চীনের কাছে ধর্নাঃ যুদ্ধ থেকে বেরুনোর পথ খুঁজছে ভারত

177

শেখনিউজ রিপোর্টঃ পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতে মুষড়ে পড়া ভারত চীনের কাছে ধর্না দিয়েছে যুদ্ধ থামাতে। পৃথিবীর ৪ নম্বর সামরিক শক্তি হিসেবে প্রচারনা দেয়া ভারত যে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পুরোটাই পৃথিবীর নম্বর ওয়ান ভীতু সামরিক শক্তি সেটি আবারো প্রমান করে দিয়েছে সাম্প্রতিককালে আগ বাড়িয়ে পাকিস্তানকে আক্রমন করে। কনভেনশনাল ওয়্যারে ভারত যে বাংলাদেশ আর্মিকেও মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়, সেটি শতবারের উপর সীমান্তে প্রমান হলেও মিডিয়ার বদৌলতে আর ফ্রি মদ সাপ্লাই দেয়ার পরেও সেনাদের সাহস বাড়াতে ব্যর্থ ভারত।

যে দেশে প্রায় ৮০ কোটি লোকের কোন পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই সেই দেশ যখন পরাশক্তি হওয়ার কাল্পনিক জগতে বলিউডের দ্বারা নিজেরাই নিজেদের মস্তিস্ক ধোলাই করে, তখন সত্যিকার যুদ্ধে কি ঘটতে পারে তার হিসেব থাকে না। যখন হিসেবের খাতায় টান পরেছে সেই মুহূর্তেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দৌড়ে গেছেন চীনে; তদ্বির করছেন যুদ্ধ থাকাতে। বলছেন যুদ্ধ কারো মঙ্গল বয়ে আনে না। অথচ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বহু আগে থেকেই তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন; বারিয়েছিলেন বন্ধুত্বের হাত। কিন্তু অহংকারী ভারত এবং এর সাম্প্রদায়িক উগ্র মৌলবাদী সরকার উর্বর মস্তিস্কে পাকিস্তানকে হঠাৎ আক্রমন করে বসে।

উগ্র মৌলবাদী নরেন্দ্র মোদী সরকার নিজেদের আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভের জন্য জনমত তাদের/ বিজেপির পক্ষে নিতেই সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে এই ভয়ঙ্কর খেলায় নেমে আজ নিজের দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন।

ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী ও সরকার এতদিন বাংলাদেশকে দিয়ে যে প্রক্সি গেম খেলেছে, বাংলাদেশে তাদের তাবেদার গোষ্ঠীকে দিয়ে যেভাবে নির্বাচনী ছক করেছে, জনগনের মধ্যে যে ভীতির রাজত্ব কায়েম করিয়ে দিয়েছে, তারই আদলে প্রাকটিকেল খেলায় যুদ্ধের ভীতি কাজে লাগিয়ে নিজেরা পার পেতে এই অংক করে পাকিস্তানকে আক্রমন করেছে যা এখন ভারতীয়দের কাছেই পরিস্কার।

ভারতের লোকসভায় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তান আমাদের পাইলট আটক করে দেখিয়ে দিয়েছে; কই আমাদের ‘বায়ুসেনা’রা ৩০০ জঙ্গি মেরেছে কিন্তু তাদের একটা ছবিও তো আমরা দেখাতে পারিনি।” উল্লেখ্য ১২টি মিরেজ ২০০০ দিয়ে ১০০০ কেজির বোমা মেরে পুরো জঙ্গিগোষ্ঠী খতমের ভুয়া বাহাদুরি দেখালেও, পাকিস্তান ঐ স্থান পুরো পৃথিবীকে উন্মুক্ত করে দেয় পরিদর্শনের জন্য; দেখা যায় কিছু বৃক্ষরাজির নিধন ছাড়া ভারতীয় কথিত ”বায়ুসেনারা” কোন বায়ুই ত্যাগ করতে পারেনি; পাল্টা ধাওয়ায় তারা পালিয়ে এসেছে।

ভারত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের অক্সিলিয়ারি বাহিনী বানানোর পায়তারা করেছে দেশ সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই। কিন্তু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী টার নিজস্ব ইমেজেই গড়ে উঠেছে; এটি ধংস করতে পুরো আমলা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে খরিদ করে দালাল বানিয়ে ফেলে ভারত; তারপরেও সর্ষের ভেতরে ভূত থেকেই যায়; ভারত তাই ছোট দুটো সাবমেরিন কেনা দেখেও লাফিয়ে ওঠে; কারন তারা বাংলাদেশের এই ছোট সশস্ত্র বাহিনীকেও প্রচণ্ড ভয় পায়; এমনকি বাংলাদেশের সাথে কনভেনশনাল যুদ্ধে ভারত যে মারাত্মকভাবে পরাজিত হবে তাও সে জানে।

বাংলাদেশের সাথে এমন কোন যুদ্ধ হলে সর্বাধিক ২০ ডিভিশন সেনা নিয়োগ করতে পারবে ভারত; যা ঠেকিয়ে ভারতের মধ্যে উল্টো ঢুকে সকল বাংলাভাষী এলাকা বা রাজ্য দখলে নেয়ার জন্য মাত্র ২ সপ্তাহ দরকার হবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর। এটি অজানা নয়। সেই জন্যই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ভারত তাদের দালাল সৃষ্টি করে দিয়েছে; কে কে সেই দালাল দালালরা যেমন জানেন, জনগণও যে জানে দালালদের সেই হুশ নেই। পেছনে যে সেই ভারতীয় দালালদের তাদের সন্তানেরাও গালি দেয় সেটা গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে পরখ করতে পারে তারা।

এদিকে পাকিস্তানীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্দী ভারতীয় পাইলটকে স্বসম্মানে ভারতে ফেরত দেয়ার আহবান জানাচ্ছে; কাতর বন্দী উইং কমান্ডার অভিনন্দন এর পরিবার তাকে ফেরত দেয়ার অনুরোধ করেছে।

পাকিস্তানে আটককৃত সেনাকে নিখোঁজ দাবি করে আসলেও নয়াদিল্লী শেষ পর্যন্ত উইং কমান্ডার অভিনন্দন পাকিস্তানেই আছেন বলে স্বীকার করে নিয়েছে। উইং কমান্ডার অভিনন্দন আটক হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে এমনকি তাকে জীবিত ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বুধবার সকালে পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারতের বিমান বাহিনী আক্রমণ পরিচালনা করতে পাকিস্তানে প্রবেশ করে কিন্তু পাকিস্তানী বিমানবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং ভারতের দুইজন পাইলট নিহত হয় ও একজনকে আটক করে পাকিস্তান।

বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা বিষয়ে মনিটরিং ও নজরদারির কাজে নিয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত একটি সংস্থা জেনস ইনফরমেশন গ্রুপ বলেছে, লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে পাকিস্তানে ঢুকে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস ও ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যার বিষয়ে ভারত যে দাবি করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক।

যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকা,‘এটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না যে, এই ধরনের হামলা থেকে ভারতের অর্জনটা কি? ‘বালাকোট জেলা খাইবার পাখতুনখোয়া এটা লাইন অব কন্ট্রোল থেকে ৮০ কিলোমিটার ভিতরে অবস্থিত এবং পাকিস্তানী ভূখন্ডের বেশ ভিতরে। সেখানে যদি এমন হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটতো, তাহলে সেটা আরো উত্তেজনা সৃষ্টি করতো।’

Facebook Comments
SHARE