যুবলীগের বৃদ্ধ নেতৃত্বের ধারা রদ হচ্ছে

65

শেখনিউজ রিপোর্টঃ ১৯৯৬ সালে চতুর্থ কংগ্রেসে ৪৭ বছর বয়সে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়া দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছে, বৃদ্ধদের সেই অভিযানের বর্তমান পর্যায়ে ৭২ বছরের চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বয়সে যুব সংগঠনের প্রধান হওয়ার দৃষ্টান্ত আর নেই।

তবে ৪০ বছর বয়সের একটি মাত্রা আগে থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লিগ সে মাত্রা ঝেটিয়ে বিদায় করে আগেই। এরপর বৃদ্ধদের অভিযানের শুরু। ২০০৩ সালে ৪৯ বছর বয়সে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে ৬৪ বছর বয়সে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ইতিপূর্বে প্রতিটি কংগ্রেসেই যুবলীগের ভিতর থেকেই সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার ব্যতিক্রম হতে পারে। যুবলীগের চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বেশির ভাগই রিটায়ার্ডমেন্ট এর বয়স পেরিয়ে গেছেন।

যুবলীগে পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় প্রেসিডিয়ামের মোট সদস্য ২৯ জন। এর মধ্যে বয়সের কারনে একজন মারা গেছেন। ২৮ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনের বয়স ৬০ বছরের নিচে। বাকি ২৩ জনের বয়সই ষাটের উপরে অর্থাৎ রিটায়ার্ড লাইফ।

যুগ্ম সম্পাদক ৫ জনের প্রত্যেকের বয়সই ৫৫ বছরের অধিক। সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে শুধু একজনের বয়স ৫০-এর কম। বাকি আটজনের বয়সই পঞ্চাশোর্ধ্ব। সম্পাদকম লীর ৬০ জনের মধ্যে ৪৫ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব। সহসম্পাদক ২০ জনের মধ্যে ১৫ জনেরই বয়স ৫০-এর বেশি। সদস্য ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন ৫০ পার করেছেন। 

এমন বৃদ্ধদের সংগঠনকে যুবলীগ বলে চালিয়ে দেয়া লজ্জা জনক বলেই ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই এদের বিদায় করতেই এদের অপকর্মগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। নইলে এ বৃদ্ধ সমিতি তার ক্ষমতার উত্তরাধিকারদের নাও মেনে চলতে পারে বলে শেখ হাসিনা জানতে পেরেছেন।

সহসাই যুবলীগ যুবকদের দ্বারা গঠনের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও যুবলীগের নাম এখন ক্যাসিনো লীগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Facebook Comments

Hits: 23

SHARE