সেনাবাহিনীর অভিযোগ নেই কিন্তু গ্রেপ্তার মেজর হাফিজ ও কর্নেল ইসাহাক

208

শেখনিউজ রিপোর্টঃ সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা প্রধান কর্নেল (অব) ইসাহাক মিয়া। গুরুতর এই অভিযোগে পুলিশ এবং র‍্যাবে থাকা পুলিশ অফিসারেরা গ্রেপ্তার করলেন তাদের। কিন্তু ইতিপূর্বে কর্নেল ইসাহাককে রিমান্ডে নেয়া গেলেও রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেয়া হয়েছে মেজর হাফিজকে।

এদের বিরুদ্ধে সেনবাহিনীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে পুলিশ৷ মেজর হাফিজসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব৷ এমনতর গুরুতর অভিযোগ কিন্তু মামলা হয়েছে ডিজিটাল আইনে, বিষয়টি বেখাপ্পা এবং আশ্চর্যজনক বটে; এমনকি এই গুরুতর অভিযোগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে নেই কোন বিবৃতি বা আইএসপিআর দেয়নি কোন প্রেসনোট।

সবচেয়ে আশ্চর্য র‍্যাবের কোন সেনা অফিসার এই গ্রেপ্তার বা গ্রেপ্তার পরবর্তী আইনি কর্মকাণ্ডে হননি সম্পৃক্ত। সবকিছুই পুলিশের কাঁধে বন্দুক রেখে করা হয়েছে। এমনতর ঘটনা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।

পুলিশের দায়ের করা এজাহার এবং আদালতে মেজর (অব.) হাফিজের রিমান্ড আবেদনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘গত ২ মে ইসহাক মিয়ানের ব্যক্তিগত ইমেইল থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আরেকটি ইমেইলে পাঠানো হয়৷ ইসহাক মিয়ান আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মেজর হাফিজ এবং ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনসহ আরো কয়েকজন এর সঙ্গে জড়িত৷”

এজাহার এবং পুলিশ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘‘হাফিজসহ অন্যরা ওই ইমেইলের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিলো৷ তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছিল৷”

এমনতর বিশাল রাষ্ট্রদ্রোহী কাজের দ্বারা সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্থ অথচ সেনাবাহিনীর বক্তব্য নেই এটি সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থাবান নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতে বলেন, ‘‘ইমেইল জব্দ করা হয়েছে৷ মামলার জব্দ করা মালামালের সঙ্গে তা আছে৷ এটা আদালতে পাঠানোর বিষয় নয়৷ আমাদের কাছে যে তথ্য-প্রমান আছে তাতে মেজর(অব.) হাফিজ সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ইমেইলের মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছেন৷ তাকে সহযোগিতা করেছেন কর্নেল(অব.) ইসহাক৷”

সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে এমনতর সরকারী ও পুলিশি প্রচারনায় সেনাবাহিনীর সর্বস্তর ক্ষুব্ধ বলেও জানা গেছে। রাজনীতির এমনতর নোংরা খেলা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে দূরে রাখার জন্য অভিজ্ঞ মহল সরকারকে সতর্ক করেছে।

Facebook Comments

Hits: 143

SHARE