অব্যবস্থাপনায় গণমৃত্যু শুরু হলে গণহত্যার দায় যাবে সরকারের কাঁধে!

128

শেখনিউজ রিপোর্টঃ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের করোনা নিয়ে কর্মকাণ্ডে আমজনতা তাদের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। বিবেকবান সরকার সমর্থকেরাও এখন অন্তরালে তাদের শঙ্কা জানাচ্ছেন। সরকারের কর্মকাণ্ডে একসময় করোনা মহাহত্যাযজ্ঞে রুপ নিতে পারে বলে শংকা জাগছে। আশংকা করা হচ্ছে প্রায় ২ কোটি লোক বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত।

আজকে পর্যন্ত ১৭ কোটি জনতার মধ্যে মাত্র ৫৪ হাজার ৭৩৩ জনের টেস্ট করিয়েছে। যার মধ্যে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ হাজার ৪৬২ জন। এর মানে হচ্ছে যারাই টেস্ট করাতে পেরেছে তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ১২% আক্রান্ত। সেই হিসেবে প্রায় ২ কোটি আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে যাদের টেস্ট হয়েছে তাদের সবার টেস্ট রিপোর্ট সঠিক দেয়া হলে আক্রান্ত আরও বেশী হতো। কারন নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়ার পরেও কেউ কেউ ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন বলে মিডিয়ায় সংবাদ এসেছে।

সরকার সমর্থিত একটি নামকরা পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, করোনাভাইরাসের টেস্ট করতে গিয়ে ভোগান্তি যেন শেষ হচ্ছেই না। চাইলেও করানো যাচ্ছে না টেস্ট। ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। ঘুরতে ঘুরতে রোগীর মৃত্যু হলেও টেস্ট হচ্ছে না। তিন দিন চেষ্টা করেও টেস্ট করাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন করোনায় প্রাণ হারানো ডিএসসিসির কর্মকর্তা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে টেস্ট টেস্ট ও টেস্টের কথা বলা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে টেস্ট করা হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন। কোথাও গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার কোথাও একই ঘরের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করতে যাওয়া সবাইকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানেই গায়ে গা লাগিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে সম্ভাব্য পজিটিভ ও নেগেটিভ রোগীকে। আবার করোনা টেস্ট ছাড়া সাধারণ কোনো রোগীকেও ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না হাসপাতালগুলোয়। কিন্তু টেস্টের এই দীর্ঘ ভোগান্তি শেষ করতে করতে রোগীই বিদায় নিচ্ছেন পৃথিবী থেকে।

গত ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম তিন দিন ধরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কাছে ঘুরেও করোনা টেস্ট করাতে পারেননি। এমনকি মৃত্যুর পরও এই কর্মকর্তার নমুনা নিতে আসেননি আইইডিসিআরের কেউ। সংশ্লিষ্ট কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ না দেখে তাই দাফনের আগে নিজেরাই নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মহানগর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে দাফনের আগমুহূর্তে আনা হয় নমুনা। পরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

খন্দকার মিল্লাতুল ইসলামের ছেলে খন্দকার মাজহারুল ইসলাম শাওন নিজেও একজন চিকিৎসক। শাওন বলেন, ‘মৃত্যুর ঠিক দুই দিন আগে বাবার শরীরে জ্বর হয়। এরপর আমরা আইইডিসিআরের হটলাইনে বারবার ফোন দিয়েছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। সর্বশেষ আমি নিজেও আইইডিসিআরে গিয়েছি। তার পরও কোনো হেল্প পাইনি। তারা বলেছেন এখানে কোনো টেস্ট হয় না। অফিস বন্ধ। সেখান থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছি। তারা বলেছেন তারা করোনা টেস্ট ছাড়া রোগী ভর্তি নেবেন না। তাদের বলেছি অন্তত টেস্টটা করতে। তারা করেননি। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়েছি বাবাকে। তখন ডাক্তার জানিয়েছেন বাবা আর নেই। সব জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে শেষ হয়েছি। নিজে ডাক্তার হয়েও কারও একটু হেল্প পাইনি।’

এই হলো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৃত্যুর কাহিনী যার সন্তান নিজেও একজন ডাক্তার। আরও অভিযোগ রয়েছে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করে সিরিয়াল দিলেও সেখান থেকে স্যাম্পল নিতে কেউ আসে না, যাও কখনো আসে তা ৪/৬ দিন পরে।

এদিকে আবার করোনা পজিটিভ পাওয়া গেলেও তারা চিকিৎসা পাননা বলেও অভিযোগ রয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না। যারা উপসর্গহীন, তাদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, উপসর্গহীন আক্রান্তেই এখন বড় ভয়। এ অবস্থায় মৃদু উপসর্গ কিংবা আক্রান্তের আশপাশের মানুষজনেরও করোনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। 

 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা টেস্টিং সেন্টারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এই টেস্টিং সেন্টারে করোনা পরীক্ষার লাইন হলেও সেখানে নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছেন ভিতরে যাওয়ার অপেক্ষায়। একদিকে পুলিশ, মাঝখানে ডাক্তার-নার্স ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আরেক পাশে সাধারণ মানুষের লাইন। সকাল ৮টার আগে শুরু হওয়া এ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কেউ কেউ দীর্ঘ লাইন দেখে ফিরেও যাচ্ছেন। ভিতরে গিয়েও নমুনা দেওয়ার জন্য আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি কক্ষে দীর্ঘক্ষণ ধরে গায়ে গা ঘেঁষে বসিয়ে রাখা হচ্ছে নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিদের। এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে সম্ভাব্য পজিটিভ-নেগেটিভ সবাইকে।

আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কজনক এই ঘটনায় একদিকে এসব রোগীর যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে তাদের মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণ ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের পাশাপাশি মৃত্যুভয়ও কাজ করছে। এ ছাড়া হাসপাতালে অপ্রতুল চিকিৎসাব্যবস্থা, চিকিৎসক/নার্সদের সেবায় ঘাটতি এবং খাবারসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় রোগীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে লকডাউনের কারনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে, তাদের ঘরে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই তারা জীবন বাঁচানোর জন্যে লকডাউন ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে সহায়তা দেয়া হচ্ছে সরকারের লোকেরাই তা চুরি করে লাভবান হবার চেষ্টায় সিরিয়াল দিয়েছে। সরকার এদের কিছু শাস্তি দিলেও সামান্য শাস্তিকে থোরাই কেয়ার করে চুরির পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছে। সকল মহল থেকে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে বললেও সরকার তা পাত্তা দিচ্ছে না।

শ্রমিকেরা ইতিমধ্যেই কাজে যোগ দেয়ার জন্য সামাজিক দুরত্বের কোন আইনই মানছে না। এতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। কিন্তু পয়সা দিয়ে কিছু কিছু বিদেশি অখ্যাত প্রতিষ্ঠান দিয়ে বাংলাদেশের করোনা ৯৭% মে মাসে চলে যাবে বলে গবেষণা তথ্যের নামে প্রতারনাও চালানো হচ্ছে।

পুলিশ ও চিকিস্তক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে মারাত্মকভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। চীন থেকে রদ্দি পচা কিট, পিপিই ও মাস্ক এনে সরকার সমর্থক লোকজন পয়সা বানানোতে ব্যস্ত। অথচ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে টেস্ট কিট বানানোর পরেও নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্যে সরকার সেই কিট পরীক্ষার জন্য গ্রহন করতেও অস্বীকার করেছে।

মোটের উপর কোন কিছুই জাতীয় স্বার্থে হচ্ছে না এবং পুরো জাতিকে গণ মৃত্যুর দিকে থেলে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু সরকারের মন্ত্রী ও আমলারা যা কিছুই করেন তার বর্ণনা দেয়ার সময়ে আগে পিছে ১০ বার কমপক্ষে দশভুজ এর মতো শেখ হাসিনার নির্দেশে ও তত্ববধানেই করছেন বলে বক্তৃতা করেন; যেন এই লোকগুলো সব অপদার্থ, নিজেদের পদের বিপরীতে যেন তাদের কোন বুদ্ধিমত্তাই নেই; যা কিছু সব শেখ হাসিনাই বলে দেন এরপর তারা চোর ধরা থেকে ফাঁসি পর্যন্ত সবই করেন।

এই যদি হয় নমুনা তবে আগামীতে গণমৃত্যু হলে যে তাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই হবে তা মন্ত্রী ও আমলারা প্রতিষ্ঠিত করে রাখছেন। করোনার কারনে কোনরূপ গণমৃত্যু তখন গণহত্যা হিসেবে যে বিবেচিত হবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে?

Facebook Comments

Hits: 50

SHARE