খেলনা পিস্তলধারীকে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে হত্যা

244

শেখনিউজ রিপোর্টঃ বাংলাদেশে এমন এক সময়ে রাষ্ট্রীয় বিমান ছিনতাই নাটক এবং খেলনা পিস্তলধারী অপ্রকৃতিস্থ কথিত ছিনতাইকারীকে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হল, যখন ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক লোক নিহত হওয়ার ঘটনার শোকে যখন পুরো দেশ ভাসছে এবং এর একদিন পরেই যখন বিডিআরে ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ডের দশম বর্ষপূর্তি।

খেলনা পিস্তলধারী ছিনতাইকারীকে তখনই হত্যা করা হয়েছে যখন প্লেনের মধ্যে একজনও জিম্মি ছিলনা এবং সরকারের লোকজনের কথা বার্তায় কোন সঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রশ্ন উঠেছে, যে ছিনতাইকারীর হাতে কোন জিম্মি ছিলনা এবং যে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে চায়; তাকে কি সেনা কমান্ডো অভিযান চালিয়ে হত্যা করার প্রয়োজন ছিল?

যদি সরকারি লোকজনের কথা বার্তা বিশ্লেষণ করা হয় তবে যা দাঁড়ায় তা হচ্ছে নিম্নরুপঃ

১। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান বলেছেন, ছিনতাইকারীর কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে এটা ফেইক, খেলনা পিস্তল।

২। বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীও রাতে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বলেন, ওই পিস্তলটি ছিল খেলনা।

৩। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছিলেন, “যতটুকু জানা গেছে, একজন সন্দেহভাজন পাইলটের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিল।”

৪। পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি আকমল হোসেন বলেছিলেন, চট্টগামে বিমানটি অবতরণের পর প্রায় দেড়শ যাত্রীর সবাই এবং পাইলট ও ক্রুরা সবাই নেমে আসার পর একমাত্র ছিনতাইকারীকে ধরতে শুরু হয় সামরিক বাহিনীর কমান্ডোদের অভিযান। তাতে নিহত হন ওই যুবক।  

৫। সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান বলেছিলেন, “শুরুতে আমরা ছিনতাইকারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। পরে সে আক্রমণাত্মক থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে অভিযান চালানো হয়। এতে সে শুরুতে আহত হয়। পরে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিমানের মধ্যে তার সাথে আমাদের অ্যাকশন হয়েছে, পরে সে বাইরে নিহত হয়েছে।”

৬। বেবিচক চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান বলেছিলেন, “সো ফার আমি জানি, তার কাছে একটা অস্ত্র ছিল। বলেছে গায়ে বোম্ব জড়ানো আছে বা তার জড়ানো আছে। ওটা কী ছিল, সেটা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।” ওই যুবকের আচরণ অসংলগ্ন ছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

৭। ওই উড়োজাহাজে থাকা সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন থান বাদল সময় টিভিকে বলেন, “পাইলট আমার সঙ্গে নেমে এসেছিল। সে বলেছে, তাকে পারসু করার চেষ্টা করেছে হাইজ্যাকার; বলছে সে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।”

৮। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “সব যাত্রী নেমে গেছে। পাইলটও নেমে গেছে। এটা নিশ্চিত যে একজন সন্দেহভাজন বিমনটির ভেতরে এখনও অবস্থান করছে।”

এই অস্ত্রধারী কী করে বিমানে উঠলো? এটা একটি বড় প্রশ্ন। এখানে নিরাপত্তার ত্রুটি থাকতে পারে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেন, ছিনতাইকারী কিভাবে অস্ত্র নিয়ে বিমানে উঠতে পেরেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এটি নিরাপত্তা ত্রুটি কি না? চট্টগ্রামেও এ নিয়ে প্রশ্ন। এ বিষয়ে কেউই স্পষ্ট কিছু বলতে পারেন নি। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে এবারই প্রশ্ন ওঠেনি। নিরাপত্তায় বড় ধরনের ত্রুটি থাকায় ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল বৃটেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়সহ পশ্চিমা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদিও শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে বৃটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনকে দায়িত্ব দেয়ার পর পরিস্থিতি খানিক উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরমধ্যে কথিত এই ‘বিমান ছিনতাইর চেষ্টা’র ঘটনা ঘটলো। 

তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কথিত ঐ ছিনতাইকারীর নাম ‘মাহদি’ ছাড়া আর কোন পরিচয় সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।


Facebook Comments

Hits: 58

SHARE