অসীম ভাই এর এলপিআর ভাবনা নাকি ওএসডি’র যন্ত্রণা

266

বেলায়েত হোসেনঃ ১৯৯৪ সালের এক সন্ধ্যায় সালাম ভাই (ওই সময়ের কবি জসিম উদ্দিন হল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত) আমাদের ৮-১০ জনকে নিয়ে অসীম ভাই এর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় গেলেন (সম্ভবত সালাম ভাই এর কোর্স সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অসীম ভাইয়ের বিশেষ আশীর্বাদ এর প্রয়োজন ছিল এই কারণে এবং অসীম ভাইয়ের সহযোগিতায় সেটার সমাধান ও হয়েছিল)।

দরজা খুললেন উনার ছোট ভাই শিশিম, ভিতরে একটু এগোতেই দেখি হাফপ্যান্ট পরা অর্ধনগ্ন একজন লোক একটু অপ্রস্তুত অবস্থায় আর তখনই আমাদের দলনেতা ওনার দু পা জড়িয়ে কদমবুচি করলেন, অন্যরাও ফলো করতে লাগল সারিতে একটু পিছনে থাকায় সেইদিন ওই অর্ধনগ্ন লোকটাকে কদমবুচি করতে না হওয়ায় নিজের কাছে খুব ভালোই লেগেছিল,বুঝতে অসুবিধা হলো না ইনিই অসীম ভাই, ফার্স্ট ইমপ্রেশন টা ভালো না হলেও আলাপচারিতায় এক অদ্ভুত লোক আবিষ্কার করলাম সালাম ভাইকে একটা ধমক দিয়ে বললেন ওকে ( আমাকে) নিয়ে এসেছ কেন ? ল ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে ওর পড়াশোনা আছে না? তোমার বিষয় তুমি একা আসলেই পারতে।

সেদিন থেকে ব্যারিস্টার অসীম ভাই সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি এবং লন্ডনে উনার খুব ঘনিষ্ঠ না হলেও যতটুকু দেখেছি তাতে আমার মনে হয়েছে উনি একজন সদালাপী, ভদ্র, কর্মী বান্ধব এবং সাচ্চা জাতীয়তাবাদী।

সম্প্রতি অসীম ভাই এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আমার মত অনেককেই একটু অবাক করেছে, জাতীয় পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়েছে কিন্তু বিস্ময়ের সহিত লক্ষ্য করলাম ফেস বুকে এ কিছু কমেন্ট ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সিনিয়র পর্যায়ের কারো এই বিষয়ে যেন কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আর থাকবেই বা কেন এ যেন এক নতুন বিএনপি এখানে কারো কোনো সম্মান নেই কে থাকলো আর না থাকলো এই বিষয়ে কারো কিছু যায় আসে না….কারণ কেন্দ্রীয় কমিটির ৬০০ সদস্যের মধ্যে সাড়ে পাঁচশত ওএসডি হিসেবেই আছেন. অনেকে বিষয়টা এনজয় করলেও অসীম ভাই এর মত জনমানুষের নেতার কাছে বিষয়টা হয়তো চরম বিরক্তিকর এবং অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। এ কারণেই তিনি এল পি আর এর কথা বলেছেন।

সালেহ বিপ্লব ভাইয়ের কমেন্টস এর জবাবে ‘এই ধরেন ঠেলায়, ভালো লাগে ঘোরাঘুরি করতে’ এই কথাটি লেখায় আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে. তবে উনার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশিষ্ট সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান ভাই আরেকটি ওয়ান ইলেভেন এর অপেক্ষায় থাকার যে কমেন্টস করেছেন তার সাথে আমি বিন্দুমাত্র একমত নই. ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৮ ইলেকশন এ সংস্কারবাদীতার অভিযোগ থাকায় খন্দকার দেলোয়ার সাহেব কোন অবস্থাতেই মোহাম্মদ শাহজাহানকে নোয়াখালী সদর থেকে নমিনেশন দিতে চাননি তার চরম বিরোধিতায় বেগম খালেদা জিয়া অসিম ভাইকে নমিনেশন দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু সিনিয়র নেতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে অসীম ভাই সেদিন প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তাই তাকে অন্তত ওয়ান ইলেভেনের মতো কর্মকাণ্ডের সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না।

যাইহোক, অসীম ভাই এর মত দলের একজন সিনিয়র নেতার ভাবনায় এল,পি,আর আসা কিন্তু চাট্টিখানি বিষয় নয় এর মূল কারণ অবশ্যই দলীয় নীতি নির্ধারণী কমিটির সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একে একে ব্যর্থতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে কিছু অনুসর্গ- উপসর্গ এতে ভূমিকা রাখছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই. অন্তত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি পারি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় লন্ডনে বাস করা বিএনপি’র প্রথমে সহ সম্পাদক ও পরে অবশ্য বিশেষ বিবেচনায় ফুল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের (যিনি সেন্ট্রাল লন্ডনে একা একা হেঁটে হেঁটে নিজে নিজে কথা বলতে খুব পছন্দ করেন) সাথে সেদিন নাস্তার টেবিলে কথা প্রসঙ্গে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কথা বলাতেই বেশ ক্ষেপে গেলেন মাহমুদুর রহমানকে ফেতরা, তিন টাকার লোক, হাড়ি -পাতিল বানানো লোক বলতে লাগলেন। যতই মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে বললাম ৯০’ দশকের মাঝামাঝিতে উনার লেখা পড়ে উনার সাথে পরিচিত হই, একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী মানুষ।….. শুনতে চাইলেন না সেদিন অবশ্য রাগেরবশে হুমায়ুন কবিরকেও নওফেলের (জমির টেলিকম এর মালিক ব্যারিস্টার নওফেল জমির ) “টেলিফোন অপারেটর” বলতে ছাড়িনি। 

তাছাড়া তার আর একটি জঘন্য অভ্যাস কথায় কথায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে টেনে নিয়ে আসা এবং দলীয় সিনিয়র নেতাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কোন রকম প্রসঙ্গ ছাড়াই বলে উঠবে এই দলের নেতা দুইজন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান এর বাইরে সব গোলামের জাত গোলাম, সেই সুবাদে আমিও তাকে এখন লন্ডনের “গোলামে আযম” ডাকি …..এই রকম কত গোলামের যে আড্ডা এখানে…এ জাতীয় লোক হয়তো মনে করে গোলাম বেচাকেনার জিনিস মুনিবের গোলামের অভাব হয় নাকি….

অসীম ভাই এর মত রাজপথের রাজপুত্র রাজনৈতিক কর্মীরা এ ধরনের অর্বাচীনদের কথায় গা ভাসিয়ে অভিমানে এল,পি,আরে গেলে রাজনীতি যে হারিয়ে যাবে….সেটা কি একবারও ভেবেছেন??

রাজনীতির নাবালক এই অবোধরা নাহয় দলের এই দুর্দিনে কেউ কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার চেষ্টা করবে, কেউবা স্পন্সর পেলে ল’ পড়ে স্ট্যাটাস নেওয়ার চেষ্টা করবে।…. সেটাই তো স্বাভাবিক …কিন্তু রাজপথের অসীম ভাই কেন এল,পি,আরে যাবে ??? এ দল আপনার….. দলকে সঠিক পরামর্শ দিন …..জঞ্জাল দূর করে রাজপথে এগিয়ে চলুন এটা আপনার অধিকার…..দীর্ঘদিনের অর্জিত অধিকার…… বঞ্চিত করে সাধ্য কার?????

আরেকটা কথা- অপরাজেয় বাংলার সামনে রুমমেটের মেহনাজ মান্নানের গাড়িতে হেলান দেওয়া কে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানির মুখে সাত দিন হল এর বাইরে থাকাটা যে কি কষ্টকর ছিল বুঝিয়ে বলা মুশকিল …..তারপরও ভাবি একদিন রান্না করে খাওয়ালে হয়তো কিছুটা পুষিয়ে যাবে ভালো থাকুন।….

(এই ধরেন ঠেলায়,ভাল্লাগে, খুশিতে, ঘোরাঘুরি করতে……)

লেখকঃ ইউকে প্রবাসী আইনজীবী, বার এট ল।

Facebook Comments
SHARE