উপ-মহাদেশে নতুন খেলা শুরু হচ্ছে-২

326

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ প্রথম পর্ব লেখার পড়ে বিপুল সাড়া পড়েছিল। কিন্তু আজকের ২য় পর্বের মাঝে বিশাল গ্যাপ নিলাম শুধু নতুন খেলার ওয়ার্ম আপ সিনগুলো দেখার জন্য। এর মাঝেই মায়ানমারের জেনারেলদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে পাশ্চাত্য । বাংলাদেশে অর্থনৈতিক লুটপাট আরও জোরেশোরে চালু হয়েছে। ইসায়ি আমেরিকা, মুসায়ি ইসরায়েল, গোমাতার সন্তানদের ভারত আর নাস্তিক চীনের পাশাপাশি, ইসলামী লেবাসধারিদের চিত্রও ফুটে উঠেছে আরও প্রকটভাবে।

এরই মাঝে এক নাম না জানা এক সংখ্যালঘু হিন্দু সরকারি অফিসারের স্ত্রী কোন এক প্রিয় বালা (স্বামী সুত্রে সাহা)কে আমেরিকান এমব্যাসির লোকজন সরাসরি তাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর সামনে নিয়ে হাজির করিয়ে বলিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু মিসিং। আমি এ কথার কোন প্রতিবাদ করছি না। ফেসবুকে শুধু একটু ট্রল করেছিলাম মাত্র। কিন্তু এই প্রতিবাদ না করার যে কারণগুলো তা হচ্ছেঃ

১। বাংলাদেশে প্রতিদিন কোন না কোন নাগরিক হারিয়ে যাচ্ছে।

২। বাংলাদেশে প্রতিদিন কোন না কোন নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক বিনা বিচারে হত্যা হচ্ছে।

৩। হারিয়ে যাওয়া মানুষ কেউ কেউ ফিরেও আসছে।

এখন কথা হচ্ছে আওয়ামী লিগের একনিষ্ঠ সংখ্যালঘু মহিলা কর্মী শেখ হাসিনার ফলোয়ার এই মহিলা যে হাসিনাকে ফলো করেই এই কাজটি করেছে সেটি কিন্তু সে বলেই দিয়েছে; কিন্তু বাগড়া বেঁধেছে শেখ হাসিনা পুত্রের সোশ্যাল মিডিয়ার স্ট্যাটাসের পর। আমি এই প্রিয় বালার আয় রোজগার বা সম্পত্তির খতিয়ান বা দুটো মেয়েকে আমেরিকায় কার বাপের পয়সায় পড়াচ্ছেন সেই খতিয়ানে যেতে চাই না; ওটা রাষ্ট্রের বিষয়। রাষ্ট্রের লোকজন কিভাবে ভাগাভাগি করে খাচ্ছে সেটি আর মাথা ঘামানোর অবস্থায় নেই।

তবে আমি বা অন্য কারো কারো মনে সন্দেহ হতেই পারে হয়ত শেখ হাসিনাই গোপনে এই বালা মহিলাকে দিয়ে কথা বলানোর সাথে জড়িত; কারন এমনিতেই তিনি দেশীয় মুসলমানদের রক্ত একটু বেশিই পছন্দ করেন। হয়ত তিনি নতুন কোন ক্লু খুঁজছেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের মন্ত্রীদের পাতলুনের অবস্থা দেখে নতুন অংক করতে হলো।

মনে পড়ে গেল শেখ হাসিনাই বলেছিলেন আমেরিকা এই অঞ্চলে যুদ্ধ বাঁধাতে চায়; জার ফাঁদে তিনি পরতে চান না। এরপর থেকে চীনের সাথে তার মহব্বত গোপনে বেড়ে গেছে; কোন কোন সুত্র নিশ্চিত করেছে চীনের এশিয় মিত্রদের সাথে শত্রুতা ভুলে নতুন মিত্রতার মিত্রদের সাথে তলে তলে কাজ শুরু হয়ে গেছে। সাথে রয়েছে নিজের বিশাল সেনাবাহিনী যারা গড়ে উঠেছে গোমাতার সন্তানদের বিরুদ্ধে ট্রেনিং নিয়েই। যদিও তারাও এখন প্রায় একটি কর্পোরেট হাউসের মতই হয়ে গেছে; যুদ্ধ এদের সিনিয়র অফিসারদের সহ্য হবে কিনা সন্দেহ।

এইবার পাঠক যোগ বিয়োগ করে দেখুন; কেন কি হচ্ছে, কিভাবে প্লট তৈরি হচ্ছে এবং কিভাবে একটি ভীত সন্ত্রস্ত জাতি অচিরেই অন্যের স্বার্থ রক্ষার যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের ধ্বংস করে দিচ্ছে, তার ট্রেইলার দেখতে থাকুন।

তবে শেখ হাসিনা কি চাইলেন তাতে মনে হয় সবকিছু হবে না; কারন তিনি জেনারেল এরশাদকে সামরিক মর্যাদায় দাফনের বিরোধিতা করেও জিও দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। সেনাবাহিনী শেখ হাসিনা সরকারকে উপেক্ষা করেই তাদের সাবেক চীফের মর্যাদা সমুন্নত রেখে ইন্সটিটিউশনের মর্যাদা রক্ষা করেছে। আমেরিকার ইচ্ছার ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আওয়ামী নেত্রি বা তার সরকারের ইচ্ছা কোথায়ও প্রাধান্য পাবে না।

তবে কে কাকে বোকা বানিয়ে কাজ করাচ্ছে এতে কিছুটা খটকা রয়েছে; আমেরিকা ও ভারতের স্বার্থের ইক্যুয়েশন এক নয়, যদিও একে অপরের পরিপুরক, অদিকে ট্রাম্প ইমরান খানের সাথে ঝামেলা মেটাতে চাইছে; হাসিনাও ভারতকে বিশ্বাস করতে পারছেন না; ভারতও পুঁজো দেয়ার পরের বিসর্জন মুডে রয়েছে। চীনকে চাইছে অন্যরা সবাই সাইজ করতে। এ এক আজব ইক্যুয়েশন।

তবে এমন যুদ্ধ শুরু হলে মানচিত্রের পরিবর্তন হবে সেই সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে অধুনা চুরি করে অর্থ বিত্তের মালিক হওয়া সম্প্রদায়। (চলবে)

Facebook Comments

Hits: 196

SHARE