বিএসএফের দাবী তাদের কমান্ডার নিহতঃ আসলে কি প্রতিশোধ?

161

শেখনিউজ রিপোর্টঃ সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত থেকে ৩ র‌্যাব সদস্য ও ২ নারী সোর্সকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ১০ ঘন্টা পর প্রচণ্ড মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেরত দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতীয় বিএসএফ দাবী করেছে রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড -বিজিবি’র আক্রমনের ঘটনায় এক বিএসএফ সদস্য নিহত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিএসএফের অফিসার হত্যার ঘটনার পরে পতাকা বৈঠক করে বিজিবির স্থানীয় অধিনায়ক লে কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ  মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত সাবলীলভাবে বলেছেন, যে বিএসএফ যে দাবী করেছে সেটির সত্যতা এখনো নেই, তদন্ত করে দেখা হবে; এমনকি বিএসএফ তাদের মেজর পদবির অফিসার মরেছে দাবী করলেও বিএসএফ এ এমন কোন আর্মি র‍্যাংকের অফিসার নেই বলেও লে কর্নেল ফেরদৌস জানান।

এমনকি লে কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ স্পস্ট ভাষায় বলেন, বিএসএফের দাবী মোতাবেক পতাকা বৈঠকে ডেকে তাদের আমরা হত্যা করেছি, এমন ইতিহাস আমাদের নেই। জাতি হিসেবেও আমরা নেশাগ্রস্থ নই যে এমন আচরন আমরা করতে পারি।

  • যদিও এরপরে সরকারের ভারতীয় তোষণ মন্ত্রীদের যে কৈফিয়ত শুরু হয়েছে তাতে তারা স্বীকার করে নিয়েছেন যে বিজিবি একজন বিএসএফের কমান্ডারকে হত্যা করেছে এবং এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পদ্মায় ভারতীয় জেলেদের ইলিশ ধরা নিয়ে জটিলতার পর যে বিএসএফ সদস্যরা এসেছিল, তারা পতাকা বৈঠকের অপেক্ষা না করে চলে যাওয়ার সময় ‘উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির’ ওই ঘটনা ঘটে এবং তাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হন। তিনি বলেন, ভুল ‘বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের মধ্যে আলোচনার মধ্যে দিয়েই সুরাহা হবে।”

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের ভেতরে চারঘাট থানার শাহরিয়ার খাল এলাকায় ঢুকে তিন ভারতীয় জেলে মাছ ধরছিল। মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সেখানে একজন মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিজিবির অভিযান চলছিল। ওই সময় এক ভারতীয় জেলে বিজিবির হাতে আটক হলে বিএসএফের চার সদস্য ‘অনুমতি ছাড়াই’ শূন্য রেখা পেরিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসে। তখন বিজিবি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় জেলেকে হস্তান্তরের কথা বললে বিএসএফ তাকে ‘ছিনিয়ে নেওয়ার’ চেষ্টা করে এবং গোলাগুলি আরম্ভ করে এবং বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়।

উল্লেখ্য, এর ঠিক এক সপ্তাহ পূর্বে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় মা’দক মামলার আসামিকে আটক করে নিয়ে আসার সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯নং পিলারের ১০ নম্বর গেট এলাকা থেকে ভারতীয় বিএসএফ ৩ জন র‌্যাব সদস্য তাদের সোর্সকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর চোরের মতো বেঁধে র‍্যাব সদস্যদের অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুমিল্লার ঘটনায় কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি; কিন্তু রাজশাহীর ঘটনায় সরকার ইতিমধ্যেই তাদের নতজানু অবস্থান পরিস্কার করেছে। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনায় চলা ‘বিজিবি’ নিজেদের ও জাতির ইজ্জত রক্ষার্থে তাদের অবস্থান কিছুটা হলেও পরিস্কার করেছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।

Facebook Comments

Hits: 82

SHARE