করোনা ভাইরাস রহস্য- ৩: চাইনিজ লিঙ্ক

311

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ অবশেষে চীন করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানে স্বাধিন কোন বিশেষজ্ঞ টিমকে পরিদর্শনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। বিশ্বের অনেক বৈজ্ঞানিক মনে করেন উহানের পরীক্ষাগারে ভাইরাসটি তৈরি করা হতে পারে। ইউরপিয়ান একটি রিপোর্টে তেমন ধারনা করা হয়। কোভিড -১৯ এর উৎস এবং প্রথমদিকে কিভাবে এটি ছড়িয়েছিল সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা এই রোগ মোকাবেলায় সহায়ক হবে জেনেও চীন বিশ্বের কাউকে কোন সুযোগ দিতে রাজি নয়।

উ. কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন নানা খবর ছড়িয়ে পড়ছে তখন দেশটিতে একদল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাঠিয়েছে চীন। চীন কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত কেন? কারন উত্তর কোরিয়া চীনের হয়ে অনেক কাজ করছে। উত্তর কোরিয়াতে যত মিসাইল ও পারমানবিক টেস্ট হচ্ছে এগুলো মুলত চীনের প্রকল্প বলেই অনেক গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাস। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার জন্য সকল খাদ্য, ওষুধ, নগদ টাকা, প্রকল্প সহায়তা, আন্তর্জাতিক ভেটো সহায়তা সবই চীন দিয়ে থাকে। এখন এমন স্যাটেলাইট রাষ্ট্র অনেকগুলো চীনের থলেতে।

ভাইরাস যখন পুরোদমে বিশ্বকে গ্রাস করবে তখন চীন সারা পৃথিবীকে এন্টি-ডট দিয়ে সহায়তা করবে অর্থাৎ বানিজ্য করবে। যে ভাইরাসটি এরি মধ্যে ৪০০ বারের অধিক রুপ পরিবর্তন করেছে সেই ভাইরাসের কোন বা কত নম্বর রুপের বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর হবে এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা সংশয়ে রয়েছেন। কেবলমাত্র এন্টি- ডট ছাড়া এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই এটা চীন জানে, যে কারনে কাউকে উহানে তদন্ত করতে দিতে রাজি নয় চীন।

যুক্তরাষ্ট্রে বা জার্মানিতে বা বিশ্বের যে কোন স্থানেই চীনের বিরুদ্ধে মামলা হোক এতে চীনের কোন মাথাব্যাথা নেই; কারন চীন জানে এই মামলার বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারন এরপরই লাখ লাখ মামলা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে অন্যের দেশে হামলা, হত্যা ও লুটপাটের অভিযোগে প্রমানসহ যা মিথ্যা প্রমানের কোন উপায় থাকবে না। যে কারনে চীনের এ বিষয়ে মাথাব্যাথা নেই।

এতো দুর্যোগের মধ্যেও বিভিন্ন দেশে রদ্দিপচা কীট, মাস্ক এবং পিপিই পাঠাচ্ছে চীন; এতোটুকু লজ্জাবোধ হচ্ছে না তাদের। ইউরোপের অনেক দেশ সেগুলো ফেরত দিয়েছে না হয় ডাস্টবিনে ফেলেছে। কিন্তু চীনের মুখে কুলুপ। অতি সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ চীনা মাস্ক ব্যবহারের যোগ্য নয় বলে অভিযোগ করেছেন; কিন্তু চীন এতে কোন পাত্তাই দিচ্ছে না। কারন কি?

আসলে বিশ্বও জানে আসল কারন কি! চীনের হাতেই রয়েছে আসল এন্টি-ডট বা এন্টি- ভাইরাস। যে কারনে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন দেশ চীনের বিরুদ্ধে তেমন শক্ত অবস্থানে নেই। অভিযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কারনেই উল্টাপাল্টা প্রেসক্রিপশন দিয়ে চলছেন যাতে সকল মিডিয়া তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। যদি তাই হয় তবে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নির্বাচন না হলেই ট্রাম্পের লাভ।

এদিকে সংক্রমণের কথা ধামাচাপা দেবার এবং শেষকৃত্যের জায়গায় উপছে পড়া ভিড়ের রিপোর্ট করার কারনে চীনা এক সাংবাদিক চেন চ্যউশি ৭৫ দিন ধরে নিখোঁজ। অন্য এক সাংবাদিক লি যেহুয়াকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলেও দুই মাস পরে তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। ঠিক সেই ভাবে সাংবাদিক চেন সবার কাছে উত্তর দিচ্ছেন যেভাবে বাংলাদেশে কেউ গুম হয়ে ফেরত আসলে কথা বলে।

এদিকে এই ভাইরাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলছে আরেক চক্রান্ত। বিশ্বের তাবৎ মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপস ঢুকানোর এক প্রকল্প গোপনে চলছে বলেই অনেকের বিশ্বাস। এনিয়ে আগামী কিস্তিতে। (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট

Facebook Comments

Hits: 71

SHARE