আন্দোলনের চেষ্টায় বিএনপিঃ মেজর হাফিজ ও কর্নেল ইসহাক গ্রেপ্তার

142

শেখনিউজ রিপোর্টঃ অবশেষে ধীরে ধীরে আন্দোলনে ফিরছে বিএনপি। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো বিভিন্নভাবে মিছিল মিটিং শুরু করেছে। তবে লক্ষণীয় হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির সকল সংগঠনই মূলত ভারতীয় চানক্যবাদের বিরোধী এবং তারা সেই লক্ষকে পুঁজি করেই মাঠে নামছে; যদিও শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিষয়ে নাখোশ।

ভারতের সঙ্গে করা ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি বাতিল ও আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে বিএনপি একটি অনুমোদনহীন সমাবেশ আয়োজন করে পার্টি অফিসের সামনে। পুলিশের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে। এটি বিএনপির আন্দোলনে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। তবে বিএনপির তৃনমূল মনে করে ভারত বিরোধিতার ধারায় ফেরার কারনেই বিএনপির নেতা কর্মীরা চাঙ্গা হয়েছে এবং একের পর এক সমাবেশ মিছিল সম্ভব হচ্ছে।

তৃনমূলের মতে বিএনপি নেতাদের ভারতপন্থি অবস্থান নেয়াটাই ছিল আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত এবং এটি দলের মধ্যে যারা উৎসাহিত করেছিলেন তাদের যে কোনভাবে শায়েস্তা করার পরিকল্পনাও তৃনমূলের রয়েছে বলে জানা গেছে। দলের দীর্ঘ এই ক্ষতি করার জন্য কথিত ভারত পন্থীরাও সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন। বাংলাদেশে এরা গুম হয়ে যেতে পারেন এবং যার দোষারোপ হবে ভারত বিরোধীদের উপর। আবার উল্টো ভারত বিরোধীরাও এদের শিক্ষা দিয়ে এক ঢিলে অনেক পাখি মারতে চাইছেন যেন তাদের রাজনীতি রক্ষা পায়।

এদিকে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কর্নেল (অব.) ইসহাক মিয়াসহ বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

একইভাবে সকালে মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২৭/৩১/৩৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। উল্লেখ্য দুটো গ্রেপ্তারেই পুলিশের সম্পৃক্ততা দেখা গেছে; এমনকি র‍্যাবের সেনা অফিসারদের এখানে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সরকারের এই অবস্থাকে তিনি দেখছেন ‘ফাঁদ’ হিসেবে, সেই ‘ফাঁদ’ থেকে সরকার আর বেরোতে পারবে না বলেই তার বিশ্বাস। বিএনপির ভারত বিরোধী অংশও তাই মনে করে। তবে বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে থাকা একটি কোটারি চক্র ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলতেই নারাজ। তবে বাংলাদেশে বিএনপি নেতা কর্মীদের ভারতীয় ব্রাহ্মন্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরোধিতা হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো। এর বিরোধিতাকারীরা বাংলাদেশী অংশের হাতের নাগালে গেলে ভারতপন্থি ঐ কোটারি গোষ্ঠীর লাঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

তাই অনেক ব্যর্থতার পরে রাজনীতিতে ফেরার লক্ষ্যে হাই কমান্ডের গ্রিন স্যিগন্যাল পেয়েই বিএনপি তার মুল ধারার রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় হয়ে পড়েছে; তবে অভিজ্ঞদের মতে ভবিষ্যতে মুল্ধারা থেকে সরে গিয়ে ভারতপন্থি রাজনীতি করতে চাইলে বিএনপি তার রাজনীতি থেকে ছিটকেই শুধু পড়বে না, গণসমর্থনও হারাবে।

Facebook Comments

Hits: 55

SHARE