জাতিসংঘে ইমরান খানঃ অনন্য এক মুসলিম লিডারশীপের প্রতিচ্ছবি

83

শেখনিউজ রিপোর্টঃ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন, যে ভাষণ জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের বর্তমান সময়ে গরীব অর্থনীতির দেশের নেতা হয়েও ইমরান খান যেভাবে ইসলামিক বিশ্বের প্রতিনিধত্বমুলক ভাষণ দিয়েছেন তা সত্যিই অনন্য এবং ঐতিহাসিক।

কি ছিল ইমরান খানের ভাষণে যা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে? মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে? এমনকি মুসলমানদের সম্পর্কে পাশ্চাত্যের ধারনায় বিশাল ঝাঁকুনি দিয়েছে?

একজন কনফিডেন্ট লিডারের মতো বিশ্বের সামনে দাড়িয়ে যেভাবে ইমরান খান শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে ৫০ মিনিট ইসলামিক বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যা ইতিপূর্বে কোন ধনী মুসলিম নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেয়া পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়কের বক্তব্যকে অনেকেই অবিস্মরণীয় বলছেন। জাতিসংঘে ইমরান খানের ভাষণকে কেন্দ্র করে পাকিস্তারে জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ডন হেডলাইন করেছে ‘জাতিসংঘে ইমরান খানের বক্তব্য ৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মতোই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

পাক প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর ইস্যুটি বিশ্ব নেতাদের সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ভারত সরকারের নির্মম অত্যাচারের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, গত ৫২ দিন ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে পশুসুলভ আচরণ করছে আরএসএস মতাদর্শী মোদি সরকার।

আরএসএস মতাদর্শী ভারতের বর্তমান সরকার হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মানসিকতা নিয়ে মুসলিমনিধন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সরকারের হাতেই গুজরাটে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। কাশ্মীরে কারফিউ প্রত্যাহারের পর আমরা আবারও এমন একটি গণহত্যার আশঙ্কা করছি’।

মুসলিম নির্যাতনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে তাদের ব্যাপারে সবাই নীরব বসে থাকে। আজকে যদি ইহুদিরা এভাবে অবরুদ্ধ থাকতো, তাহলে কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এমন হতো? রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হলো, আন্তর্জাতিক শক্তি কি ভূমিকা পালন করেছে?

তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা উগ্রবাদে জড়ায়, তারা ইসলামের কারণে নয় ইনসাফের অভাবেই এ পথে পা বাড়ায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায় এড়াতে পারে না।

ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে গত প্রায় দু মাস ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে যেভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তা যে কোনো সময় বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

ইমরান খান বলেন, ‘যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো যুদ্ধ হয়, তাহলে ছোটো দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার ছাড়া পাকিস্তানের কোনো বিকল্প থাকবে না। একবিংশ শতাব্দীতে এসে গণহত্যা, এরিয়ানইজম, জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব, আমৃত্যু লড়াই এ ধরনের শব্দ ব্যবহার মধ্যযুগীয় মানসকিতার বহিঃপ্রকাশ।’

ইমরান খান বলেন, ভারত একটি বিশাল বাজার হিসেবে পাশ্চাত্য যে উপেক্ষার নীতি অবলম্বন করছে সেটি উচিৎ নয়। এই অঞ্চলে যদি পারমানবিক যুদ্ধ শুরু হয় তার প্রতিক্রিয়া হবে অনেক বেশি, ধারনার চেয়েও বেশি; যা তিনি সবাইকে সতর্ক করছেন; এবং সে জন্যই তিনি জাতিসংঘে এসেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ তার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না; সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় রোধে এখনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানান।

Facebook Comments

Hits: 41

SHARE