করোনা ভাইরাস রহস্য- ২: চাইনিজ লিঙ্ক

156

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ চীন বিগত কয়েক দশকে নিজেকে গড়ে তুলেছে খাস বেনিয়া জাতি হিসেবে। এজন্য এমনকি তারা ব্যবসায়িক নীতি নৈতিকতাও বিসর্জন দিয়েছে। কমিউনিস্ট আদর্শের নাস্তিকতা ও শক্ত হাতে একদলীয় শাসন চালানো আর লাভ ছাড়া অন্য কোন কিছুই চীনের অবশিষ্ট নেই।

অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের নীচে ধরা হলেও চীন যে কোন কিছুতে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে অতি সংগোপনে। কৌশলে রাশিয়াকে সাথে নেয়ায় বাকিটাও তার পুরা হয়েছে। আজকের চীন যে নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছে এর কারিগর বর্তমানের চীনা প্রেসিডেন্ট, কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মিঃ শি জিনপিং।

সারা পৃথিবীতে গোয়েন্দাগিরি পরিচালনার জন্যই 5G ক্যাপাসিটির হুয়াইও মোবাইল ফোন চালু করে চীন; যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টি জেনেই হুয়াইও এর বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন চীনা পন্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা শুরু করল তার আগে থেকেই চীন তার পণ্য উৎপাদন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চীন সমগ্র পৃথিবীকে এমন নেটওয়ার্ক এ নিয়ে আসার ছক করে, যেন বোঝা যায় চীনের টেকনিক্যাল পণ্য ছাড়া দুনিয়া অচল।

চীন আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তাদের পেছনে অর্থ ঢালতে থাকে, এতে তারা কূটনৈতিকভাবে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে অভূতপূর্ব ফল লাভ করে, উপরি হিসেবে তাদের সম্পদের উপর দখল নেয়। চীনের পার্শ্ববর্তী ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোকে নিজের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য সে তাদের সকল অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা দিয়ে নিজের অবস্থান এমনকি সামরিক অবস্থানও পোক্ত করে নিয়েছে। যে কারনে কোটি কোটি উইঘরের মুসলমানদের হত্যা নির্যাতন চালালেও চীনের বিরুদ্ধে মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রগুলো এবং আফ্রিকানরা চুপ থাকে।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি চীনের উহান ল্যাবে এবং এই ভাইরাসের এন্টি -ডট বা এন্টি-ভাইরাস হাতে রেখেই চীন এই ভাইরাসের খেলা চালু করেছে সজ্ঞানে, এমনটি অনেক গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাস। যে কারনে উহান ছাড়া চীনের আর কোথায়ও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নেই। উহানের মৃত ও আক্রান্ত মানুষের অবস্থাগুলো না দেখিয়ে এন্টি -ডট বা এন্টি-ভাইরাস ব্যবহার করলে বর্তমানের এই বৈশ্বিক রাজনীতির খেলাটি চালানো সম্ভব হতো না। তাই চীন তাদের ছক মোতাবেকই খেলা চালায়। সাথে আছে রাশিয়ার পুতিন।

বাংলাদেশ ও ভারতের আশেপাশের রাষ্ট্রগুলো যাদের সাথে চীনের সখ্যতা সেই দেশগুলো নেপাল, মায়ানমার, লাওস, কেম্বডিয়া, উত্তর কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোতে করোনার কোন প্রভাবই নাই বললে চলে। এটা কিভাবে সম্ভব? তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম চীনের বিরুদ্ধে পাল্টা গোয়েন্দাবৃত্তি করে বলেই আগাম তথ্য পেয়ে তারা নিজেরাই সাবধান হয়ে যায় এবং রক্ষাও পায়। কিন্তু দক্ষিন করিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো দেশ ব্যর্থ হয়।

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে বর্তমানে টিকা আবিস্কারের চেষ্টা চলছে, টেস্ট শুরু হয়েছে, বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এতে ৭০-৮০% সফলতা পাওয়া যেতে পারে। অথচ বিশ্বের তাবৎ বড় বড় গোয়েন্দারা জানেন ১০০% এন্টি -ডট বা এন্টি-ভাইরাস বানানো ছাড়া কেউ ভাইরাস বানায় না বা তা প্রয়োগও করে না। তাই আগামীতে শুধু মেডিক্যাল কীটই নয়, আরও বহু আসুখ বিসুখের এন্টি -ডট বা এন্টি-ভাইরাস বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই দিয়ে চীন তার মহাজনী ব্যবসা চালু রাখবে।

এর বাইরে দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাসের ধাক্কায় যে সকল দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে সেই সকল দেশে বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন শিল্প ফ্যাক্টরি ও শ্রম চীন কিনে নেবে। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। আশংকাটা এখানে। এক ঢিলে বহু পাখি, রাজনীতি, পণ্য, উৎপাদন, ব্যবসা, ক্ষমতা সব একসাথে দখল। চীন আরও অনেক বড় নীলনকশা নিয়ে মাঠে নেমেছে। খেলা মাত্র শুরু। (চলবে)

লেখকঃ রাজনীতিক, সাংবাদিক ও স্ট্র্যাটেজিক এনালিস্ট

Facebook Comments

Hits: 82

SHARE