করোনা নিয়ে বাংলাদেশে হচ্ছেটা কি?

280

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের ব্যাপক আক্রমন শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু জনগনের মনোবল ঠিক রাখার নামে সরকার এমনভাবে তথ্য গোপন করে চলেছে যে, সংবাদ মিডিয়াগুলো ইচ্ছে করলেও সত্য প্রকাশের কোন প্রমান হাতে পাবে না। এর মূল কারন হচ্ছে, টেস্ট করানো হচ্ছে এতো কম পরিমানে যে, আক্রান্তদের সংখ্যা এমনিতেই বাড়ানোর কোন উপায় নেই।

তবে প্রথম থেকেই সরকারের বিশাল প্রস্তুতির কথা বললেও আসলে সরকার যে ফাঁপা বেলুনের মতো করেই বিশ্বকে জানান দিয়েছিল তা আক্রান্তের সংখ্যা টেস্ট এর দ্বারা নিরুপনের মাধ্যমেই সবার নজরে আসা শুরু করেছে। এখনও অপ্রতুল টেস্ট কিট, পিপিই এবং অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থার জোগান না থাকলেও মন্ত্রীদের প্রমোদ বালকদের মতো মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্যের কারনে দেশব্যাপী ক্ষোভ চলছে।

ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে যদি দেশের কোন ভিআইপি, বিত্তশালী এবং দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকেরা আক্রান্ত হন, তাহলে তাদের জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হবে। এ সিদ্ধান্তে জাতীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমনিতেই রাজনৈতিক নেতা এবং আমলা ও বিত্তশালীদের লাগাতার চক্রান্তে স্বাস্থ্যখাতকে ভারতের মুখাপেক্ষী করে দেয়া হয়েছিল। সাধারন মানুষ চিকিৎসার জন্য যেতো ভারত আর নেতা, বিত্তশালি আর আমলারা যেতেন সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড না হয় ইউরোপ আমেরিকা। কিন্তু এইবার যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় নিজেরাই আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থার আয়োজন করছেন।

এদিকে নিম্নমানের চাইনিজ টেস্ট কিট, পিপিই এবং মাস্ক এনে তা লাভজনকভাবে বিক্রি করার প্রবনতা সরকারই দলের লোকজনের বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশিয়ভাবে টেস্ট কিট বানানোর প্রচেষ্টাও বানচাল করে দেয়া হয়। পুলিশের নিম্ন পর্যায়ের লোকজন নিজের পকেটের টাকা দিয়ে নিম্নমানের মাস্ক কিনে ব্যবহার করার অভিযোগ মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে; অথচ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বিপুল পরিমান উন্নত মাস্ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামুল্যে দেয়া হয়েছে।

সরকারী অব্যবস্থাপনার কারনে বিরোধী দলের কেউ প্রশ্ন তুললেই তাতে রাজনীতি দেখেন আওয়ামী প্রমোদ বালক কিছু মন্ত্রী। অন্যদিকে বিরোধী দলের কাউকে ঠিকমত ত্রান তৎপরতা চালাতেও দেয়া হচ্ছে না। জনগণও কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। টেস্ট করাতেও অনিচ্ছুক ব্যবপক একটি জনগোষ্ঠী , তবে তা কেবল রাষ্ট্রীয় হয়রানির ভয়ে। খাদ্যাভাবের কারনে অনেকেই বেড়িয়ে পরছেন ঘর থেকে। যদিও ১ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বাহিনী বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ৪৪টি। গুমসহ এ জাতীয় কর্মকান্ডও ঘটেছে নিয়মমাফিক।

সরকার প্রধানের আন্তরিকতার কথা বলা হলেও দেশে এই ভয়াবহ দুর্যোগকালে কিভাবে এগুলো হচ্ছে তা মিডিয়ার কাছে আশ্চর্য এক বিষয়; যদিও সরকার প্রধানের সায় রয়েছে কিনা তা লেখার সাহস কেউ পাচ্ছেন না। নতুবা সকল চিত্রই বিশ্বের সামনে মুহূর্তে উন্মোচিত হতো। যদিও ত্রান চুরি সামলাতে ব্যর্থ হলেও তথ্য গোপনের এই ব্যবস্থাপনা হাততালি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে বলে নিন্দুকেরা বলেন। তবে তারা আরও বলেন সামনে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে অর্থাৎ অগনিত মানুষ এখানে সেখানে মরে পরে থাকলে সরকার রক্ষার জন্য তথন অন্ততপক্ষে কোন পুলিশ পাওয়া যাবে না।

ইতিমধ্যে অগনিত পুলিশ, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন । সশস্ত্র বাহিনীতেও করোনার শক্ত উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এতো কিছুর মধ্যে হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ হয়ে আসা নাগরিকদের চিকিৎসা পেতে কি অমানুষিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয় তা ভুক্তভোগী কিছু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি দীর্ঘতর হলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার যোগ্যতা সরকারের থাকবে কিনা সন্দেহ। সাথে যুক্ত হচ্ছে চুরি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, ভিন্ন মতাবলম্বিদের হয়রানি ও হত্যা যা চলমান। তেমন দুর্নীতিযুক্ত এক দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি চিন্তা করেও অভিজ্ঞদের গা শিউরে ওঠে। তারা ১৯৭৪ এর পদধ্বনি শুনছেন বলেও মন্তব্য করছেন।

বিশ্বের তাবৎ বাঘা বাঘা গবেষকরা বলছেন টিকা আবিস্কার করতে সক্ষম হলে তা বাজারে আসতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আগামি ১৮ মাসের জন্য বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কেউ জানে কি?

Facebook Comments

Hits: 74

SHARE