প্রেম ও পলিটিকস

66

রেজাউল করিম রনিঃ বাংলাদেশের পুলাপাইন (যারা নিজেদের প্রজন্ম ও তারুণ্য মনে করে-বিশেষত) এরা প্রেমক হিসেবে খুবই হীনদশায় আছে।

প্রেমের একটা বড় নিশানা হইল রাজনীতি। রাজনীতির সাথে এখনকার হিরোদের সম্পর্ক হইল দা- কুমড়া না, কুত্তা আর বেজির সম্পর্কর মতো। এটা থেকে আর একটা বহু দূরে থাকে।

পুলাপাইন বান্দবী বাগানো ও লিটনের ফ্ল্যাটে গমনকেই প্রেমের সিদ্ধী ধরে নিছে অনেক দিন থেকে। ফুসলাইয়া প্রেম করার মত চোরামিই নায়কগিরি যেন বা। চরম ভোগবাদি-নারসিস্ট পুলা-মাইয়াতে জেনারেশন ভইরা উঠতেছে। এইসব ক্ষেত্রে মেয়েদের রোল নিয়া আজ কিছু কমু না। একটা অভিজ্ঞতার কই খালি, 
৬ মাস ধইরা আতস কাঁচ দিয়া খুইজাও এমন একটা নারী লেখিকা পাই নাই- যিনি চেতনার-ঠুলি মুক্ত হইয়া স্বাধীন ভাবে চিন্তা ও প্রজ্ঞার জোরে সম-সাময়িক রাজনৈতক ঘটনা নিয়া লিখতে পারেন। পুতুপুতু গপ্প-কবিতার বাইরে কোন কনসাস নারী পলিটিকাল ইন্টারপ্রেটর নাই বাংলাদেশে। অনেকে তাৎক্ষণিক কমেন্ট করতে পারে বটে। আমি একজনও পাই নাই ( টুটকা ফেবু লেখিকা না মূল ধারার কাগজে এনালিটিক্যাল কলাম লেখার জন্য ইয়াং কোন লেখিকা পাই নাই)
পুরা জেনারেশনটা হইল হাওয়াই, আলগা ফুটানি, ফাও এমবিয়ে -বিবিয়ে তে ভরা। চোখ ফুটার পরেই শুরু হয় ভাল খাওয়া-পরা আর-ধান্দায় বড়লোক হওয়ার লক্ষ্য নিয়া পথ চলা। খাই-দাই ফুর্তী করি জেনারেশন আমরা। আমার বন্ধুদের সাথেও কথা কইলে মাথা ঝিমঝিম করে এখন, অবশ্য আমারে ওরা উম্মাদ/ ভোদাই মনে করে। 
আমাদের প্রতি দিনের জীবনে রাজনীতি নিয়ে আমরা ভাবতে ব্যার্থ হইছি। রাজনীতি মানে খালি লীগ-বিএনপির কথা কইতেছি না। আমি রাজনীতি ‘ভাবনার’ কথা কইতেছি। ভারতীয় বাংলী চিন্তক প্রদীপ বসু একবার বলছিল,

“রাজনীতি যত অবহেলিত হবে, ততই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে,পরিণত হবে এক অনিয়ন্ত্রিত শক্তিতে।”

বাংলাদেশে এটাই হইছে। আর এর জন্য আমরা দায়ী। তাইলে এই যে এতো এতো তরুন এটার কি দায়িত্ব? এরা তো প্রেমও করতে চায়? এরা এখনও প্রেম মানে লিঙ্গময় কিছূ বুঝে মনে হয়। বাট প্রেমের সাথে সবচেয়ে ডিরেক যে জিনিসটার সম্পর্ক সেটা হলো রাজনীতি। আতলামি না করে সরাসরি কোট করি,

considering love as central to politics confounds the notion of interest as driving politics. Love makes central the role of affect within the political sphere.
—Michael Hardt.

আমিও মিশেলের সাথে একমত। ভালোবাসার আইডিয়াটা রাজনীতি ছাড়া বৃহত্তর পরিসরে বুঝা যায় না। প্রেমের ধারণটা রাজনীতির সেন্টাল পয়েন্ট আকারে বুঝতে না পারলে দুইটা পুলা-মাইয়ার জরাজরিকেই প্রেম হয়। প্রজন্ম বিরানী খাইব, আর ব্রুন হত্যার বেদনায় প্রেয়সীরা বিষন্ন হইব- এটার ফাঁকে ফ্যাসিবাদ স্থয়ী হয়ে যাবে অলক্ষে এইটা তো হইতে পারে না।
সো ডিয়ার ব্রাদার এন্ড সিসটার, রি থিংকিং এবাউট ইউর লাভ এন্ড লাইফ -এজ এ পলিটিক্যাল প্রসেস।
বাদিওর কথাটাও সত্য বলে মানি,

“লাভ ইজ এ ফ্রম অব স্ট্রাগল।”

যে সংগ্রাম করতে ভয় পায় তাঁর প্রেম করার কোন যোগ্যতা নাই, এবং রাজনীতি করারও যোগ্যতা থাকার কথা না।

লেখকঃ সম্পাদক, জবান

Facebook Comments

Hits: 25

SHARE