কিংকর্তব্যবিমূঢ় মহাসচিব এবং অনিশ্চয়তায় বিএনপি

494

শেখনিউজ রিপোর্টঃ অনিশ্চিত এক রাজনীতির দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতি। বিএনপিতে এখন কে গুরুত্বপূর্ণ আর কে গুরুত্বহীন এ নিয়েও রয়েছে চাপা ক্ষোভ। যাদের দলের এই দুঃসময়ে কাজ করার কথা দলের অনেকের মতে কোন না কোন ভাবে অদৃশ্য ইঙ্গিতে তারা ওএসডি। আর যাদের দিয়ে কাজ করানোর কল্পিত চেষ্টা হচ্ছে বাংলাদেশে দলের নেতা কর্মীদের কাছে তাদের কোন মূল্যই নেই।

বিএনপি এখন কোন কর্মসূচী দিতে পারছে না; নির্বাচনে যাওয়া এবং সেজন্য ভারতপন্থী ও শেখ মুজিবর রহমানের অনুসারীদের নেতৃত্বে ঐক্যজোটে যোগ দেয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক, ক্ষোভ; এমনকি নমিনেশন দেয়া নিয়েও তার প্রকাশ কম নেই। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাসের বিরুদ্ধে দলের ও নেতাদের ভুমিকা নিয়ে রয়েছে সরাসরি ক্ষোভ। সুযোগ পেলেই দলের ফোরামগুলোতে তার প্রকাশ ঘটছে। এজন্য কেউ কেউ দলের মহাসচিবকে দোষারোপ করছেন; কেউ কেউ করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। যারা বলার বলছেন যারা পারছেন না, তারা এলপিআর এ যেতে চাচ্ছেন; আবার অনেকেই নিস্ক্রিয় থাকছেন।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে চিকিৎসা শেষে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন। অথচ সিঙ্গাপুর যাওয়ার পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট এর ‘প্রাতঃরাশ’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলেও তা দলের কাছে ও মিডিয়ার কাছে অজ্ঞাত কারনে গোপন রেখেছেন। দলের মধ্যে এ নিয়ে গুঞ্জন। অনেক কেন্দ্রিয় নেতা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায় শেখনিউজ ডট কমকে বলেন আমেরিকা যাওয়ার বিষয়টি তিনি এখনি শুনলেন। এটা তার জানা নেই। মহাসচিব কি সরকারের ভয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এ কাজটি করলেন কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের ভয় তো আছেই সবকিছু নিয়ে তিনি কিছুটা ‘সেকি’ অবস্থায় আছেন। আর তিনি কোন কাজেই অনেক কিছুতেই ‘এসারটিভ’ না কেবলমাত্র বিগত ইলেকশন ছাড়া।

ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, কিছুক্ষন আগেই মহাসচিবের সাথে একই প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে এলেন, কিন্তু আমেরিকা যাওয়ার বিষয়ে তিনি শোনেন নাই। এ বিষয়ে তার জানা নেই; হয়তো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানতে পারেন।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আব্দুস সালাম বললেন তারও এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই; তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট মহাসচিবের বিষয়টি শুনে বললেন, আমি দলের কাজে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি, আমি আর এ সকল বিষয়ে ইন্টারেস্টেড না, তাই কোন মন্তব্য করব না। তিনি বলেন, আমাকে ডাকা হয়েছিল; আমি বলে দিয়েছি আমি যাবো না; যাইনি।

তবে জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি কিছু বাছাই করা লোকজনের সাথে মিটিং করেছেন। সাবেক ঢাকা মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাথে সাক্ষাত করেছেন। যোগ দিয়েছেন বিশাল আপ্যায়নে।

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাংলা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, ” বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের অন্তত দু’জন নাম গোপন রাখার শর্তে আরো জানান, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন প্রবাস থেকেই জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ফখরুল। কারণ বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রাণের ভয়ে কেউই রাস্তায় নামতে সাহস পাচ্ছে না বলে ফখরুল উল্লেখ করেছেন বলেও নেতারা জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা জানান, ‘নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি কেন দেওয়া হচ্ছে না’-এমন এক প্রসঙ্গে ফখরুল বলেছেন, ‘সেটি সম্ভব নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অধিক বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে। তারা এমন কর্মসূচিকে পছন্দ করছে না। সবদিক ভেবেই এগুতে হচ্ছে। তাই হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। বিএনপি অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে আগের মতো।’ তবে ফখরুলের এই ব্যাখ্যার সাথে অনেকের দ্বিমত রয়েছে। ”

যুক্তরাজ্য থেকে জানা গেল বিএনপির বর্তমান কমিটির অন্যতম আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার অসীমকে এই পর্যন্ত কোন আন্তর্জাতিক বা আভ্যন্তরীণ কোন কাজেই লাগানো না হলেও হাইব্রিড বলে খ্যাত সাবেক জামায়াতে ইসলামী ও হিজবুত তাহরিরের সাথে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ রয়েছে এমন একজন অখ্যাত জনৈক হুমায়ুন কবিরকে জনাব তারেক রহমান প্রথমে তার বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং পরে অতিরিক্ত হিসেবে দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক করে একাধারে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে ম্যারাথন কূটনীতির কাজে নিয়োগ দেন। বিএনপির রাজনীতির একফোঁটা পূর্ব জ্ঞান না থাকলেও দলের অভিজ্ঞদের ডিঙ্গিয়ে এমন দায়িত্ব দেয়ায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দলের অভ্যন্তরে গুঞ্জন শুরু হয়; ভালবাসায় অথবা ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও শেখনিউজ এই হাইব্রিড সম্পর্কে একের পর এক তথ্য প্রকাশ করতে থাকে। এই হুমায়ুন মহাসচিবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। যদিও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে ৬ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রেস রিলিজ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বেগম জিয়ার কারাবাসের বর্ষপূর্তি হলেও বিএনপির নেতাদের মধ্যে বা লন্ডনে তারেক রহমানের চারপাশে বিশাল আকারের নেতাদের মধ্যে কোন উদ্বেগ এখনো নজরে পড়ার মত নয়; নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, তারেক রহমান যাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন সেই তিনি কোন একস্থানে বলেছেন, বেগম জিয়া কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেই বিএনপির ফায়দা হবে।

এদিকে ঢাকায় বিএনপির এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মীরা বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দলের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হট্টগোল করে; বুধবারের ঐ সভায় মহাসচিবের বক্তৃতার সময় এই হট্টগোল বৃদ্ধি পায়। এমনকি মহাসচিবকে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ারও চাপ দেয়া হয়।

অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাষায় সজ্জন ও ভালমানুষ মীর্জা ফখরুল এখন ভীত সন্ত্রস্ত এবং ম্যানেজড; তার দেশে বিদেশে গমনে সরকারের বাঁধা নেই; হয়তো কোন শর্তের যাঁতাকলে বাধ্য হয়েই তিনি এখন কিংকর্তব্যবিমুঢ়; আর এতে করেই অনিশ্চিত চলছে বিএনপির রাজনীতি।

Facebook Comments

Hits: 172

SHARE