বিষয়ঃ গণস্বাস্থ্যের কিট, সরকারী টালবাহানা ও চীনা মালের ব্যবসা

380

শেখনিউজ রিপোর্টঃ দেশের প্রখ্যাত অনুজীব বিজ্ঞানী ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি দল করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট আবিষ্কার করলেও সরকারের টালবাহানায় সবকিছু ভেস্তে যেতে বসেছে। এর পেছনে সরকার দলের লোকজনের চাইনিজ রদ্দি পচা কিট ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই অন্যতম কারন বলে জানা গেছে।

তবে প্রধান কারন হচ্ছে স্বল্প খরচে ও দ্রুত করোনা সনাক্ত হলে তা সরকারের জন্য ঝামেলার কারন হতে পারে; কারন এতে লাখ লাখ করোনা রোগী সনাক্ত হলে সরকারের পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন হবে। সেজন্য যারা বিনা সনাক্তে ও বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে তাদের সেইভাবেই চলতে দেয়া হোক। এই লক্ষ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ সরকার ভালভাবে গ্রহন করছে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শিশু একান্ত অফিসার যার নামের সাথে ডক্টর লাগানো রয়েছে সে এক নাতিদীর্ঘ গবেষণা পত্র পত্রিকান্তরে প্রকাশ করেছে।

গত ২০ শে এপ্রিল কিট জমা দেয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ল্যাবে যান্ত্রিক ত্রুটি তৈরি হওয়ায় সেই ব্যাচটি বরবাদ হয়ে যায়। বিষয়টি স্যাবটাজ বলেই অনেকে মনে করছেন। ফলে পুরো ব্যাচটিই নতুনভাবে তৈরি করতে হয়েছে। তবে এই কিটটি আরো উন্নত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে যে উৎপাদন পদ্ধতিতে কিট উৎপন্ন করা হচ্ছে তা আধা-স্বয়ংক্রিয়। যার সাহায্যে মাসে এক লাখ কিট উৎপাদন সম্ভব। তিন মাস পরে এক কোটি কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে তার জন্য কিট উৎপাদনে অটোমেশন পদ্ধতি স্থাপন করতে হবে। এছাড়া ইংল্যান্ড, চীন ও আমেরিকা থেকে কিছু কাঁচামাল এখনো এসে পৌঁছায়নি। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে সরকারী অনুমোদন যা পাওয়া আদৌ সম্ভব হবে কিনা সেই সন্দেহ রয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে রোগী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত টেস্টিং কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ এর নমুনা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধিরা যাননি।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রতিনিধির কাছে কিটের নমুনা তুলে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার সকালে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর এটিএম হায়দার বীরোত্তম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সিডিসির পক্ষে কিটের নমুনা গ্রহণ করেন কন্সালটেন্ট কাজী মো. সাইফুল ইসলাম। অথচ সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

আগে গবেষণার জন্য আক্রান্ত রোগীদের থেকে ১০টি রক্তের নমুনা চেয়েছিল গণস্বাস্থ্য। কিন্তু সেগুলো তারা পাননি, সরকার এড়িয়ে গেছে।

এদিকে কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ থেকে এই কিট কেনার প্রস্তাব আসছে। কিন্তু সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে গনস্বাস্থ্য জানিয়েছে।

বিভিন্ন দেশে চীনের কিট, পিপিই এবং মাস্ক নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে দেদারছে, ইউরোপ কানাডাসহ বহু দেশ চীনা মালামাল ফেরত পাঠিয়েছে না হয় ডাস্টবিনে ফেলেছে। ব্যতিক্রম বাংলাদেশের ব্যবসায়িরা ও রাজনৈতিক দলের লোকেরা। এরা রদ্দি পচা এইসকল মেডিক্যাল সরঞ্জাম দেশের মানুষের কাঁধে উঠিয়ে বিপদ্গ্রস্থ করছে।

Facebook Comments

Hits: 138

SHARE