বন্দুক যুদ্ধ আসলে রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড

60

রেজাউল করিম রনীঃ গুজরাট ফাইলস -বইটা লিখেছেন, রানা আইয়ূব। নাম শুনে পুরুষ মনে হলেও তিনি একজন মুসলিম নারী। বয়স তখন মাত্র ২৬। তেহেলকার সাংবাদিক ছিলেন গুজরাট নিয়ে কাজ করার সময়। মৃত্যুকে সব সময় সাথে নিয়ে তিনি ছদ্দবেশে গুজরাটে কাজ করেছেন। একজন বিদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতার পরিচয়ে তিনি গুজরাটের ভয়াবহ খুনিদের সাথে কথা বলেন। গোপন রেকর্ড ধারণ করে তাক লাগানো কাজ করেছেন। তখন তাঁর প্রতিবেদন ছাপা হওয়া মানে একটা নতুন ঝড়।

সম্প্রতি তিনি ওয়াশিংটন পোষ্টে জয়েন করেছেন। অপিনিয়ন বিভাগে কাজ শুরু করেছেন গত মাস থেকে। তখন আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা মেইল করেছিলাম। ২ ঘন্টার মধ্যে উত্তর দিয়েছিলেন। দিল্লীতে এক বন্ধুর কাছ থেকে উনার বিষয়ে প্রথম জানতে পারি।

বইটা পড়তে গিয়ে বাংলাদেশের কথা ভাবছিলাম। গুজরাটের পুলিশ ২০০২ সালে যা শুরু করেছিল এখন বাংলাদেশে গত এক দশক ধরে এটাই চলছে। মোদির মডেলটাই কি তা হলে ফলো করছে বাংলাদেশ?

এই বইতে গুজরাটের কসাই খ্যাত মোদি ও সন্ত্রাসী অমিত শাহের মদদে ২০০২ সালে দাঙ্গার নামে মুসলমানদের হত্যা এবং পরে মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদি প্রমাণ করতে একের পর এক বন্ধুক যুদ্ধের নাটক জাতিকে পরিবশেন করে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করার পুরো আয়োজন উম্মোচন করা হয়েছে। এই দুইজনই তখন গুজরাটের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

রানা যে ভাবে কাজ করেছেন তা সাংবাদিকতার ইতিহাস তো বটেই গোয়েন্দাদের জন্যও শিক্ষনীয়। এমন সাংবাদিক দুনিয়াতে এখন বিরল। এই বইটা সাংবাদিকদের পড়া উচিত। তাইলে তেলবাজির বাইরেও কি ভাবে সাহস নিয়ে কাজ করা সম্ভব তার একটা ধারণা হতে পারে।

যে সব পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছিল এই হত্যাকান্ডে এরা ছিল, নিম্নবর্গের। এরা রাষ্ট্রের সুবিধা পাওয়ার জন্য বন্ধুকযুদ্ধের নামে নিরপরাধ মানুষ ও ছিচকে চোর ও ছিনতাইকারীকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হত্যা বলে চালিয়ে দিতো। যে প্রভুদের জন্য এমন অন্যায় করত তারা তাদের নিচু চোখে দেখত। এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল এইসব বাহিনীর লোকজন এমন নিষ্ঠুরতা করতে বাধ্য হত। অনেক সময় জিম্মি করা হতো পরিবারকে। পরে যখন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় যারা তাদের ব্যবহার করেছে তারা ঠিকই সটকে পড়েছে। সেই সময় অমিত শাহ গ্রেফতার হয়েছিল রানার একটা প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই।

পরে মোদি হল ভারতের প্রধান মন্ত্রী, অমিত শাহ এখন স্বররাষ্ট্র মন্ত্রী। আর যারা তাদের হুকুম তামিল করেছিল তাদের জেলে পচতে হচ্ছে। রানা ভারত ছাড়া। এখন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক।

রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয়ে বা লোভে যে সব অফিসার অবৈধ ভাবে আইনের নামে মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচারের সময় যাদের জন্য কাজ করেছে সেই নেতাদের পাশে পাওয়া যায় নাই। রাজনৈতিক দলগুলো এদের ব্যবহার করে কাজ শেষ হলে ছুড়ে ফেলে দেয়।

বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটবে। তাই আমাদের র‍্যাব-পুলিশ ও অন্য বানিহীগুলোকে বলব, আপনারা জনগের মৃত্যুদূত হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। বিপদের দিনে কাউকে পাশে পাবেন না। যারা আপনাদের ব্যবহার করে অন্যায়কে টিকিয়ে রাখছে এরাই আপনাদের জিবনকে নরকে পরিণত করবে। এখনই এই খেলা বন্ধ করুন। আপনাদের নিজেদের জিবনের কথা ভেবে হলেও বন্ধ করুণ। বাংলাদেশে এখন সংগঠিত প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হবে আগমীতে। বিচারের সময় নেতারা পালাবে বা ঠিকই রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে সেইফ সাইডে থাকবে। ফাঁসতে হবে আপনাদের। গুজরাটের অভিজ্ঞতা তাই বলে।

লেখকঃ সম্পাদক, জবান

Facebook Comments

Hits: 21

SHARE