ছাত্র রাজনীতিতে লাভ কার? ক্ষতি কার?

83

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ বিভিন্ন মহল থেকে ছাত্র রাজনীতি থাকা না থাকা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক অনেক দিন থেকেই। কোন শিক্ষালয়ে কেবলমাত্র কোন জাতীয় পর্যায়ের অঘটন ঘটলেই থেমে যাওয়া ইস্যুটি মাথাচারা দেয়; আবার যথারীতি ছাত্র রাজনীতির বেনিফিসিয়ারিদের কারনেই ইস্যুটি চাপা পড়ে যায়। আজকে আমাদের প্রতমত দেখা উচিৎ শিক্ষার্থীর পিতামাতা কেমন শিক্ষার পরিবেশ চান এবং বাস্তবতা কি? কেনই বা শিক্ষালয়ে শুধু শিক্ষাই মুখ্য উদ্দেশে পরিচালিত হয় না বা কেন শিক্ষালয়কে ক্ষমতা লাভের সিঁড়ি বানানো হয়। এ বিষয় নিয়ে আমরা উদাসীনই বা কেন?

আমরা আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে নেতা বা গুন্ডা বদমাশ বা টাকা বানানোর উদ্দেশে কেউই শিক্ষাঙ্গনে পাঠাই না। এর অন্যতম উদাহরন হচ্ছে আমাদের অধিকাংশ জাতীয় নেতা ও আমলারা এবং ব্যবসায়ীরা তাদের সন্তানদের দেশের বাইরে শিক্ষা গ্রহণ করতে বিদেশে প্রেরন করেন। কেন করেন? উদ্দেশ্য নির্ভেজাল শিক্ষা গ্রহণ। কিন্তু রাষ্ট্রের এই শক্তিমান অংশটি কেন দেশে সেই রকম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করেন না যেমনটি তারা তাদের সন্তানদের বেলায় প্রত্যাশা করেন।

আমরা আমজনতা কেমন শিক্ষাঙ্গন চাই? আমরা চাই শিক্ষালয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা ও গবেষণা থাকবে; উপরি থাকবে ছাত্রদের নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিকাশে ছাত্র ইউনিয়ন বিদেশি শিক্ষালয়ের মতো; যেখানে দেশীয় ও দলীয় রাজনীতির কোন সংস্পর্শই থাকবে না। শিক্ষার ও মানসিক এবং মানব উন্নয়নের বিষয়গুলো ব্যতীত কোন বিষয়ে ছাত্রদের সম্পৃক্ততা থাকবে না। কোন শিক্ষক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কোন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্র শাখা বলতে কিছুই থাকতে পারবে না। জাস্ট আমাদের চাওয়া এইটা।

কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতারা তাদের ক্ষমতা লাভের পথ রেডি রাখতে মাসল বাহিনী হিসেবে ছাত্রদের চায়। ছাত্র তরুণদের শক্তি ছাড়া তারা তাদের রাজনীতিতে অনেকটাই দেউলিয়া ভাবেন নিজেদের, এবং এই ছাত্র যুব শক্তি ছাড়া আসলেই আমাদের রাজনীতিবিদেরা অধিকাংশ দেউলিয়া। আর সেই মোতাবেক মিছিল মিটিং এবং ভাংচুরের জন্য তরুণদের টার্গেট করে তাদের রাজনৈতিক পথ বানায়। নিজের সন্তানদের নিরাপদ রেখে অন্যের সন্তানদের বিপথে ঠেলে দেয়। ছাত্র রাজনীতি এই সকল অপরাজনীতিবিদদের একপাত্র সিঁড়ি। এজন্য তারা বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্রদের ঐতিহাসিক ভুমিকার রেশ টেনে ছাত্রদের মহিমান্বিত করে। কিন্তু এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর পরে ছাত্রদের বা শিক্ষাঙ্গনের লাভ কি হয়েছে? জেনারেশনের পর জেনারেশন ধংস হয়ে গেছে। এতে আমাদের কথিত বন্ধু রাষ্ট্রের ভুমিকাও অনেক। আজ সেই আলোচনায় যাবো না। অন্যদিন বর্ণনা দেবো।

আমাদের জাতীয় চরিত্র হচ্ছে জি হুজুর টাইপের। যে কারনে আজো আমজনতা তার ভোট দেয়া মানুষটাকে ভাবে তার প্রভু। এই শতাব্দিতে এই প্রভুসুলভ অবস্থানের পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই। একটা জাতিকে উন্নত করতে এর বিকল্প নাই। আর এ বিকল্পকে যারা অস্বীকার করে তারা হচ্ছে হায়েনার বংশ। গ্রামের লক্ষ কোটি কৃষকের বোঝার সাধ্য নাই কিভাবে তার সন্তান ও রাষ্ট্র ধংস হচ্ছে; সে ব্যর্থ তার সন্তানের সঠিক ভবিষ্যৎ গড়তে সঠিক আওয়াজ দিতে। সে ভয় পায় নেতাদের, ভয় পায় পুলিশ, ভয় পায় আমলাদের, ভয়ে কাঁপে আদলতের নামে। এমন জাতির সামনে উপরি রাষ্ট্র কর্তৃক হত্যাকাণ্ড থাকলে আর রাজনীতির নামে ত্রাস থাকলে কোন ভাল ভবিষ্যৎ সে আশা করবে?

তাই এ কাজটি করতে এগিয়ে আসতে হবে শিক্ষিত দাবীদারদের, সচেতন ও জাতির মঙ্গল নিয়ে নির্ভেজালভাবে ভাবনাকারী সাহসী নাগরিকদের। বলতে হবে আসুন জাতীয়ভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের উপযুক্ত জ্ঞানী বানাতে রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন বানানোর আওয়াজ তুলি; সার্থক হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে, পাল্টে যাবে রাজনীতির ধরন; একসময় আমাদের সন্তানেরাই উপহার দেবে একটি বাসযোগ্য রাষ্ট্র।

Facebook Comments

Hits: 37

SHARE