হঠাৎ কেন উল্টো পথে শেখ হাসিনা?

340

শেখনিউজ রিপোর্টঃ স্বৈরতন্ত্র ও লুটতন্ত্রের এক বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে এই পর্যায়ে এসে শেখ হাসিনা হঠাৎ করে পুরো উল্টো ডিগ্রীতে নিজের দলের লোকজনকে হেনস্তা করা শুরু করলেন কেন? পুরো জাতি বিস্ময়ে অবাক।

কাজগুলোর দিকে যদি একটু তাকানো যায় তবে-

শনিবার আটক যুবলীগ সমবায় সম্পাদক নেতা জিকে শামীমকে ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তার নিকেতনের অফিস থেকে  ৯ কোটি নগদ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর-এর কাগজপত্র  এবং মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। মাদক, অস্ত্র ও মানিলন্ডরিং আইনে তিনটি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকায় সরকারি বিভিন্ন কাজের দরপত্রের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত তিনি। 

একই দিনে আটক কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফিরোজ দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

বুধবার যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক  ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে আটকের পর সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং মাদক আইনে দুইটি মামলা হয়েছে। খালেদকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

প্রথম দিকে যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন, কেন এই সকল আওয়ামী লাইফ লাইন ধংস করা হচ্ছে, এটা আওয়ামী লীগকে ধংসের শামিল বোলেও দাবি করেন। গ্রেপ্তারের সিরিয়ালে থাকা আরেক যুবলীগের নেতা সম্রাটকে তিনি রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।

তবে শেখ হাসিনা ১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে যাদের নাম ধরে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন তাদের অনেকেই এখনও আটক হয়নি। এর মধ্যে তিনি বিদেশহ যাত্রার কারনে ইতিমধ্যেই এই সকল অপরাধীদের সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। সম্রাট তার কাকরাইলের অফিসে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে অবস্থান করে ক্ষমতা দেখান। তাকে এখনও আটক না করে প্রমাণের অপেক্ষায় আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুবলীগ সভাপতির বলেছেন, ‘‘আমাদের ধরলে আমরা বসে থাকবোনা। পুলিশ কি এতদিন আঙ্গুল চুষছিলো?  ৬০ থানাকে অ্যারেস্ট করতে হবে।‘‘ আটক যুবলীগ নেতাদের ঘনিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে পুলিশ র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কতিপয় প্রভাবশালী সাংবাদিকের। পুলিশের সহায়তা ছাড়া এতদিন এই ক্যাসিনো ব্যবসা চলতে পারেনা। 

অন্যদিকে চাঁদাবাজি করার কারনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে দলছাড়া করেছেন। আরও অনেকেই লাইনে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে।

কিন্তু এই ঘটনাগুলো ঘটছে কেন; এগুলো তো নতুন কিছু নয়; চলছে তো যুগ ধরে। ভাগ বাটোয়ারা হচ্ছে সবার সাথে। এমনকি এই সকল নেতারাই এই অবৈধ অর্থ দিয়ে আওয়ামী লীগের শো-ডাউন থেকে শুরু করে মাসেল শো পর্যন্ত করে দলকে টিকিয়ে রাখছে, সংসদ বানিয়েছে। তাই এদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি বিশ্লেষণ পাওয়া গেছেঃ

১। আওয়ামী পরিবারে ৪ টি ক্ষমতার বলয় এখন; শেখ হাসিনার, শেখ রেহেনার, শেখ সেলিমের এবং আমু-তোফায়েলদের। শেখ হাসিনার অসুস্থতাকে ঘিরে যে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তারই একটি অংশ এই গ্রেপ্তার।

২। শেখ হাসিনাকে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইলে বা কোন পরিস্থিতিতে এমন হলে এই ব্যক্তিরাই হবে সেই ঘটনার ইস্যু। এমনকি ইস্যু না হলেও এই ব্যক্তিরা সহসাই তাদের ভোল পালটাবেন নিজেদের বাঁচাতে।

৩। নিজেই ইস্যু বানিয়ে এক ধিলে অনেক পাখি মারছেন- ক) গ্রুপগুলকে শক্তিহীন করছেন (খ) সামরিক বাহিনীর জন্য কোন অপশন রাখছেন না (গ) কাজের মেয়ে মরজিনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিভিন্ন ভাবে সকল সুযোগ ধংসে চেষ্টা করছেন এবং (ঘ) নিজেই ইস্যু চালিয়ে যাবেন জাতে বিএনপি কোন ইস্যুতে খেলতে না পারে।

ইমেজের ধার শেখ হাসিনা ধারেন না; এই দলের ও জাতির কে কে ইন্নালিল্লাহে পড়েছিল ১৫ আগস্ট ভবিষ্যতেও পরবে কি পরবে না তা তিনি জানেন। তিনি জানেন নিজের লোক ছাড়া তার পিতা মরেন নাই আর তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তাই আরও খেলা হয়ত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খেলেও যেতে পারেন।

Facebook Comments

Hits: 194

SHARE