আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং বিএনপির দায়ঃ পোস্টমর্টেম -৩

122

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদঃ বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তারেও লন্ডনের কিছু নেতার হস্তক্ষেপে বা প্ররোচনায় সকল শাখা কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনে গ্রূপিং তৈরি করে রেখেছে বলে হামেশা অভিযোগ রয়েছে। এতে নাকি প্রতিযোগিতা বাড়ে। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিদাতা কেউ কেউ বলেন, যত গ্রূপিং হবে ততই তারেক রহমানের প্রচার হবে। আফসোস এই সকল ভাড়াটিয়া ও হাইব্রিডদের উপর ভরসা করে দলের পোড় খাওয়া নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে অনেক আশা নিয়ে তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে আসা নেতা কর্মীদের কত বিড়ম্বনা পোহাতে হয়; কত জনকে ব্যর্থ মনে ফেরত যেতে হয় নিজের বানানো সিন্ডিকেটের কারনে, তারেক রহমান কি তা জানেন না? কিন্তু তাকে মরার আগেই বেহেশতে পাঠানোর মত ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই রাষ্ট্রনায়ক বানানোর এক ‘ইলুইশনের মধ্যে যারা ফেলে দিয়েছে, তাদের ঘেরাটোপে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই এক ব্যর্থ নেতায় পরিনত হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছেন তিনি।

তারেক রহমানের নামে প্রকাশনা বানিজ্য করে করে তাকে প্রোডাক্ট বানিয়েছে একদল। বানিজ্যিক প্রচারণা আর রাজনৈতিক যোগ্যতা যে এক না সেটি তারেক রহমান বোঝেন নাই। বুঝলে তিনি দেখতেন জেনারেল জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক জীবনে কয়টা টাইটেল লাগিয়েছেন। একটাও না। অথচ তিনি ‘দেশনায়ক’ টাইটেল এ এমন মুগ্ধ ছিলেন যা তাকে রাজনীতিতে অনেক ক্ষতি করেছে। এটি তারাই বুঝবে না যাদের লক্ষ্য হচ্ছে তারেক বন্দনা করে হয় কিছু ইজ্জত কামাবে বা ক্ষমতায় গেলে ধান্দা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বা এখনো সেই সিদ্ধান্তে আছে।

আসলাম নামের একজনকে বিএনপির লোকজন আবিস্কার করলেন ‘যুগ্ন মহাসচিব’ হিসেবে যখন তিনি পুলিশের দ্বারা গ্রেপ্তার হলেন; কেন হলেন? তিনি ১০০ নম্বর গ্রেডের এক ইহুদির সাথে বিএনপির লবি তৈরিতে কাজ করেছিলেন। আর সেই কাজের স্বীকৃতি দিতেই তাকে যে ‘যুগ্ন মহাসচিব’ করা হয়েছিল সেটি এখন ওপেন সিক্রেট’। তারেক রহমান দলীয় সংবিধান নিজেই অতিক্রম বা ভংগ করে বিভিন্ন কমিটি করেছেন, কমিটির সংখ্যা পরিবর্তন করেছেন। এই যে সংবিধান ভংগ করা এটার যে সুদূর প্রসারী এফেক্ট সেটা কি নেতা হিসেবে তারেক রহমানের বোধগম্য হয়নি? জেনারেল জিয়ার বিএনপি’র ইউকে কমিটি দেখলে মনে হয়, যুক্তরাজ্যে শিক্ষিত ও যোগ্য এমনকি সাবেক ছাত্র নেতাসহ বাংলাদেশীদের আকাল চলছে এখানে।

বিএনপির এই সকল ব্যর্থতার বিপরীতে কেউ প্রতিপক্ষের সফলতার কারন কি খতিয়ে দেখেছেন? আলজাজিরার কল্যানে মেহেদী হাসানের ‘হেড টু হেড’ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ‘গওহর রিজভি’ যেভাবে বিশাল প্রতিকুল পরিস্থিতি প্রশ্ন পরিবেশকে মোকাবেলা করেছেন, যদিও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন সরকারের ইজ্জত রক্ষা করতে; কিন্তু বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বের পাশে এমন কোন্ চরিত্রটি আছে যাকে গওহর রিজভির সমতুল্য প্রতিপক্ষ ভাবতে পারি? এমন কাকে তারেক রহমান নিয়োগ দিয়েছেন জিনি আন্তর্জাতিক বলয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে তুলে ধরে সরকারকে সাইজ করতে পারেন? নো বডি। তিনি নিজেও সেটি পারবেন কিনা সন্দেহ।

নির্দ্বিধায় বলা চলে শেখ হাসিনার চারপাশে যে সকল ”ডেভিল জিনিয়াস”’ রয়েছেন তাদের এক একজনের কনে আঙ্গুলের যোগ্যতা তারেক রহমানের চারপাশে থাকা সবার সম্মিলিতভাবেও নেই। রাজনীতির এক সদ্য শিশু হুমায়ুন কবির টাইপের লোকজন দিয়ে এদের মোকাবেলা করা একপ্রকার নির্বুদ্ধিতা ও অযোগ্যতা মাত্র।

আওয়ামী বিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতির লোকজন চারপাশের সবার দোষ ও গুন নিয়ে সমালোচনা করেন, তাদের কথায় নেতার বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু নেতার কারনেই যদি দল উল্টো স্রোতে চলে, উল্টো লোকজন নিয়োগ পেয়ে জাতির বারোটা বাজায়; সেই দায়িত্ব নেতার উপরে যাবে না কেন? অবশ্যই ব্যর্থতার দায়ভার বিএনপির নেতার নিতে হবে। এটাও স্বীকার করতে হবে আজ বিএনপির নেতৃত্বের এই ব্যর্থতায় পুরো দেশে চানক্যবাদের দালাল শেখ হাসিনা গংদের রাম রাজত্ব ও দখলদারিত্ব অফিসিয়ালি পোক্ত হয়েছে। বাকী ভবিতব্য।

Facebook Comments
SHARE