উপ-মহাদেশে নতুন খেলা শুরু হচ্ছে-১

408

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ উপমহাদেশে অনেক খেলাই কিছুদিনের জন্য থমকে ছিল ভারতের নির্বাচনী ফলের অপেক্ষায়। সামনের দিনগুলো সম্পর্কে যাদের জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তারা মিন মিন করা গান্ধী পরিবারের কাছে ক্ষমতা না দিয়ে ধ্যানমগ্ন নরেন্দ্র মোদীকেই উপযুক্ত মনে করে রেখে দিয়েছেন। উপমহাদেশের আগামী দিনগুলোতে ধ্যান, ধর্ম আর জাতীয়তাবাদ হবে মোক্ষম অস্ত্র; যার সচিত্র প্রমান এখন জ্ঞানীদের সামনে উন্মোচিত। যদিও দুর্মুখেরা বলেন সার্টিফিকেটধারী ও সনদহীন রাজনৈতিক মূর্খদের কাছে এগুলো মূল্যহীন।

যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো উপমহাদেশকে বিশাল ঝাঁকুনি দেবে তার প্রধান বিষয় হচ্ছে দুটো, একটি ধর্মীয় সংঘাত, আরেকটি নাস্তিক চীনের দ্বারা অর্থনৈতিক সংঘাত। এর সাথে রয়েছে, পুঁজিবাদী বিশ্ব কর্তাদের ও ইহুদীদের ইন্ধন অ্যান্ড তাদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা। কিন্তু এই আগামীর রাজনীতিতে কোন দেশের আমজনতার স্বার্থ রক্ষার এক শতাংশও লক্ষ্য কোথায়ও থাকবে না। আর রাজনৈতিক নেতারাও নিজেদের বাইরে জনতাকে নিয়ে চিন্তিত হওয়ার চেষ্টাও করবে না।

প্রথমেই বাংলাদেশ থেকে শুরু করলে আসবে ৩টি বিষয়; এক, ভারতের অস্তিত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সমতল ভুমির উপর তাদের কব্জা বজায় রাখা যাতে উপরি হিসেবে বিশাল এক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রও বহাল থাকে, দুই, ভারতীয় আদিপত্যবাদকে ঠেকাতে চীন তাদের দাদন ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সামরিক ও প্রকল্প ভিত্তিক দখলদারিত্ব বজায় রাখবে যাতে তারা সময় মত যে কোন কিছু নিজেদের পক্ষে নিয়ে নিতে পারে, তিন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করে মার্কিনীরা যাতে মায়ানমারকে সাইজে নিয়ে বা সেখানে কোন উসিলায় সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে চীনের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে পারে এবং এইখানে কোনভাবে একটি সামরিক বা নৌ ঘাঁটি স্থাপন করতে পারে।

বাংলাদেশে এই তিনটি বিষয়কে আবর্তন করেই সবকিছু হচ্ছে; এরবাইরে যা কিছু তা হচ্ছে আইওয়াশ। যেমন রাজনীতিতে একদল আরেকদলকে সাইজ করছে; ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করছে; রাষ্ট্রীয় হত্যা বা গুম খুন দখলদারিত্ব চলছে, এগুলো নিয়ে বিশ্ব শক্তিগুলো মাথাই ঘামাচ্ছে না; কারন আসল খেলা শুরু হলে এই সকল লুটপাটকারিরা হয় সম্পদ ফেলে পালিয়ে যাবে না হয় অন্য কেউ দখল করবে না হয় অনেকেই বেঘোরে প্রান দেবে। তাই কে কত লুটপাট করছে বা ক্ষমতা প্রয়োগ করছে এ নিয়ে বিশ্ব শক্তির কোন চিন্তা নেই; চিন্তা শুধু যার যা পলিসি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা এবং এজন্য বাংলাদেশের নীতি আদর্শবিহীন রাজনীতিবিদ, সরকারী ও রাষ্ট্রীয় সকল স্তরের সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের সহজতম উপায়ে ব্যবহার করা এবং এটি নিশ্চিত করা।

হঠাৎ করে হলেও শেখ হাসিনা এ বিষয়টি যেভাবেই হোক বুঝতে পেরেছিলেন আগে থেকেই। যে কারনে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করেছেন প্রতিদিন; কিন্তু যে ভুলটি তিনি শুধরাতে পারেন নাই, তা হচ্ছে শক্তিশালী করতে পারলেও আদর্শ ও নীতি বর্জিত করে দিয়েছেন পুরো সামরিক ব্যবস্থাকে। যে কারনে উপমহাদেশের এই খেলায় তার স্বার্থ কতখানি রক্ষিত হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। (চলবে)

Facebook Comments

Hits: 211

SHARE