো হচ্ছে: কোটি কোটি ভারতীয় করোনায় আক্রান্ত!

104

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ভারতের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটির উপরে কিন্তু আজ পর্যন্ত সেখানে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৭০ হাজারের মতো। আর এই অতি সামান্য টেস্ট এ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৩১ হাজারের উপরে। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মিডিয়া প্রপাগ্যান্ডা চালাচ্ছে যে ভারতে আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা অতি অল্প।

এই অপপ্রচারটি চালানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি উন্নত করতে। যে দেশের ৪০ কোটি মানুষের পয়ঃনিষ্কাসনের আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত সুবিধা নাই, যেখানে প্রায় সমসংখ্যক মানুষ দিনে একবেলা খায়, সেখানে ভারত সরকারের রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র আমদানি যার বিপরীতে স্বাস্থ্যখাত নিতান্তই দুর্বল।

ভারত তার জিডিপির ১.৬% (এক দশমিক ছয়) ভাগ টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করে থাকে যা এই বছর বাড়ানোর চেষ্টা করছে ২.৫% পর্যন্ত এবং টার্গেট ২০২৫ সাল। অন্যদিকে সামরিক খাতে তাদের ব্যয় হচ্ছে জিডিপির প্রায় ২.৪%। স্বাস্থ্য খাতের এই ব্যয় কেন্দ্রিয় সরকার ও রাজ্য সরকারের মিলিত খরচ কিন্তু সামরিক খাতের ব্যয় কেবলমাত্র কেন্দ্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

২০২০-২১ সালের জন্য স্বাস্থ্য খাতে কেন্দ্রের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার কোটি রুপি; অন্যদিকে সামরিক খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার কোটি রুপির উপরে।

শিক্ষাখাতে ভারত ব্যয় করবে এই বছর ৯৯ হাজার কোটি রুপির কিছু বেশী। এখন কার্যত অধিক মাত্রায় টেস্ট করানোর সামর্থ্য ভারতের নেই। মাত্র ২ লাখ কিট চীন থেকে খরিদ করেছিল তাও অকার্যকর বিধায় ভারত টেস্ট টেস্ট আর টেস্ট এর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণের কোন চেষ্টাই করছে না।

ভারত যখন মহামারীর মুখে থাকে না তখনও ভারতে মৃত্যুর মাত্র ২২ শতাংশ নিবন্ধিত হয়। মহামারীর মধ্যেও সেই হিসেব বেড়েছে ছাড়া কমে নাই যা ইতিমধ্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মুম্বাইয়ের অন্যতম প্রধান সরকারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক বলেন, গত সপ্তাহে হাসপাতালে আনা মৃতদেহগুলির করোনাভাইরাস পরীক্ষা হয়নি।

এই হচ্ছে ভারতের আভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র। কেবলমাত্র বলিউড আর আঞ্চলিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দ্বারা পুরো জাতিকে ভুল বুঝিয়ে রেখেছে ভারত তার ১৩৫ কোটি জনতাকে। আর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কেবলমাত্র ৩% ব্রাহ্মণদের হাতে। এই ব্রাহ্মন শ্রেণী পুরো জাতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করে থাকে। তাদের ইচ্ছাতেই কম টেস্ট করিয়ে কম আক্রান্ত ও মৃত্যু দেখানো হচ্ছে বলেও কোন কোন মহলের ধারনা।

তাদের মতে মাত্র ৭ লাখ টেস্ট এ যদি ৩১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয় তবে ১৩০ কোটিতে কমপক্ষে আক্রান্ত হওয়ার কথা কোটি কোটি। আর করোনা ভাইরাস যেহেতু লক্ষণ প্রকাশ না করেও সুপ্ত থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে সঠিক হিসেবে পেতে ভারতকে কোটি কোটি টেস্ট করানোর কোন বিকল্প নেই।

অভিযোগ রয়েছে ভারত কম টেস্ট করিয়ে পুরো বিশ্বকে ধোঁকা দিচ্ছে শুধু বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখার জন্যে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের পরবর্তী স্টেজ এ আউটব্রেক শুরু হলে তা পুরো ভারতের রাজনৈতিক সিস্টেমকেও নাড়িয়ে দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহল শংকিত।

Facebook Comments

Hits: 48

SHARE