জাতিসংঘে নয়া বিশ্ব ব্যবস্থার ইঙ্গিত ইমরান খানের

116

রেজাউল করিম রনিঃ জাতিসংঘের ৭৪ তম আসরে খানের ভাষণ নিয়ে দুনিয়াতে এখন যে ঝড় বইছে তা মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। এমনকি ইমরান খান গত ৬ মাস ধরে যা বলছিলেন তাই তিনি আবারও সুন্দর করে গুছিয়ে বলেছেন তাঁর ভাষণে। নতুন কিছু বলেন নাই। কিন্তু জাতিসংঘের এই আসরে এমন ভাবে বক্তব্যটা পেশ করার ফলে এতোদিন বিচ্ছিন্নভাবে বলা কথাগুলাই যে আসলে তাঁর রাজনৈতিক পজিশন তা স্পষ্ট হল। তো কি সেই রাজনীতি? এটাই একটু বলার চেষ্টা করব।

১.
খানের বক্তৃতা নিয়ে প্রশংসা এই কারণে মানুষ করছে না যে- তিনি খুব ভাল ইংরেজি বলেন। বরং তিনি যে ভাবে বয়নটা আর্টীকুলেট করেছেন তার মধ্যে রাজনীতি, আবেগ, আত্মবিশ্বাস এবং হুমকি এমন ভাবে মিশে ছিল যা খুবই টাইমলি ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে- রেটরিক, ইতিহাস, তত্ত্ব, তথ্য মিলে এমন একটা কনফিডেন্ট বয়ান ছিল যা উনার লেকচারটাকে ম্যাজিক্যাল করে তুলেছে। এই ছিল উনার বক্তব্য গঠনের মাল-মসল্লা।

কিন্তু সুন্দর বক্তৃতাতেই রাজনীতি বা পররাষ্ট্রনীতির জয় হয়ে যায় না। ব্যবহারিক এ্যকশনের দিক থেকে এই বয়ানের মতোই সুনিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ দেখলেই আমরা বুঝতে পারব আসলেই খান নয়া পাকিস্তান থেকে কিভাবে নয়া বিশ্বব্যবস্থার দিকে রাজনীকে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আর এটা করতে গিয়ে তিনি নিজের জিবনকেও ঝুঁকিতে ফেলেছেন। এখন খানের জিবন নিয়ে সবাই খুব টেনশিত। উনাকে বহন করা বিমান দ্রুত অবতরণ করেছে টরেন্টোতে। বলা হচ্ছে কলকব্জার গন্ডগোল। তবে মনে হচ্ছে- এটা একটা সফক্ট থ্রেট। পরিবেশ, মানি লন্ডারিং, ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদ, ইসলামোফোবিয়া এবং কাশ্মির -এই ছিল জাতিসংঘে উনার ভারষণের আলোচনার টপিক।

২.
আমার বিবেচনায় খানের আলাপের সব চেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় ছিল, পশ্চিমা লিবারালিজমের সীমাবদ্ধতাটা খুব সহজে দেখিয়ে দেয়া। এটা এক হাজার ক্রিটিক্যাল চিন্তাশীল লেখকের ইন্টারভেনশনের চেয়ে বেশি কার্যকরী হয়েছে, স্থান, সময় ও ব্যাক্তির গুরুত্ব বিবেচনায়। তিনি কিভাবে এটা করলেন?

ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, লন্ডনে যিশুখ্রিষ্টকে নিয়ে কমেডি নাটক হচ্ছে। এবং বিপুল মানুষ মজা করছে আর অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। এবং পশ্চিোরা এটাকেই সহনশীলতা, সতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে প্রচার করে।

কিন্তু ইসলামের শেষ নবী ( সা:) নিয়ে এমন কমেডি নাটক তো দূরের কথা, কেউ একটা গালি দিলেও মুসলমানরা ফুঁসে ওঠে। আর এটাকেই পশ্চিম বলে দেখ দেখ, মুসলিমরা কতো গোড়া, মৌলবাদি। সমালোচনার স্বাধীনতাও দেয় না। ইমরান এই ফেনোমেনার চমৎকার কাউন্টার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মুসলিমরা ফুঁসে ওঠে কারণ, আমরা মনে করি- বাকস্বাধীনতার নামে কারো মনে আঘাত দেয়ার চর্চা অপরাধ। যারা আঘাত পান তাদের পক্ষে এই যে বিপুল মানুষের ঐক্য এটা পশ্চিমা মানবতাবাদের চেয়ে বেশি সলিড। আমরা মানুষের রিদয়কে গুরুত্ব দেই। মানুষের কষ্ট হয় এমন বিষয় নিয়ে মশকারি করার মতো নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে যে ঐক্য এটাকে কি ভাবে জঙ্গিপনা বলেন। এর চেয়ে মানুবিক রেসপন্স আর কি হতে পারে?

এই বয়ানের তাত্বিক ভিত্তি হল-
পশ্চিমের উদারতাবাদ যে ফিলেনথ্রোপিক বা দাতা মানসিকতার উপর গড়ে উঠেছে এটা কোন কাজে আসে না। এটা সিলেক্টিভ মানবাতাবাদ। এটার চেয়ে এই যে কমিউনিটি (মুসলিম) সলিডারিটির/ঐক্যবদ্ধ মানসিকতা তা শতগুল শক্ত আর এটাকেই পশ্চিম মৌলবাদ বলে প্রচার করে আসছে। এটা ভূল। প্রতিটি ধর্মগোষ্ঠিতে, কট্টর, মডারেট, উদাসি -এই তিন শ্রেণীর মানুষই আছেন। কাজেই ইসলামকে ব্লেম দেয়া বন্ধ করতে হবে। তার পরে তিনি নবী (সা:) কি ভাবে জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে নয়া সভ্যতার দিকে দুনিয়াকে নিয়ে গেলেন সেই কথা বলেন।

মুসলমানরা কেন নবীর অপমান হলে জানবাজি রেখে রাস্তায় নামে এটার এতো সুন্দর কাউন্টার পপুলার ফিল্ডে এর আগে দেয়া হয় নাই। এই কান্টার পশ্চিমা উদারনীতিবাদও মানতে বাধ্য হবে। এই ভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে কথা বলার একটি পরিসর পশ্চিমা সমাজের মূলধারায় স্থান পেলে গোটা পৃথিবীতে মুসলমিরা আর আদার বা অপর হিসেবে বিবেচিত হবে না- এটা একটা দিক।

অন্যদিকে খান যখন বলেন, যে কাউকে আপনি ‘ইসলামি টেররিষ্ট’ ঘোষণা দিয়ে গোটা জনগোষ্ঠির সব অধিকার হরণ করার যে বৈধতা পেয়ে যান, তা কতটা অমানবিক তার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি কাশ্মিরের কথা বলেন। প্রায় এক কোটি লোক খোলা জেলে বন্দি। কিন্তু ৮ শ আমেরিকান বা ইউরোপিয় বন্দী থাকলে দুনিয়া ফেঁটে পড়ত। কিন্তু কাশ্মিরের বেলায় এই নিরবতার কারণ হল, তাঁরা মুসলিম। প্রাণীর প্রতি যে আচরণ করা হয় তার চেয়ে বাজে আচরণ আজ কাশ্মিরিদের সাথে হচ্ছে। অথচ দুনিয়া চুপ। বরং তাদেরই সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। এটা উগ্র হিন্দত্ববাদিরাও ফলাও করে প্রচার করছে। পশ্চিম ও ভারতের ইসলামোফোবিক আচরণের বিরুদ্ধে তিনি যে পজিশন নিলেন তা ঐতিহাসিক।

মোদির জোকরীকে তিনি উদাম করেছেন এই ভাষণে, নির্বাচনে জেতার জন্য তিনি পাকিস্তানের সীমানার ভেতর ১০ টা গাছের প্রাণ হরণ করে প্রচার করলেন তিনি বিরাট প্রতিশোধ নিছেন, বোমা হামলা করে পাকিস্তান তামাতামা করে ফেলছেন। এবং পাকিস্তান যখন সৌজন্যতা দেখিয়ে আটক পাইলটকে ছেড়ে দিল, এটাকে মোদি ও তার পোষ্য মিডিয়া পাকিস্তানের পরাজয় হিসেবে প্রচার করল। এই যে আরএসএস -এর আজিবন সদস্য, গুজরাটের কসাই মোদি, মোসলিনী-হিটলারের আদলে বর্ণ-ভিত্তিক ভারতীয় জাতিয়তাবাদ প্রচার করে গোটা রিজিয়নের মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার ধারা চালু করেছেন তার বিরুদ্ধে গোটা দুনিয়াকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিছেন-খান।

ভারতের বিশাল বাজারের লোভে যারা মানুষকে পশুর মত মরতে দেখেও কোন কথা বলছেন না তাদেরও চরম মূল্য দিতে হবে। এবং খান যেটা আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ইসলামের র‌্যাডিক্যালাইজেশনের জন্য দায়ী এই পশ্চিমা মুসলিম ঘৃণা ও ফ্যাসিবাদি প্রবণতাই। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি যদি এখন কাশ্মিরে থাকতাম, দেখতাম আমার ঘরে ভারতীয় সেনারা অত্যচার করছে, ধর্ষণ করছে আমি হাতে অস্ত্র তুলে নিতাম। কাজেই কাশ্মিরে ৫৬ দিন ধরে যে অমানবিক অবরোধ চলছে, ১৩ হাজার যুবককে গুম করে রাখা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কাশ্মিরের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে রক্তযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নাই। তখন তাদের সন্ত্রাসী/জঙ্গি বলে চিৎকার করলেও লাভ নাই। আপনারা তাদের বাধ্য করছেন অস্ত্র হাতে তুল নিতে। কাশ্মিরে সংঘাত শুরু হবে আর ভারত পাকিস্তানকে ব্লেম করবে। পাকিস্তানে সে হামলা করবে। আর দুটা পারমানবিক দেশ যুদ্ধে জড়াবে। এবং ঘটনা আর এই বর্ডারের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকবে না। সারা দুনিয়াকে এর মাশুল দিতে হবে।

বক্তব্য আপনারা অনেকেই শুনেছেন। এটা নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখার কিছু নাই। কিন্তু যে রাজনীতিটা এই বক্তব্যের ভিতর দিয়ে হাজির হয়েছে তা বলেই শেষ করি।

ক.
সারা দুনিয়ার যে বাণিজ্যবাদি ফ্যাসিস্ট ঐক্য তাতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সরাসরি মদদ জারি আছে। ভারত ইসরায়েলের অস্ত্র ও মদদপুষ্ট একটি নয়া ফ্যাসিবাদি রাষ্ট্র। এখন কাশ্মির নিয়ে এই সংঘাতের আসল কারণ হল, ধীরে ধীরে যুদ্ধটা পাকিস্তানের ভিতর প্রবেশ করানো এবং পাকিস্তানের পারমানবিক ব্যবস্থার দখল নেয়া। এটা না করতে পারলে ইহুদিবাদি যে বিশ্ব-প্রকল্প তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে না। আর এটার জন্য ইসরায়েল মোদির চেয়ে ভাল ঘাতকে পাবে না। এটাই সুযোগ।

পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে যেমনই হোক, তার পজিশনে যতই সমস্যা থাকুক। যেমন চায়নাতে মুসলিম নির্যাতন হলে সে তেমন কিছু বলতে পারে না। বা বালুচিস্তানে পাক সেনারা কোন অন্যায় করে না তা তো বলা যাবে না। কিন্তু খান আসার পরে এই সমস্যাও অনেক খানি মিটে গেছে কিন্তু ভারত এটাকে যতটা পারে তাতিয়ে যাচ্ছে। যা হোক, দুনিয়ার একমাত্র সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান, যার বিপুল পারমানবিক শক্তি রয়েছে। এবং যার নেতা ইমরান খান এখন মুসলিম দেশগুলার সাথে পশ্চিমের বিবাদ মিটানোর ক্ষেত্রে রেফারির ভূমিকাতে থাকেন।

আফগান সংকট থেকে ইরান-আরব-আমেরিকা বিবাদ। উইরোপের সাথে মধ্যপ্রচ্যের সম্পর্ক এই সব ব্যাপারেই পাক উজিরে আযমকে থাকতে হয়।
ফলে মুসলিম বিশ্বের আপাত অনৈক্য চোখে পড়লেও যখন খান-এরদাগান-মাহথির মিলে এন্টি ইসলামোফোবিক টিভি চ্যানেল করার কথা বলেন। যখন খানকে দেখা যায় সব চেয়ে বেশি মিটিং করেন বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে। পশ্চিমকে তিনি যখন ঠান্ডা মাথায় থ্রেড করেন তখন পাকিস্তানকে ভয়াবহ রাষ্ট্র মনে না করার কোন কারণ নাই পশ্চিমাদের।

যেমন ধরেন,
কাশ্মিরে এই অবরোধ উঠে গেলে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হবে তা পরিস্কার। তখন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রীত ভূমি কাশ্মিরীরা ব্যবহার করবে পাকিস্তান না চাইলে( যদিও না চাওয়ার কোন কারণ নাই) ভারত তখন দেখবে কাশ্মিরকে ঠান্ডা করতে হলে পাকিস্তানকে ঘারের উপর রেখে সম্ভব না। পাকিস্তানে তাকে হামলা করতেই হবে। পাকিস্তান ভারতের চেয়ে ৭ গুন ছোট কিন্তু ইনফেনটরি, আরটিলারি, এয়ার যে কোন যুদ্ধে ভারতের চেয়ে বেশি দক্ষ। কারণ তাদের সব সময় যুদ্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে সেই ২০০১ সালের পর থেকেই। তার পরেও ভারত এই যুদ্ধে এগিয়ে থাকবে । তখন পাকিস্তানকে লড়তে হবে শেষ শক্তি দিয়ে। কি সেই শেষ শক্তি ?

নাহ, আগেই এটমিক ওয়ারে যাবে না।
এবার যুদ্ধটাতে পাকিস্তান-আফগানিস্থান-কাশ্মির এবং মধ্যপ্রচ্যের বিপুল পরিমান সেচ্ছাসেবক মুজাহিদি মিলে এক নয়া যুদ্ধের সূচনা হবে। বিভক্ত হয়ে যাবে গোটা দুনিয়া। শক্তির ভারসাম্যের হিসাব যাবে পাল্টে।

চায়না-রাশিয়া এন্টি পশ্চিম অবস্থানে থাকবে। অস্ত্র কোন সমস্যা হবে না। ইরান সব শক্তি দিয়ে সাহায্য করবে। সৌদি উপরে উপরে ইসরায়েল-আমেরিকা তলে তলে পাকিস্তান মেনটেইন করবে। আর যারা সরাসরি যুদ্ধে আসবে না টাকা দিবে। যেমন মালেশিয়া, কাতারসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে ইসরায়েল ভারত-আমেরিকা ইউরোপ এক কাতারে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

চিন্তা করেন অবস্থা ! পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধ হবে এটা, যদি এই সংঘাতকে এখনই থামানো না যায়। খানের গোটা আলোচনায় যুদ্ধের যে ভয়াবহতা নিয়ে আতংক, যে সতর্ক হুমকি পশ্চিমকে জানানো হল তার পটভূমি হল এটাই।

খ.
কিন্তু এখন কি ঘটবে? ভারত মোদির মত একটা কসাইয়ের জন্য গোটা দুনিয়ার কাছে নিজেদের হিটলারের চেলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। কিন্তু গোটা ভারত তো মোদিবাদি না। ইমরান খান বুদ্ধিমানের মত ভারতকে কোলে বাসাই আদর করতে করতে থাপ্পরটা দিছেন। ভারতকে তিনি ওন করেছেন। তাঁর অনেক বন্ধু আছে ভারতে। ভারতের বিপুল মানুষ উনাকে পছন্দ করেন ক্রিকেট সূত্রে। তিনি ভারতকে ভাল করে চিনেন। কিন্তু মোদি এই বহুজাতির ভারতকে নরকে পরিণত করছে। ভারতের অন্য অঞ্চলের মুসলিমরাও কাশ্মিরে কি হচ্ছে তা দেখছেন- এটাও খান জানিয়েছেন। যেটাকে বলে ফ্রেন্ডলি ফায়ার, খান এটাই করেছেন।

ইমরান খান এখন গণতন্ত্রের যে রেটরিক তুলে ভারতের বিরুদ্ধে নেমেছেন এটা ভারতের পৃথিবীর বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশের গৌরবে কপালে কলঙ্ক তিলকা( পড়ুন গোবর তিলক) এঁকে দিছেন। ফলে পশ্চিমা দুনিয়া পাকিস্তানের পজিশনকে আর আগের মতো সন্ত্রাসবাদি বলতে পারবে না। অন্যদিকে গোটা দুনিয়ার, এন্টি আমেরিকান শক্তি ঐক্যবদ্ধ হবে ইমরানের পাশে। যদিও এরা কেউ গণতন্ত্রের গ-ও বিশ্বাস করে না। সেটা কোন সমস্যা না। কিন্তু মজাটা হলো, যে পশ্চিম গণতন্ত্রের এজেন্ট তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষে নয়া জোট দেখা যাবে এই প্রেক্ষাপটে। এই বেকায়দা অবস্থা থেকে পশ্চিম কি ভাবে বের হয় তা দেখার বিষয়।

শেষ করি। উপরে যা বললাম, তা কালকে থেকেই ঘটতে শুরু করবে এমন না। এটা একটা ওভারঅল প্লট। এখানে অনেক সাবপ্লটও আছে। থাকবে। কিন্তু ইসলামী দুনিয়া আর পশ্চিমা দুনিয়ার সাথে যে সভ্যতার সংঘাত চলছে তার চূড়ান্ত পরিণতি যে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাতে এই প্লটটাই এখনও পন্ত পরিস্কার দেখা যাচ্ছে।

গ.
ছোট করে একটু নিজেদের দিকটা বলি:
মানবতার আম্মা, জাতীর আতংঙ্ক বাংলাদেশকে যে ভাবে ভারতের কলোনিতে পরিণত করেছেন তাতে আমাদের মুক্তির জন্য হলেও দক্ষিণ এশিয়াতে নতুন যে সমিকরণ তৈরি হয়েছে তাতে সক্রিয় থাকা দরকার। এই সময়ে জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে ও সাউথ এশিয়ার নেত্রীত্ব আমাদের হাতে থাকতে পারত। খানের ভূমকায় তাকেই দেখা যেত হয়তো। কিন্তু আমাদের সেই কপাল নাই। নিজের দেশের ভেতরই আমরা পরাধীন । ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি নাই। মদিনা সনদের আওয়াজ দিয়ে দেশে ভারতীয় সনদের শাসন চলছে।

কাশ্মির নিয়ে প্রতিবাদ করলে গুলি করা হবে বলে জানিয়ে দিছে ব্যার প্রধান।
আমাদের কোন রাজনীতি নাই। জনগন ভয়ের কাছে বন্দী। বিরোধী দল এখনও গণভিত্তি গড়ে তুলতে পারে নাই।

কিন্তু কাশ্মির ইস্যু চাঙ্গা হলে সরকার যেহেতু ভারতের দাশ হিসেবে ভূমিকা নিয়েছে। হেফাজতও বাধ্য হবে কওমি জননীর বিরুদ্ধে পজিশন নিতে। এতো টাকা দিয়ের কিনে লাভ হবে না। এরা কাশ্মিরের পক্ষে থাকবে। আর পক্ষে না থাকলেও বিরুদ্ধে যাবে না। এবং আসল কথা হল- জনগন বিনা বাক্যে কাশ্মিরের পক্ষে থাকবে। বাংলাদেশে শান্ত থাকবে না।

শুধু মুরগি কবির টাইর কিছু মানুষরুপি শুয়র ছাড়া সবাই কাশ্মিরের পাশে থাকবে। তখন বাংলাদেশের জনগনের বিরুদ্ধে এখানের ভারতীয় পদলেহি বানহিনী এ্যাকশনে নামতে বাধ্য হবে। তখন জনগনের হুশ ফিরবে। ফিরতে বাধ্য হবে। ফলে কাশ্মির ইস্যুটা আমাদের জন্যও নানান দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। আমার অনুমান হল- বাংলাদেশ থেকে আফগান যুদ্ধে যে পরিমান মুজাহিদ গেছিল সোভিয়েত আমলে বা ২০০১ এর পরে, এবার কাশ্মির কান্ড শুরু হলে সংখ্যাটা কয়েকশ গুন বেশি হবে।

ঘরোয়া রাজনীতে বাংলাদেশে যে ভাবে পাকফোবিয়া চালু করা হয়েছে তা বিষ্ময়কর মূর্খতার উপর ভর করে টিকে আছে। মজার কথা হল- ফ্যাসিবাদ বিরোধী সাউথ এশিয় যে ঐক্য তাতে বাংলাদেশের জনগন পাকিস্তানের দিকে থাকবে। চেতনার আগুনে সরকার ও বুদ্ধিজিবিরা জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও কিছু করার নাই। কাশ্মির সংকট বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস তৈরির সুযোগ নিয়েও হাজির হতে পারে।

ভাষানীর কথা দিয়ে শেষ করি, জালেমের কোন ধর্ম থাকে না। আর মুসলিম হলেই মজলুমের প্রতিরোধকে যে জঙ্গি বলে সে জালেমের চেয়ে নিকৃষ্ট।

লেখকঃ সম্পাদক, জবান

Facebook Comments

Hits: 51

SHARE