কেবল আশ্বাসেই যারা হাসি খুশী

61

আবু জাফর মাহমুদঃ অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়া নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতেই খুশী বাংলাদেশের কূটনীতির বড়লাট।

গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ঢাকায় এসে বলেছিলেন, এই তালিকা ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে তারপরে আসামের অর্থমন্ত্রী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের ১৪-১৫ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে ফেরত নিতে বলার পরিকল্পনার কথা জানালে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে সাম্প্রতিক সফরকালে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলের কেনেডি রুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আশ্বাস দেন মোদি। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের একথা জানান।তিনি মোদিজীর পছন্দ এবং নির্দ্দেশ কার্যকর করেছেন নাকি অনুগত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চাকরি রক্ষার জন্যে সৌজন্য দেখিয়েছেন তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে।

বিজেপি নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উল্লেখিত বক্তব্য পরিবর্তনের কোন আভাস অথবা প্রমাণ মিলেনি কোথাও।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা কেহ কোন আন্তর্জাতিক ফোরাম অথবা দ্বি পাক্ষিক ফোরামে ভারত সরকারের কাছ থেকে তাদের সরকারী দল এবং সরকারী মন্ত্রীর এই নীতিগত বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইতে শোনা যায়নি।কথা হচ্ছে,আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বর্তমান পর্যায়ে কোন রাজাকার বা দালাল কলাবরেটর প্রকৃতির চরিত্র বর্তমান সরকারে থাকার কথা তো নয়।

বিজেপি সরকারের মতে তথাকথিত “অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত নিতে বলার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলার পরও তার ব্যাখ্যা চায়নি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা। এই মন্ত্রণালয় কি বাংলাদেশের বৈদেশিক স্বার্থ রক্ষা করে নাকি অন্য কারো আদেশ নির্দেশ পালনের চাকরি করে চলেছে?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, “মোদি বলেছেন, আমাদের দুই দেশের যে সম্পর্ক এই ছোটখাট বিষয় আমরা সহজে টেক কেয়ার করব, আমার লোকেরা কাজ করবে এবং দে উইল ফিক্স ইট। এগুলো নিয়ে আপনাদের কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। উই উইল টেক কেয়ার ইট।” কি আশ্চর্য্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন কিছু বলতে হয়নি।

প্রায় চার বছর ধরে যাচাই-বাছাইয়ের পর ভারতের আসাম সরকার সম্প্রতি এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জন জায়গা পেয়েছেন, বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন।

এবিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এগুলো নিয়ে কোনো চিন্তা করার কারণ নেই। উনি (মোদি) বলেছেন যে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে এত ভালো সম্পর্ক, এর প্রেক্ষিতে এই ছোটখাট অনেকগুলো ইস্যু আছে, এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো রকমের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।”

মোদিজির কথাগুলোর সাথে বাস্তবতার মিল পাওয়া যে কত কঠিন,তা যারা জানছেন বুঝছেন তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবং নীতি নির্ধারকদের প্রতি সরাসরি সন্দেহের আঙ্গুল তুলে আছেন। এ আঙ্গুল নামছেনা দেখে বিশ্লেষকরাও সতর্ক করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কিন্তু ………………………?

লেখকঃ সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি, দেশকন্ঠ, নিউইয়র্ক

Facebook Comments

Hits: 18

SHARE