নিরস্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিজিবির বীরত্ব এবং মাইন ‘সুইপার’ সেনাবাহিনী

269

শাহ আলম ফারুকঃ ভিডিওটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার দেখছিলাম। গুটিকয়েক মানুষজন। একটা ছোটখাটো গ্রাম্য বাজারে তো এরচেয়ে বেশি লোকের সমাগম হয়। ভারতীয় সন্দেহে গরু আটকানো হল। গরুর মালিকরা নিজেদের কাছে মালিকানার স্বপক্ষে কাগজপত্র আছে বলে দাবি করছিল। মালিকদের সাথে এলাকার স্থানীয় কিছু লোকজন কিছুটা হয়তো বিক্ষুব্ধ হয়েছিল। ট্রাকের পেছন দিকে উৎসুক আর ক্ষুব্ধ মিলিয়ে ছডি্য়ে ছিটিয়ে ২০/২৫ জনের মত লোক। একজন সাধারণ আসামী ধরতে গেলেও এর চাইতে বেশি উৎসুক লোকের সমাগম হয়। অনেকে মানবিক কারণে হলেও আসামী ছেডে্ দেবার অনুরোধ করে। সে রকম উত্তেজিত হৈ চৈও নেই। এরমধ্যে ঠা ঠা শব্দ লাগাতার গুলি!

এই গরুগুলো ভারতীয় হলে সে গুলো বর্ডার ক্রস করলে তো তা প্রাথমিকভাবে বিজিবি’র দায়। বাংলাদেশে সাধারণভাবে যা হয়, ইতিমধ্যে মিডিয়াগুলো তাদের নিউজে বিজিবির ভাষ্যে সংঘর্ষের কথা বলেছে। যারা সামান্য উত্তেজনার সূত্র ধরে মানুষ হত্যা করলো তারাই আবার মামলা করেছে। প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অর্থ সাহায্যের কথা বলেছে। তদন্ত কমিটি হয়েছে। এসব তদন্তের ফল সাধারণত: বাহিনী গুলোর ভূমিকার পক্ষেই যায়। চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট কিংবা প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সীমান্ত প্রহরীদের সীমানা লংঘনের বিষয়ে যেখানে বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকার কথা সেখানে দেশের অভ্যন্তরে দেশের নিরীহ গরীব মানুষজনকে বুলেটে হত্যা করা এ কেমন কাজের কথা? বীরত্বের কথা।

এদিকে সৌদির সাথে বাংলাদেশের এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। বিশ্ব জুডে্ সৌদিকে নিয়ে সাম্প্রতিককালে নানা বিতর্ক চলছে। ইয়েমেনে সৌদির আগ্রাসী ভূমিকা, ভিন্ন মতালম্বী সাংবাদিক আদনান খাসোগজীর নৃশংস হত্যাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সৌদির টানাপোডে্ন চলছে। এক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু এখনো দেখা না গেলেও নিকট ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনে একটা ব্যাপক জনমত ও রাজনৈতিক চাপ দিনে দিনে যেভাবে পশ্চিমা রাস্ট্রগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বাণিজ্য ও অন্যান্য সুবিধার কারণে শাসকগোষ্ঠী চাইলেও সৌদির সাথে উষ্ণ বা সহায়তামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে পারবে না। এ অবস্থায় সৌদির সাথে সামরিক চুক্তিতে ইয়েমনের সাথে সীমান্ত এলাকায় মাইন পরিস্কার করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১,৮০০ সৈন্য সৌদি আরবে মোতায়েন করা হবে।

এটা সবার জানা, মাইন পরিস্কার খুবই ঝুকিপূর্ণ কাজ। বলা হচ্ছে এই কাজে আমাদের সেনাবাহিনী অতীতে সুনাম অর্জন করেছে। দক্ষতা থাকলেও একটা বিরোধপূর্ণ যুদ্ধাবস্থায় যেখানে বিরাজমান অবস্থার জন্য যাদের দায়ী করা হয় সেই সৌদিদের পক্ষে আমাদের জওয়ানদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য পাঠানো কি এতই জরুরী? শুধু মাইন পরিস্কারই নয়, কথা উঠেছে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক, বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে নিয়োজিত করার বিষয়ে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক খাতে নিয়োজিত করার প্রস্তাব ও আছে।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী বাহিনীতে আমাদের সেনাবাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রশংসাও পাচ্ছে। কিন্তু তাই বলে সৌদির মত দেশের জন্য জওয়ান ও অন্যান্য দক্ষ সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে আমরা এক সামান্য অর্থ ছাডা্ কি উপার্জন করতে পারবো? আমাদের দেশে তো বড বড প্রকল্পে কাজ হচ্ছে, অনেক যোগ্য চিকিৎসক প্রকৌশলীও দরকার। বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা বিতর্কিত রাস্ট্রের জন্য ভাডা্ খাটতে না পাঠিয়ে নিজের দেশে তাদেরকে কি আমরা কাজে লাগাতে পারি না?

Facebook Comments

Hits: 92

SHARE