গণস্বাস্থ্যের কিট নেয়নি সরকারঃ কারন রাজনীতি, ঘুষ-বানিজ্য নাকি অন্যকিছু?

331

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা পরীক্ষা কিট পরীক্ষা করে দেখার জন্য রাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গ্রহণ করেনি, এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের প্রতিনিধি দলের একজনকে ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রবেশও করতে দেয়া হয়নি।

কিট তৈরির বেশ কিছুদিন আগে থেকেই সরকারের কিছু পেইড লোকজন যাদের ডক্টরেট ডিগ্রীর তখমা রয়েছে তারা একের পর এক আর্টিকেল লিখে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে থাকে। অথচ সরকার এই কিট পরিক্ষার আগেই কিভাবে এই সকল লোকজন জানতে পারলেন কিট আসলেই করোনা পরীক্ষার উপযুক্ত কিনা, সেটাই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

এদিকে নার্সদের সংগঠনসহ বেশ কিছু সংগঠনকে সরকার ডাঃ জাফ্রুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়ে দেয়ার পায়তারা চূড়ান্ত করেছে।

দেশে বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে আসলে সরকার এমন একটি দেশিয় প্রযুক্তিকে কোন সহায়তার পরিবর্তে শত্রুর মতো আচরন করছে কেন? সেটা কি শুধুই রাজনৈতিক? নাকি চীনের রদ্দিপচা মালের আমদানির নামে ব্যবসায়িক স্বার্থ? নাকি ঘুষ প্রদানে গণস্বাস্থ্যের অনীহা?

দেশের সবাই জানে সরকারের লোকজন কোন কিছুই ছাড় দেয় না ঘুষ ছাড়া, পারসেন্টেজ ছাড়া। মহামারীর এই সময়েই কি সরকার সেই ঘুষের আশায় বসে আছে? ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, কিভাবে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করছেন। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রেখে চলেন, তাতে তাদের লেনদেনে সুবিধা হয়। গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবে না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। কিন্তু লড়াই করে যাব।

শেখনিউজ ডট কম সরকারের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুত্রে জানতে পেরেছে যে, আসলে দ্রুত ও স্বল্প খরচের কিট জনগনের নাগালের মধ্যে এসে গেলে সরকার যেভাবে ভাইরাস আক্রান্তদের বিষয় লুকিয়ে রাখছে তা আর গোপন করা সম্ভব হবে না। আজকে পর্যন্ত ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে টেস্ট করা হয়েছে মাত্র ৪৬ হাজার ৫৮৯ জনকে যার মধ্যে আক্রান্ত ৫ হাজার ৪১৬ জন। সেই হিসেবে দেশে করোনা আক্রান্ত কত হতে পারে সেটা ভেবে সরকার কোন র‍্যাপিড ও সহজলভ্য কিট দেশে প্রস্তুত হতে দিবে না।

যে সরকারের লোকজন এই মহা দুর্যোগেও নিরন্ন গরীবের চাল ও তেল চুরি করতে পারে দেদারছে, সে সরকার বিনা ফায়দাতে কোন দেশিয় প্রযুক্তির সুবিধা জনগনের হাতে দিয়ে নিজের কবর নিজে খোঁড়ার কাজটি করতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।

তবে সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল যিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেই রকম একটি প্রতিষ্ঠান আইনের পরিপন্থি এমনকি জন স্বার্থের পরিপন্থি এমন একটি রাজনৈতিক নোংরা খেলায় প্রতিষ্ঠান ও নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন এমন এক সময়ে যখন জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন জরিত। এতে জাতি নিদারুন ব্যথিত এবং ক্ষুব্ধ।

Facebook Comments

Hits: 119

SHARE